ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার পাঁচ বছর
রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি স্বজনদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২০ পিএম আপডেট: ২৭.০৪.২০১৯ ১:২৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার পাঁচ বছর

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার পাঁচ বছর

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এরপর ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে একে একে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ওই সাতজনের লাশ।

র্দীঘ পাঁচ বছরেও বহুল আলোচিত এই সাত খুনের ঘটনার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা জীবদ্দশায় এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে চান। তাদের একটাই দাবি, উচ্চ আদালত যেন দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় কার্যকর করেন। যাতে ভবিষ্যতে কোনও অপরাধী এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করতে না পারে।

২০ মাস আগে উচ্চ আদালাতের হাইকোর্ট বিভাগ এই মামলার রায় দেন। বর্তমানে তা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। উচ্চ আদালতে ৩৫ আসামির মধ্যে র‌্যাব-১১ বরখাস্ত সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৫ জনের যাবজ্জীবন ও বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হাইকোর্টের দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকবে বলে আশা করছেন মামলার বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি।

তিনি দাবি করেন, উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা দ্রুত কার্যকর করা হোক। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু সাতজন মানুষ নয় সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমিসহ সবাই আতঙ্কে আছি, অপেক্ষা করছি কবে এই রায়টি কার্যকর হবে। আশা করছি আসল হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মধ্যে একজন হচ্ছেন নিহত মনিরুজ্জামনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর। তিনি নিহত হওয়ার সময় তার স্ত্রী নুপুর ছিলেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বাবার মৃত্যুর এক মাস পর জন্ম নেওয়া মেয়ে সন্তান রোজার বয়স এখন পাঁচ বছর। রোজা বাবার ছবি দেখেই তাকে ডাকে। মাকে জিজ্ঞাসা করে, বাবা কবে আসবে। কিন্ত অবুঝ শিশুটি জানে না তার বাবা আর কোনও দিন ফিরে আসবে না। এই কথা বলেই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদেন নুপুর বেগম। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে খণ্ডকালীন চাকরি করে সংসার ও মেয়ের পড়াশোনা করাচ্ছি। সংসারে অভাব অনটনে দিন কাটছে।’

নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছরে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন সাত পরিবারের স্বজনরা। স্বজন হারানোর ব্যথায় এখনও কাতর তারা। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কেউ খোঁজ নেয়নি। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নানা ক্ষোভের মধ্য দিয়েও তারা অপেক্ষায় রয়েছেন সাত খুন মামলার রায় কার্যকরের দিনটির জন্য।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এর ৩ দিনপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়জনের লাশ। পরদিন আরও একজনের লাশ ভেসে ওঠে নদীতে। নজরুল ইসলাম ও চন্দন সরকার ছাড়া বাকিরা নিহতরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। এরপর স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করেন।

লাশ উদ্ধারের এক দিন পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। ১১ মে একই থানায় আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলা দুটি একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।

সাত খুনের ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ মামলার রায়ে প্রধান আসামি নূর হোসেন ও সাবেক তিন র্যা ব কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত। পরবর্তীতে আসামিপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালতের রায়ে নূর হোসেন, র্যা বের তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিপক্ষ আবারও এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে এখনও পলাতক আটজন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]