ই-পেপার সোমবার ২৭ মে ২০১৯ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৭ মে ২০১৯

লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি
হুমায়ুন কবির খোকন
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৫.২০১৯ ১১:০৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি

লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি

লাইসেন্স পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ৪ টাওয়ার কোম্পানি। ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও এনিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। যেভাবে কাজ চলছে তাতে আগামী ৬ মাসেও কাজ শুরুর সম্ভাবনা নেই। অভিযোগ উঠেছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের অনিহার কারণে কালক্ষেপণ চলছে। এতে বন্ধ রয়েছে টাওয়ার সেবার সব ধরনের কার্যক্রম। এ অবস্থায় বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন দেশের সাড়ে ১৫ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক। টাওয়ার নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে কল ড্রপসহ নানা বিভ্রাট। দেশের সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের অবস্থা কাহিল। অন্য অপারেটরদের কলেও হচ্ছে নানা ভোগান্তি। গত ৬ থেকে ৮ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার ১৫টি এলাকায় বিটিআরসি কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) পরীক্ষা চালায়। এতে যান্ত্রিকভাবে ৯০ সেকেন্ডের ৩ হাজার ৩০০টি কল করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে গ্রামীণফোনের কল ড্রপ হার ৩.৩৮ শতাংশ, রবির কল ড্রপ ১.৩৫ শতাংশ, বাংলালিংকের ০.৫৮ শতাংশ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের ১.৫৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রামীণফোনে সংযোগের জন্য গড় ১০.১৪ সেকেন্ড সময় লেগেছে। পাশাপাশি রবিতে ৬.১৫ সেকেন্ড, বাংলালিংকে ৭.৬৯ সেকেন্ড ও টেলিটকে ৭.১১ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হয়েছে। ডায়াল করা নম্বরে সংযোগ পাওয়ার জন্য বিটিআরসির আদর্শ অপেক্ষার সময় ৭ সেকেন্ড।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনে একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, গত বছর নভেম্বর মাসে চারটি কোম্পানিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। কিন্তু মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে টাওয়ার কোম্পানিগুলোর নানা ক্ষেত্রে মতৈক্য না হওয়ায় এখনও তা ঝুলে আছে। এ কারণে গ্রাহকরা মোবাইল ফোনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা নিরসনে বিটিআরসিও দুপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। কিন্তু কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগে ২ সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল মোবাইল অপারেটরদের। সেই সময়ও পার হয়ে গেছে। এখন বিটিআরসি এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে একটি গাইডলাইন তৈরি করে দেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অর্থ সংকটে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন অপারেটররা তাদের নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে পারেনি। এ অবস্থায় টাওয়ার বিক্রি থেকে যে অর্থ পাবে তা যদি নতুন টেকনোলজি ও নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ করে তাহলে গ্রাহকরা উপকৃত হতে পারেন।

আইন অনুযায়ী লাইসেন্স দেওয়ার পর দিন থেকেই মোবাইল ফোন অপারেটররা আর টাওয়ার ব্যবসা করতে পারছেন না। তাদের নিজস্ব টাওয়ারগুলোও লাইসেন্স পাওয়া ৪ টাওয়ার কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভাড়া বা বৈধ পন্থায় টাওয়ার সেবা নিতে হবে। কিন্তু বিক্রি দূরের কথা এখন পর্যন্ত টাওয়ারের মূল্য পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিতে পারেনি বিটিআরসি। এ সুযোগে বিদেশি একটি কোম্পানির দখলে চলে গেছে টাওয়ার ব্যবসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

 টেলিযোগাযোগ সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১ বছরের মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। এতে গ্রাহক সেবায় ব্যাঘাতসহ সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমও ভেস্তে যাবে। একইভাবে লাইসেন্স পাওয়ার ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো টাওয়ার কোম্পানি তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাইসেন্স পাওয়া এক অপারেটর বলেন, ইতোমধ্যে তারা গড়ে প্রতিটি কোম্পানি ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করা ইডটকোর এ বিনিয়োগ আরও অনেক বেশি। পুঁজি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে ৩ কোম্পানি। কিন্তু সরকার ও অপারেটরদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন না কেউ। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। অপারেটররা কালক্ষেপণের জন্য বিদ্যমান টাওয়ারের আকাশকুসুম দাম হাঁকাচ্ছে। নানা টালবাহানা করছে।

গত বছর নভেম্বর মাসে চারটি কোম্পানিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। যে চারটি প্রতিষ্ঠান টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো হলো ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিডেট, সামিট পাওয়ার লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। ইডটকো ইতোমধ্যে তাদের অর্ধেক শেয়ার বিক্রি করেছে দিয়েছে ব্যুাকের কাছে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর ফলে মোবাইল টাওয়ার লাইসেন্স রোল আউটের ওপর ভিত্তি করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। এ ছাড়া এক অপারেটর আরেক অপারেটরের কাছে আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না। তবে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে।

লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার সেবা দিতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের জন্য লাইসেন্স ফি ২৫ কোটি টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় বছর থেকে বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে জমা দিতে হবে ১ শতাংশ হারে। লাইসেন্সের মেয়াদকাল ১৫ বছর।

লাইসেন্স প্রদান প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দেশে মোবাইল প্রযুক্তির বিকাশে আরও একটি নতুন মাইলফলক। তিনি বলেন, সরকার লাইসেন্স দিয়েছে কাজেই যে যত টালবাহানা করুক এর বাস্তবায়ন হবে। এনিয়ে কেউ কোনো অনিয়ম করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]