ই-পেপার সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ ৫ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হবে বিশ্বমানের : অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা
পরিচালক, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
হিরা তালুকদার
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯, ১০:৪৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হবে বিশ্বমানের : অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হবে বিশ্বমানের : অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল শিগগিরই একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা। দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সর্বাধুনিক চিকিৎসা উপকরণ, দক্ষ চিকিৎসক ও উন্নত চিকিৎসাসেবাই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশে এবং বিদেশে পরিচিত করে তুলছে। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফার মেয়াদ সম্প্রতি আরও দু’বছর বাড়িয়েছে সরকার। তার ওপরে রাষ্ট্রের এই আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে চান রোগীদের সেবা করে।

এ বিষয়ে ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়াদ আরও দু’বছর বৃদ্ধি করেছেন। এই দু’বছরের মধ্যেই জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে রূপান্তর করতে যা যা দরকার সব আমি করব। ভারতের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালের সঙ্গে আমাদের এমওইউ করা আছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে আমরা ওদের নিয়ে, ওদের টেকনিক্যাল সাহায্য নিয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে শিগগিরই বিশ্বমানে উন্নীত করব।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টেই আন্তর্জাতিক মানের ইকুইপমেন্ট আছে। মাঝেমধ্যে আমি ভেবে পাই না নতুন করে আর কী ইকুইপমেন্ট আনব। আমাদের যেসব প্রফেসর ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রয়েছেন তারা সবাই বিদেশ থেকে ফেলোশিপ ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। এ কারণে আমরা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দিতে পারি। তবে আমাদের ডাটাবেজ কিছুটা দুর্বল। তাই শিগগিরই পুরো ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা হয়ে গেলে তখন রোগীকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। রোগী সোফায় বিশ্রাম নেবে। তাদের একটা সিরিয়াল নম্বর থাকবে। সে অনুযায়ী তাদের ডাক্তার দেখবে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। কোথাও কোনো হয়রানির সম্মুখীন হতে হবে না। থাকবে না রোগীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও। প্রতি রোগীর জন্য একটা ডাটাবেজ থাকবে। একবার ডাক্তার দেখানোর পর সেই রেফারেন্স আমাদের কম্পিউটারে সবসময় থাকবে।

তিনি বলেন, এখানে বর্তমানে জেনারেল আউটডোরে আটটি কক্ষে রোগী দেখা হয়। এর মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি (সিনিয়র সিটিজেন), মুক্তিযোদ্ধা ও অটিস্টিকদের জন্য আলাদা কক্ষ আছে। এখানে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৪ হাজার চোখের ছানি, আড়াই হাজার রেটিনা, সাড়ে ৩ হাজার কর্নিয়া, ২৭শ’ গ্লুকোমা ও শিশু বিভাগে ৫ হাজার রোগী দেখা হয়। এছাড়া ইমার্জেন্সিতে প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে এক্স-রে, রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব, ইসিজি, সিটিস্ক্যান ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। এমআরআই বর্তমানে বন্ধ থাকলেও শিগগিরই তা চালু হবে।

তিনি জানান, হাসপাতালটিতে চক্ষুরোগের চিকিৎসার সাপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট হিসেবে রয়েছে এনেসথেসিয়া, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, মেডিসিন, ইএনটি, ডেন্টাল ও প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট।

দালালদের দৌরাত্ম্য সম্পর্কে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, এক সময় এই হাসপাতালে অনেক দালাল ছিল। কিন্তু আমি এখানে পরিচালক হয়ে আসার পর তা এখন শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এই হাসপাতালে এখন একজন দালালেরও অস্তিত্ব পাবে না কেউ।

রোগী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ডাক্তার ও স্টাফদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের কিছু নার্স ও গার্ড রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ আমি আগেই পেয়েছি। এ বিষয়ে আমি প্রত্যেককে সতর্ক করে দিয়েছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগীরাও অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করে। তাদেরও ধৈর্য ধরে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সেবা দেব। আমি ডাক্তারদের বলেছি, রোগী কটু কথা বললেও রোগীকে কটু কথা শোনানো যাবে না।

তিনি বলেন, আমি যখন প্রথম এখানে যোগদান করি তখন প্রতিদিন আট থেকে নয়শ’ রোগী আসত। এখন প্রায় ষোলো থেকে সতেরোশ’ রোগী প্রতিদিন সেবা নেয়।

তিনি জানান, নতুন ভবনে স্থানান্তরের পর শয্যাসংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে এখানে ২৫০ বেড রয়েছে। তাৎক্ষণিক চোখের চিকিৎসায় চালু করা হয়েছে জরুরি বিভাগ। এখানে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখা হয়। হাসপাতালটির বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য ১০ টাকা দিয়ে একটি টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। দরিদ্র রোগীর জন্য সবকিছু ফ্রি। সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের টেস্টের জন্য ফি দিতে হয় না।

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আলাদা নয়টি বিভাগ। এগুলো হচ্ছে ক্যাটার‌্যাক্ট, কর্নিয়া, গ্লুকোমা, রেটিনা, অকুলোপ্লাস্টিক, পেডিয়াট্রিক অপথোর্মোলজি, নিউরো অপথোর্মোলজি, কমিউনিটি অপথোর্মোলজি ও লো-ভিশন। রয়েছে ১৪টি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। দক্ষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আছে।

দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের হাসপাতালে কোনো ডাক্তার বা কোনো স্টাফকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। সে যে-ই হোক না কেন। এই হাসপাতালের মালিক জনগণ। আর জনগণকে সেবা দেব আমরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]