ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজশাহীতে আমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা
শ.ম সাজু রাজশাহী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.০৫.২০১৯ ১:২৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে আমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

রাজশাহীতে আমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তাপদাহ। তাপমাত্রা বিরাজ করছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। কখনও কখনও তা ছুঁয়ে ফেলছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পারদ। বৈশাখ মাসজুড়েই এ অবস্থা বিরাজ করায় খাঁ-খাঁ রোদে পুড়ছে এখানকার প্রকৃতি। বৈরী এই আবহাওয়ার পাশাপাশি ঝড় ও শুরুতে কয়েকদফা শিলাবৃষ্টির কারণে গাছ থেকে আপনা আপনি ঝরে পড়ছে বাড়ন্ত আম। উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়ে রয়েছে চাষিরা। তাদের মতে, গত বছরের চেয়ে এবার আমের উৎপাদন কম হবে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, বাড়তি ফলন না হলেও আমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক জানান, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গাছে গাছে এখনও পর্যাপ্ত আম আছে বলে মনে করেন তিনি। আগামী ১৫ মে থেকে গুটি জাতের আম দিয়ে রাজশাহীর আমের বাজারজাত শুরু হবে।

রাজশাহী নগরীর শেখপাড়া এলাকায় প্রায় ৭০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত একটি আমবাগানের একাংশ তদারকি করেন মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, এবার ভালো জাতের গাছে ফল খুব কম। দুশো গাছে প্রতিবছর ১২শ’-১৩শ’ মণ আম হয়। গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া জাতের বেশিরভাগ গাছে এবার তেমন একটা ফল হয়নি।

একই এলাকার আম চাষি আবদুল জব্বার জানান, এ বছর আমে মুকুল আসার সময় বৃষ্টি হয়েছে। এবার শীত তো ছিলই না, বরং বৃষ্টিতে সব কুয়াশা কেটে গেছে। ফল যখন গুঁটি থেকে বড় হয়েছে, তখন ঝড়-বাদল আর শিলাবৃষ্টিতে একের পর এক আম গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। ফলে এ বছর আমের কাক্সিক্ষত ফলন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে গত ১২ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ সভায় ১৫ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৫ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া শুরু হবে।

রাজশাহীতে সাধারণত সবার আগে পাকে গুঁটিজাতের আম। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে থেকে এই আম নামাতে পারবে চাষিরা। আর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানীপছন্দ ২৫ মে, ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা নামানো যাবে ২৬ মে থেকে। এ ছাড়া ল্যাংড়া আম ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন থেকে নামানো যাবে। আর সবার শেষে ১৭ জুলাই থেকে নামানো যাবে আশ্বিনী জাতের আম। জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের জানান, জনবল না থাকায় এবার আম নামানোর ক্ষেত্রে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় ৭০ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমি থেকে আম উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ টন।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]