ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশসেরা : অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী
উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
এবিএস ফরহাদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯, ৫:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 979

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশসেরা : অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশসেরা : অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শালবন বিহার ময়নামতীর কূলঘেঁষে দেশের ২৬তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ঐতিহ্য ও ইতিহাসের লীলাভ‚মি কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।

নবীন হওয়ায় নানা সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী নতুনভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার ভাবনা কী? তিনি জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হবে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়।

চলতি সালের ৩১ জানুয়ারি এক বছর পূর্ণ করেন উপাচার্য। গত বছরে তিনি কী কী সমস্যা দেখেছেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে তার পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে খুব বেশি ধারণা ছিল না। তবে গত এক বছরে অনেক সমস্যা চিহ্নিত করেছি, এখন সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে বিশ^বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়নে ১৬৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সব সুযোগ-সুবিধা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, নিঃসন্দেহে বলতে হবে ‘না’। অনেক সমস্যা রয়েছে আমাদের। এ সমস্যা নিরসনে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে আমাদের। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচার পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে রাজনৈতিক বিভক্তির রাজনীতি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা ও সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে, তবে সেটি আমাদের তৈরি করে নিতে হবে। এটি অনেক সম্ভাবনাময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এখানে সবাই সব সুযোগ পাচ্ছে না বলে প্রকাশ করতে পারছে না।

১৬৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, এ যাবৎকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। এই প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমি কাজ করব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে। ইতোমধ্যে আমরা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করেছি আমরা। এই ক্যাম্পাসে সুদৃশ্য একটি গেট, চত্বর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, মুক্তমুঞ্চ হবে প্রকল্পের অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শুরু হবে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণার কেমন সম্ভাবনা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কুমিল্লার এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করার প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। তবে দেশ-বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেভাবে হচ্ছে না। এখন অনেক শিক্ষক বিদেশে যাচ্ছেন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে। আমাদের নতুন প্রকল্পে গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) সঙ্গে বেশকিছু চুক্তি করেছি, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণার জন্য চুক্তি করার চেষ্টা চলছে।

আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারে সরকারি ভর্তুকি নেই কেন জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু ভর্তুকি দেয় সরকার। এ ছাড়া সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য যে খরচ করে সেটাও তো সরকারি ভর্তুকি। একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার মাসে প্রায় ৭০-৭৭ হাজার টাকা খরচ করে। মাসে ১৪ টাকা বেতন দিয়ে পৃথিবীর আর কোনো দেশে পড়তে পারা যায়?




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]