ই-পেপার  বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯ ২ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯

রমজানে বাৎসরিক ছুটি নিয়ে ইবাদতে সময় কাটান জর্ডানের  অনেক চাকরিজীবী
মুহাম্মদ শুয়াইব
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

জর্ডানের মুসলিমরা রমজান মাসের খাদ্য ও সাজসজ্জা কিনতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তারা রমজানের আগে থেকেই বরাদ্দ করে রাখে। রমজানে জর্ডানের বাজারগুলো ঘুরলেই তাদের সাজসজ্জা ও খাবারের প্রতি কী পরিমাণ আসক্ত তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই মাসে সারাদিনই ভিড় পড়ে থাকে। খেজুর, কফি, মসলা, বাদাম, নারিকেল, নানা রকমের ফল এবং আরবি কফি মূলত পরিবারগুলোর প্রধান আগ্রহের বিষয়।
রমজান মাসে জর্ডানবাসীর কর্মঘণ্টা কমে আসে। সরকারি ডিউটি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় রমজানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সরকারি নির্দেশনা জারি করা হয়। অধিকাংশ সরকারি কর্মচারীরা বাৎসরিক ছুটি রমজানে গ্রহণ করে থাকে। দিনে ডিউটি না থাকায় তারা সারারাত ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকে। সাহরির পর তারা জোহর পর্যন্ত ঘুমায়।  আল আরাবি আল জাদিদের সঙ্গে আলাপকালে মুনা আল খাতিব বলেন, রমজানে আমাদের জীবন পুরোই পাল্টে যায়। রমজানের দিন রাতে আর রাত দিনে পরিবর্তিত হয়ে যায়।  
জর্ডানে পবিত্র রমজানের ইফতারিতে যে খাবারগুলো বেশি খাওয়া হয় তার অন্যতম হলোÑ আরবি রুটি। রুটির পরই খাবারের চাহিদায় রয়েছে শাবাকিয়া নামের বিশেষ জাতের পিঠা। তৈলাক্ত খাবারের পরিবর্তে আরবি রুটি সবার বেশ পছন্দের। সংবাদ সংস্থা আনাদুলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ কোটি ৮০ লাখ রুটি এ রমজানের প্রথম সপ্তাহেই খেয়েছে জর্ডানের রোজাদাররা।
পবিত্র রমজান মাসে জর্ডানের রোজাদারদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বেশ কিছু পণ্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এ রুটি তার অন্যতম। তবে প্রতিবছরই এসব ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর অসৎ প্রবণতা এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যায়। যদিও কর্তৃপক্ষ রমজান শুরুর বেশ আগে থেকেই রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং, প্রচুর পরিমাণে ভোগ্যপণ্য আমদানি এবং প্রয়োজনীয় পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা এসবের অন্যতম।
প্রতি রমজানেই সে দেশে আরবি রুটির চাহিদা বাড়ে। কর্তৃপক্ষ এ বর্ধিত চাহিদার কথা বিবেচনা করে রুটি তৈরির জন্য গম ও আটা প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে মজুদ করে রাখে। এবারের রমজানে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাজারে রুটিসহ নিত্যপণ্যের মজুদের কোনো অভাব নেই। এরপরও যদি কোনো অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে দেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বেকারি মালিকদের মুখপাত্র আবদুল ইলাহ আল হামাভি বলেন, রমজানের প্রথম ৩ দিন রুটি ভোক্তাদের গড় চাহিদা ছিল দৈনিক ৮০ লাখ। এটি হচ্ছে, দৈনিক স্বাভাবিক গড় চাহিদা। চতুর্থ দিন আসার সঙ্গে সঙ্গে তা ২৫ শতাংশ কমে পরিণত হয়েছে ৬০ লাখে। হামাভি বলেন, আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় রুটিসহ আটাজাত পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এতে চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
হামাভি আরও বলেন, জর্ডানের স্বাভাবিক দিনগুলোয় দৈনিক ২ হাজার টন আটা লাগে। প্রতি টন আটা দ্বারা তৈরি হয় ৫ হাজার ১২০টি রুটি। দেশটির বাৎসরিক আটার খরচ হয় ৭২০ হাজার টন আটা।
খাবারের প্রতি জর্ডানবাসীর বিশেষ আকর্ষণ থাকার কারণে সারা মাস তারা খাবার তৈরির কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকে, পুরুষদের তুলনায় তাদের ইবাদত-বন্দেগি খুবই কম হয়। আর তাই তারা রমজানের শেষ দশক কোনো রান্নাবান্না করে না। এই দশক সবাই হোটেলের ওপর নির্ভর করে। আর এই সুযোগে হোটেলগুলোয় এই দশকের ব্যবসার রমরমা অবস্থা থাকে।
(আল আরব ও আল আরাবি আল জাদিদ অবলম্বনে)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]