ই-পেপার  বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯ ২ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯

রমজানে দানের অফুরন্ত সওয়াব
ওমর শাহ
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান আমলের বসন্তকাল। এ মাসে যেকোনো আমলেরই রয়েছে অফুরন্ত সওয়াব। এ মাসের অন্যতম আমল দান-সদকা। গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কারণ রোজা ফরজ করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। আর এ কল্যাণ তখনই অর্জিত হবে যখন রোজাদার দানের হাত প্রসারিত করবে।
আমাদের দেশে রমজানে গরিব-দুঃখীরা পথে ঘাটে মসজিদে পাড়ায় ভিড় জমিয়ে থাকেন। ধনীদের দিকে বুকভরা আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। ধনীদের উচিত তাদের দুঃখ মুছনে এগিয়ে আসা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।’ (বুখারি : ১৪২৭)। আর মাহে রমজানে দানের ফজিলত অনেক বেশি। এ জন্য অন্য ১১ মাসের তুলনায় এ মাসে অধিক দান-সদকা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজানে যখন হজরত জিবরাইল (আ.) তার কাছে নিয়মিত আসতেন এবং কোরআন পড়ে শোনাতেন, তখন তার দানশীলতা আরও বেড়ে যেত। আনাস (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.)-এর চেয়ে বেশি দানশীল আমি আর কাউকে দেখিনি।’ (মুসলিম)
রাসুল (সা.) তার উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন রমজান মাসে দান ও বদান্যতার হাত সম্প্রসারিত করতে। হাদিসে রমজান মাসকে হামদর্দি বা ‘সহানুভ‚তির মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রমজানের রোজা ফরজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট অনুভব করা। যারা প্রাচুর্যের মাঝে জীবনযাপন করেন তারা সারা বছর ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা না বুঝলেও রমজানে কিছুটা বোঝেন। এই বুঝা তখনই স্বার্থক হবে যখন তারা গরিব-অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। রমজান মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি নফল কাজের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন। সে হিসাবে রমজানে এক টাকা দান করে ৭০ টাকা দানের সওয়াব লাভ করা সম্ভব।
এ জন্য প্রত্যেক রোজাদারের উচিত নিজের সাধ্য অনুযায়ী অনাথ, আর্ত, সহায়-সম্বলহীন ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমার পথে ব্যয় করো, নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর তোমরা মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : ১৯৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা মানব সন্তানকে লক্ষ করে বলেন, তুমি দান করো, তাহলে তোমার জন্য (আল্লাহর পক্ষ থেকে) দান করা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছেÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দানকারী আল্লাহর নিকটতম, বেহেশতের নিকটতম এবং মানুষের নিকটতম হয়ে থাকে। আর দূরে থাকে জাহান্নাম থেকে। অপরদিকে কৃপণ ব্যক্তি দূরে অবস্থান করে আল্লাহ থেকে, বেহেশত থেকে এবং মানুষের কাছ থেকে। আর কাছাকাছি থাকে জাহান্নামের। অবশ্যই একজন জ্ঞানহীন দাতা একজন কৃপণ ইবাদতকারীর তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়’ (তিরমিজি)। দান করলে গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে, ‘দান-সদকা গুনাহকে মিটিয়ে ফেলে যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে।’ (বোখারি : ৫১৩৬)
আমাদের সমাজে এমন অনেক অসহায়-নিঃস্ব লোক আছে, যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খায়। বছরের অন্য সময় কোনোরকম চলে গেলেও রমজানে তাদের দুর্ভোগ ও দুর্দশা বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। রমজানে গরিবের প্রতি সহানুভ‚তি দেখানোর অনেক সুযোগ ও উপলক্ষ ইসলাম করে দিয়েছে। জাকাত, সদকা ও সাধারণ দানের বাইরেও তাদের ইফতার করানো একটি বড় ফজিলতের কাজ। গরিব হোক ধনী হোক, যেকোনো রোজাদারকে ইফতার করালে সওয়াব রয়েছে। তাই পবিত্র রমজানে প্রত্যেকের উচিত সাধ্যমতো গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]