ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯

প্রশাসনের নজরধারির অভাবকে দুষলেন স্থানীয়রা
লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০১৯, ৫:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমাণ্য করে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি ধরার মহোৎসব। এতে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এতে করে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। আর এজন্য সরকারি নজরধারীর অভাবকেই দুষলেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এক শ্রেনীর অসাধু মৎস্যজীবীরা প্রকাশ্যে গলদা চিংড়ি পোনা আহরণ ও বিক্রি করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা প্রশাসন।

লক্ষ্মীপুর সদরের বুড়ির ঘাট এলাকা থেকে কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, সাহেবের হাট, লুধুয়া ঘাট ও রামগতি উপজেলার চরগজারিয়াসহ মেঘনার নদীর বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে নির্বাচারে ধরা হচ্ছে গলদা চিংড়ি পোনা। এ পোনা অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় তা ধরতে যে জাল ব্যবহার করা হয় তাতে ধ্বংস হয় বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনাও। এ জন্য ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি পোনা আহরণ নিষিব্ধ করে সরকার। তবে সে নিষেধাজ্ঞা মানছে না এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

তবে পোনা শিকারিদের অভিযোগ, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এবং সরকারি সাহায্য না পাওয়ায় অনেকটাই পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এই পেশা বেচে নিয়েছেন তারা।
লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় অবাধে চলছে গলদা চিংড়ি পোনা ধরার মহোৎসব


মতিরহাট এলাকায় রেনু পোনা শিকারের সঙ্গে জড়িত জাফর, মিল্লাত, আক্তার ও জসিমসহ আরো অনেকে জানান, অভাবের তাড়নায় জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা এসব পোনা শিকার করছেন। প্রতিদিন এক একজন জেলে ১ থেকে দেড় হাজার পোনা শিকার করছেন। এদিকে জেলেদের অভিযোগ গেল বছর প্রতিটি চিংড়ি পোনা স্থানীয় বাজারে ২ থেকে আড়াই টাকা দরে বিক্রি করলেও এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা দরে। এ জন্য মহাজনদের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করলে তারা।  

স্থানীয়রা জানান, মহাজনরা অগ্রিম ঋণ দিয়ে এসব জেলেদের পোনা শিকারে অতিউৎসাহী করে তুলেছেন। অর্থের লোভ দেখিয়ে প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা শিশু কিশোরদেরও ব্যবহার করছে এ কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যোগশাযোশে মতিরহাট এলাকার আক্তার তালুকদার, হুমায়ন মোল্লা, কামাল ও ফারুকসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র জেলেদেরে দাদন দিয়ে অবাধে এসব মাছের পোনা নিধন করছেন। এতে করে বিলুপ্ত হতে চলেছে বিভিন্ন প্রজাতের মাছের পোনা। স্থানীয়রা আরো জানান, এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মাছ শূন্য হয়ে নদী গুলো।

এদিকে, অবাধে গলদা পোনা ধরার কথা স্বীকার করে, লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যাহ বলেন, এক শ্রেনীর অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীদের কারণে নদী থেকে পোনা ধরা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। পোনা আহরণ বন্ধে প্রয়োজনে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

রেনু পোনা রক্ষায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান করা গেলে নদী ও সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন যেমনি বাড়বে, তেমনি গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি, এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]