ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আসছে নতুন অর্থবছরে উন্নয়নে বরাদ্দ ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: রোববার, ১৯ মে, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

আসছে নতুন অর্থবছরে উন্নয়নে বরাদ্দ ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকা

আসছে নতুন অর্থবছরে উন্নয়নে বরাদ্দ ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকা

নতুন অর্থবছর ২০১৯-২০ একেবারে দ্বারপ্রান্তে। পুরো অর্থবছরের উন্নয়নের জন্য সরকার কি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখছে, কমবেশি সবার কৌত‚হল রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য যে প্রকল্প থাকে সেই প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হচ্ছে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ নিয়ে কৌতূহল থেকেই যায়। প্রতিবছরের মতো এবারেও পরিকল্পনা কমিশন উন্নয়নের কর্মসূচি নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে। এই নীতিমালায় ৭টি বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মসূচিতে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তি, প্রকল্পভিত্তিক অর্থ প্রদানের নীতিমালার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো।

এখন প্রশ্ন আসন্ন নতুন অর্থবছরে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সারা বছরের জন্য কত টাকা বরাদ্দ থাকছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বরাদ্দের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির অপেক্ষা ২৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধন করা এডিপির তুলনায় ৩৫ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বেশি। তা হলে কত হতে পারে আসন্ন এডিপির আকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ থাকছে ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। তবে এ বরাদ্দের অনুমোদনের জন্য আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা হতে যাচ্ছে। যে সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সভা থেকে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়তেও পারে, আবার কমতেও পারে। সাধারণত প্রস্তাবিত বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। কারণ এর আগে পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিকল্পনামন্ত্রী কমিশনের বর্ধিত সভায় বিভিন্ন বিষয় আলোচনা সাপেক্ষে এনইসি’র কাছে সুপারিশ করে থাকে। আর এনইসি’র চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। গত মে বর্ধিত সভায় খাত ওয়ারি যে বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করে তা এনইসিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ২১ কোটি টাকার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রার পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য হচ্ছে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। একই সঙ্গে ১০টি খাতও রয়েছে। স্থানীয় সরকার সর্বোচ্চ বরাদ্দের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। যার বরাদ্দের পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এরপরই রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। যার বরাদ্দের পরিমাণ হচ্ছে ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এভাবে পর্যায়ক্রমে সড়ক পরিবহন ও সড়ক বিভাগের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পানি সম্পদ একেবারে ১০ এর ঘরে রয়েছে। যার বরাদ্দের পরিমাণ ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাতের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তাই পদ্মা সেতুসহ পদ্মা রেল সংযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। আর সেই বিবেচনা অনুযায়ী এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল এডিপির ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে। অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়নের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। শিক্ষার প্রসার আর গুণগত মান বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে আর বেশি করে কর্মসংস্থানের সৃষ্টির জন্য এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নদীভাঙন রোধ করাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। কৃষি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

জানা গেছে, নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পের সংখ্যা মোট ১ হাজার ৪৭৫টি। তবে এর সঙ্গে আরও যোগ হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের প্রকল্প, যার সংখ্যা ৮৯টি। অর্থাৎ তাহলে প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ৫৬৪টি। বিভিন্ন সেক্টর বিভাগের মাধ্যমে পাওয়া সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্পের সংখ্যা ৬২টি। বরাদ্দ নেই, অনুমোদনও নেই এই ধরনের নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সংখ্যা ২৪২টি। বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যাবে এই সুবিধা বিবেচনায় এনে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পরিকল্পনা কমিশনের। ডিপিপিতে অনুমোদন পাওয়া ৩০ জুনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এই ধরনের প্রকল্প নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সংখ্যা ২৭২টি।

চলতি অর্থবছরে শেষ করার জন্য নির্ধারিত ছিল কিন্তু এরপরও নতুন করে বরাদ্দসহ ৫৮টি প্রকল্প নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য এর মধ্যে ৯টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো কিংবা সংশোধন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ৪৯ প্রকল্পের মধ্যে ৩৭টি প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। শুধু তাই নয়, এসব প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তাই এসব প্রকল্পের জন্য নতুন অর্থবছরে প্রতীকী হিসেবে ১ লাখ টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ১২টি প্রকল্পের ব্যাপারে এনইসি সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ এসব প্রকল্প উল্লেখযোগ্য কাজ অবশিষ্ট না থাকার ফলে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এডিপিতে তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ যে নীতিমালা তার মধ্যে সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুধু অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দসহ এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আদেশ জারি ছাড়া কোনো প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এডিপিতে চলমান প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পনা শৃঙ্খলা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বার্থে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত তালিকাভুক্ত শেষ করার জন্য নির্বাচিত কোনো প্রকল্প নতুন অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব করা যাবে না।

এদিকে নতুন অর্থবছরের এডিপিতে নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিশেষ করে আয় বৈষম্য কমানোর জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা। বিশেষ করে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইসিটি উন্নয়ন, শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি, নগর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ জ্বালানি উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, জেন্ডার সমতা, পরিবশগত টেকসই, ঝুঁকি সচেতনতা ইত্যাদি। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক সুষম উন্নয়নের জন্য এডিপিতে নেওয়া প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া নিশ্চিত করা। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]