ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯

মাগফিরাতের মাহাত্ম্য
রমজানে নবীজির দান সদকা
মাওলানা মাহফুজুল হক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ মে, ২০১৯, ১০:২৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

রমজানে নবীজির দান সদকা

রমজানে নবীজির দান সদকা

চলছে ক্ষমা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস পবিত্র রমজান। ইতোমধ্যে রমজানের তিন ভাগের এক ভাগ অতিক্রম হয়েছে। আমরা হাজারো চেষ্টা করে, হাজারো আফসোস করেও রমজানের সে অতিবাহিত দিনগুলো আর ফিরে পাব না। এ জন্য আমাদের উচিত মাহে রমজানের প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণকে কাজে লাগানো। নেক আমল দ্বারা ভরপুর করে ফেলতে পারি যেন আমাদের জীবন সে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

মাহে রমজানে রাসুল (সা.) এর আমলগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রমজান এলে রাসুল (সা.) এর দানের মাত্রা বেড়ে যেত। হজরত আবদুুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত, এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রমজান এলে রাসুল (সা.) দানের হাতকে আরও বেশি প্রসারিত করে দিতেন।’ আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এর দানের হাত এতটা প্রসারিত ছিল যে, সকাল বেলা যদি ওহুদ পরিমাণ সম্পদও রাসুল (সা.) এর কাছে রাখা হয়, আমার মনে হয়, মাগরিব আসার আগেই তিনি সব দান করে শেষ করে ফেলবেন। (বুখারি ও মুসলিম)

‘সদকা’ এর অর্থ ব্যাপক। অর্থ দিয়েও সদকা করা যেতে পারে। আবার কারও সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললে কিংবা কাউকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিয়েও সদকা করার অংশীদার হওয়া যায়। যেমন একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও একটি সদকা।’ (মুসলিম ও তিরমিজি)।

পবিত্র কোরআনের প্রায় জায়গায় সালাত শব্দের পরেই জাকাত শব্দ এসেছে। যেমন একটি আয়াত ‘আর তোমরা নামাজ কায়েম কর ও জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য তোমরা যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করবে তাই তোমরা আল্লাহর নিকট পাবে।’ (সুরা বাকারা : ১১০)

আমাদের জীবনের পুরো ব্যবস্থাকে আল্লাহ তায়ালা ইবাদতের আওতাধীন রেখেছেন। যেমন সালাত ও রোজা শারীরিক ইবাদত। জাকাত হচ্ছে সম্পদের ইবাদত। আমরা যেন জীবন ব্যবস্থার পুরোটা দিয়েই আল্লাহর ইবাদত করতে পারি, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। মানুষের সম্পদে অসহায় মানুষের হক রয়েছে উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তাদের (ধনীদের) অর্থ-সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সুরা জারিআত : ১৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তুমি তাদের সম্পদ হতে সাদকা অর্থাৎ জাকাত গ্রহণ কর। যা দ্বারা তুমি তাদের পবিত্র করবে।’ (সুরা তাওবা : ১০৩)

যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের ফজিলত কোরআনে একটি উপমার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা স্বীয় ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা হলো যেমন একটি শস্য বীজ, তা হতে উৎপন্ন হলো সাতটি শীষ, প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হলো) শত শস্য এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে করেন বর্ধিত করে দেন, বস্তুত আল্লাহ হচ্ছেন বিপুল দাতা, মহাজ্ঞানী।’ (সুরা বাকারা : ২৬১)

রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি নফল কাজের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন। সে হিসাবে রমজানে ১ টাকা দান করে ৭০ টাকা দানের সওয়াব লাভ করা সম্ভব। তাই আমাদের উচিত রমজানে দান-সদকার নেকিতে নিজের জীবনকে ভরপুর করতে নিজের সাধ্য অনুযায়ী অনাথ, আর্ত, অসহায় ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দান-সদকা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]