ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইফতারে অপচয় না করি
মুফতি ড. কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯, ১২:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ইফতারে অপচয় না করি

ইফতারে অপচয় না করি

রমজান মাস বরকতময় একটি মাস। সারাদিন পানাহার থেকে সূর্যাস্তের পর রোজাদারদের ইফতার বিশেষ আনন্দের ব্যাপার। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তটি খুব আনন্দের সময়। কেউ আনন্দ পায় ইফতার তৈরি করে, কেউ মিলেমিশে ইফতার করে, কেউ আনন্দ পায় অন্যকে ইফতার করিয়ে।

ইফতারের সময় সামনে হরেক রকমের রুচিসম্পন্ন খাবার থাকা সত্ত্বেও মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ মান্য করার জন্য অপেক্ষা করা হয় কখন আজান হবে। কেউবা আনন্দের মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুই হাত তুলে প্রভুর দরবারে ক্ষমা চায় সব পাপ কর্মের। গুনাহ মাপ চায় মৃত পিতা-মাতার জন্য। পরিবারের সবাই যেন সুস্থ থাকে সেই প্রার্থনাও করে ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে রোজা কবুলের জন্য। অনেকেই মিডিয়ার সামনে বসে রমজান বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান দেখেন। এ সময়ের প্রতিটি কাজেই থাকে এক ধরনের আনন্দের ছাপ। যখন আজান দেয় তখন ছোট-বড় সবাই দোয়া পড়ে আনন্দের সঙ্গে ইফতার করে। বোখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে উল্লেখ রয়েছে রাসুল (সা.) বলেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে ১. ইফতারের সময়; ২. আখেরাতে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।

ইফতার শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা বা ভেঙে ফেলা। আমিমুল ইহসান (রহ.) বলেন, রোজাদারের জন্য ইফতার হলো তার পানাহার করা। শরীয়তের পরিভাষায় সারাদিন রোজা পালন শেষে সূর্যাস্ত হওয়ার পর পর পানি, শরবত, খেজুরসহ প্রয়োজনীয় খাবারের মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করাকে ইফতার বলা হয়। ইফতার করা সুন্নত। ইফতারে দেরি করা মাকরুহ। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার দরুণ সূর্যাস্ত বুঝতে অসুবিধা হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিলম্ব করা যেতে পারে। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ইফতারির সময় হয়ে যায়। তাই সূর্য ডোবার পর দেরি না করে তাড়াতাড়ি ইফতার শুরু করা মোস্তাহাব। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যতদিন মুসলমানরা তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের সঙ্গে থাকবে’। (বুখারি : পৃষ্ঠা ১৮৫৬)

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে সে যেন খেজুর দিয়ে করে, কেননা তা বরকতময়। যদি খেজুর না থাকে তবে পানি দিয়ে, কেননা তা পবিত্র।’ (আবু দাউদ : পৃষ্ঠা ২৩৫৬)

রোজাদার বিভিন্ন রকমের খাদ্য পানীয় দ্বারা ইফতার করে থাকে। অনেকে অতিরিক্ত খাবার নিয়ে অপচয় করে থাকে। কিছু অংশ খেয়ে ফেলে দেওয়া হয় মূল্যবান ইফতার সামগ্রী। আসলে এমনটি উচিত নয়। আমাকে লক্ষ রাখতে হবে ইফতারে কোনো খাবার যেন অপচয় না হয়। কেননা অপচয় করা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। অপচয় না করে বাসার পাশে গরিবদের দিয়ে দেওয়াই শ্রেয়। নিজে দামি ইফতার করে আনন্দের চেয়ে গরিব অসহায় সবাইকে নিয়ে সামান্য ইফতারিতে আনন্দটাই বড়।

তাই আসুন, নিজে ইফতার করি এবং সেই সঙ্গে গরিব-অসহায়দের ইফতারি করাতে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াই। আর ইফতার শেষে আনন্দের সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের রোজা, ইফতার, সাহরিসহ রমজানের সব ইবাদত কবুল করুক। আমিন।

লেখক : অধ্যক্ষ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]