ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাগফিরাতের মাহাত্ম্য
ইচ্ছা থাকলেই রোজা রাখা সম্ভব
মুফতি মোহাম্মদ আলী
প্রকাশ: বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ১১:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ইচ্ছা থাকলেই রোজা রাখা সম্ভব

ইচ্ছা থাকলেই রোজা রাখা সম্ভব

মাহে রমজানের রোজাকে প্রত্যেক জ্ঞানসম্পন্ন বালেগ নারী-পুরুষ সবার ওপর ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মোমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা-২ বাকারা: আয়াত- ১৮৩)

রোজা রাখলে আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাসহ যে অঢেল ফজিলত রেখেছেন, তেমনি রোজা যারা রাখবে না, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার নিকট দুই ব্যক্তি আগমন করল। তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এল। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের ওপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দেব। আমি ওপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছলাম, হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম, এসব কিসের আওয়াজ? তারা বললেন, এটা জাহান্নামিদের আর্তনাদ। তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বললেন, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোজা ভেঙে ফেলে।’ (ইবনে খুযাইমা : ১৯৮৬; ইবনে হিববান: ৭৪৪৮)

কেউ যদি কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভাঙে বা না রাখে তাহলে তার পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, এতে আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্নিত হন। শাস্তি কি হবে, এটা বলা হয়নি। ক্রোধান্নিত হয়ে আল্লাহ তায়ালা যা ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারেন। কারও ওপর আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্নিত, এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে!

আল্লাহর রাসুল (সা.) এও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া এ মাসে (রমজান) একটি রোজা ছেড়ে দেবে, সে যদি এর বদলে সারা জীবনও সিয়াম পালন করে তবু তার পাপের খেসারত হবে না।’ (বুখারি)

রোজা এমন জিনিস নয় যে, তা একজন সুস্থ ব্যক্তির পক্ষে রাখা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেন না। সে যা ভালো কাজ করেছে তার ফল পাবে এবং যা খারাপ করেছে তা তার বিরুদ্ধে যাবে।’ (সুরা বাকারা : ২৮৬)

সমাজে এমন অনেক মেহনতি মানুষ আছেন, যারা রিকশা চালান, ক্ষেতে বদলি দেন, কায়িক শ্রম দেন, তারাও তো রোজা রাখছেন। মূলত বিষয়টা হলো ইচ্ছার ওপর নির্ভর। যে যেভাবে ইচ্ছা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সেভাবে রাখেন। অন্যান্য দিনে দু-তিন বেলা না খেয়ে থাকাটা কষ্টকর হলেও রোজা রাখাতে আল্লাহ তায়ালা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন, তারা একটি দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই যদি না খেয়ে থাকতে পারেন, তাহলে অন্যান্য দেশের মানুষ, যেখানে বারো-চৌদ্দ ঘণ্টা দিন থাকে, তারা ফিনল্যান্ডের অধিবাসীদের তুলনায় এ সামান্য কয়েক ঘণ্টার রোজা রাখতে পারবে না কেন! তাই তো রোজা রাখার জন্য আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখা চাই; যেন সহজেই আমি রোজা রাখতে পারি। তাহলে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে সহযোগিতা করবেন।

লেখক : শাইখুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ইদারাতুল উলুম আফতাবনগর, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]