ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯

আড়তগুলোতে প্রতিদিন কোটি টাকার লিচু বিক্রি
চলনবিলের লিচু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে
তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ১১:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

চলনবিলের লিচু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে

চলনবিলের লিচু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে

জমে উঠেছে চলনবিলের বিভিন্ন হাটবাজারের স্থায়ী ও অস্থায়ী লিচুর আড়ত। এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি দাম পেয়ে কৃষকও খুশি। বিশেষ করে মোজাফ্ফরপুরী জাতের লিচু ফলনে বাজিমাত করেছে।

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর বটতলা, মামুদপুর, নাজিরপুর, মশিন্দা, তাড়াশের ধামাইচহাটসহ এলাকার ১৩-১৫টি লিচুর আড়তে চলছে পুরোদমে খুচরা ও পাইকারি দরে লিচু বেচাকেনা। ফলে আড়তগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে।

মূলত চলনবিল অঞ্চলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে লিচু ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়েছে, যা চলবে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম সিংড়া, পাবনার চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চলতি বছর ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান, শুধু নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫১০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। আর এই উপজেলাতে পাঁচ হাজার টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বুধবার বিভিন্ন লিচুর আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, আকার, রঙ ও মানভেদে এক হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকায়। তবে পরিপক্ক লিচু পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক সপ্তাহ।

চলনবিলের লিচু ব্যবসায়ী আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স মোল্লা ফল ভান্ডারের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম, কাছিকাটা, তাড়াশ এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে লিচুর পাইকারি ও খুচরা আড়ত। এ আড়তগুলোতে চলনবিলের বিশেষ করে গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের লিচু চাষিদের উৎপাদিত লিচু কিনতেই মহাজনরা ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় লিচু চাষি আবুল কাশেম, বোরহান মন্ডলসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চলনবিলের উৎপাদিত লিচুর মধ্যে মোজাফ্ফরপুরী, বোম্বাই, চায়না-৩ আগাম ও অপেক্ষাকৃত সুস্বাদু হওয়ায় কিনতে ভিড় জমে আড়তে। প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, হবিগঞ্জসহ অভ্যন্তরীণ অনেক জেলা থেকে পাইকাররা ট্রাক ভরে এ আড়ত থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান।

আড়তদার সমিতির ওই সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতিদিন ৭৫-৮৫ ট্রাক লিচু চলনবিলের বিভিন্ন আড়ত থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শহরের ফল বাজারে।

ঢাকার লিচু ক্রেতা মহাজন মো. আরব আলী শেখ বলেন, প্রতি ট্রাকে গড়ে দুই লাখ লিচু থাকে। প্রতিটি লিচুর গড় দাম দুই টাকা হিসাবে ৭০-৮০ ট্রাকে প্রতিদিন গড়ে তিন কোটি টাকার বেশি লিচু বিক্রি হয়ে থাকে চলনবিলের এ সব আড়ত থেকে।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রামের লিচু চাষি জিল্লুর রহমান জানান, এ বছর খরার কারণে লিচুর গায়ের রঙ জ্বলে গেছে। তবে আকার-আকৃতি ভালো হয়েছে। এখানকার লিচু রসালো, মিষ্টি ও স্বাদে অতুলনীয়। তিনি প্রায় সাড়ে বিঘা জমির ওপরে বাগান করেছেন। তার বাগানের লিচুর এবছর বাম্পার ফলন হয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, চলনবিলে ধানের আবাদের জন্য বিখ্যাত হলেও একযুগে লিচুর আবাদও প্রসারিত হচ্ছে। এখানে লিচুগাছ অল্প সময়ের মধ্যেই বড় হওয়ার পাশাপাশি ফলনও ভালো হওয়ায় কৃষকও উৎসাহিত হয়ে উঠছেন লিচু চাষে। তিনি জানান, ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় চলনবিলাঞ্চলে প্রতি বছরই লিচুর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]