ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা
প্রকাশ: রোববার, ২৬ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.০৫.২০১৯ ১:১৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা

মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর। এই মহান মর্যাদাময় রাত্রিতেই বিশ্ব মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তির সনদ ও সর্বযুগের সর্বজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার অপরিবর্তনীয় বিধান গ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল করা হয়েছিল। ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফারসি, উর্দু, বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি ‘শবে কদর’ নামেই সমধিক পরিচিত। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী; ‘কদর’ শব্দটি আরবি, অর্থ হলো মহিমা, সম্মান ও মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। ‘শবে কদর’ অর্থ মর্যাদার রাত্রি, ভাগ্য রজনী। শবে কদরের আরবি হলো ‘লাইলাতুল কদর’ তথা সম্মানিত রাত্রি।
এ রাতেই রাসুল (সা.)-এর ওপর সর্বপ্রথম কোরআন অবতীর্ণ হয়ছে। কোরআনের ছোঁয়ায় এ রাত মহিমাময় ও মর্যাদামÐিত হয়েছে। এ রাতের মর্যাদা এত বেশি যে, ‘কদর’ নামে কোরআনে স্বতন্ত্র একটি সুরা রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কদরের রাতে কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা কদর : ১)

হজরত আয়শা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রামজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করবে।’ (মেশকাত : ১৯৮৩)। রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো হচ্ছেÑ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ।

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা অপরিসীম। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা কদর : ৩)। এ রাতে হজরত জিবরিল (আ.) এবং ফেরেশতাগণ জমিনে নেমে আসেন শান্তির বার্তা নিয়ে। হাদিসে এসেছে, ‘কদরের রাতে জিবরিল (আ.) ফেরেশতাদের দল নিয়ে দুনিয়াতে অবতরণ করেন এবং আল্লাহর এমন বান্দাদের জন্য দোয়া করেন যারা দাঁড়িয়ে বা বসে আল্লাহর জিকির করতে থাকেন।’ (মেশকাত : ১৯৯৫)। আরো বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে জেগে ইবাদত বন্দেগি করবে তার ইতোপূর্বের সব ছোট গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি : ১৮০২; মুসলিম : ৭৬০)। কোরআনে এসেছে, ‘হা-মিম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয় আমি এক বরকতময় রজনীতে কোরআন অবতীর্ণ করেছি। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা দুখান : ১-৪)

শবে কদরে কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলিল মাসজিদ, আউওয়াবিন, তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল ইবাদত বেশি বেশি করা। মহিমাময় এ রাতকে পাওয়ার আশায় রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত ইতেকাফ করতেন এবং তার পর তার স্ত্রীগণ ইতেকাফ করতেন।’ (মেশকাত : ১৯৯৬)

গ্রন্থনা : ইমরান চৌধুরী






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]