ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এমপিওভুক্ত হচ্ছে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০১৯ ১০:১২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

এমপিওভুক্ত হচ্ছে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এমপিওভুক্ত হচ্ছে দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৯ বছর বন্ধ থাকার পর দরজা খুলছে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির। এমপিওভুক্তির শিক্ষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বছর আগে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিল সরকার। দুই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আসন্ন বাজেটে ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ স্কুল ও কলেজ এবং বাকি ৫০০টি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মাধ্যমে এমপিওর জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য এই অর্থ আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ করা হবে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণকে সরকার সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এ বিবেচনায় এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বরাদ্দ রাখা হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকার নতুন এমপিওর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু সংসদ নির্বাচন এবং সরকারের নানা হিসাব-নিকাশে ওই তহবিল আর ব্যবহার করা হয়নি। এই তহবিলও যুক্ত করা হবে। 

বর্তমানে মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখের বেশি শিক্ষক এবং ২৬ হাজার ৩৪০ কর্মচারী এমপিও সুবিধা ভোগ করে থাকেন। অন্যদিকে দেশের ৫ হাজার ২২২টি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮০ হাজার শিক্ষক প্রায় এক যুগ ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই শিক্ষা দান করছেন। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সবকিছু ঠিকঠাক। প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই নতুন এমপিভুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি সংসদীয় আসনে সর্বনিম্ন ৩টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। এর বাইরে বিশেষ ও অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে আরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে।

২০১০ সালে সর্বশেষ ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এর পর থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ; অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালনও করেছেন তারা। এতে নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ভীষণ কষ্টে দিন কাটছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে অন্তত ২৫ বার আন্দোলন হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস মিললেও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। যখনই হোক না কেন আগামী জুলাই মাস থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির সুবিধা পাবেন। 

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৯ হাজার ৪৯৮টি আবেদন এমপিওভুক্তির জন্য জমা পড়ে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ করেছে ২ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ১ হাজার ২০০, মাদ্রাসা ৫০০ এবং ৩৫০টি রয়েছে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শিক্ষক অসন্তোষের আশঙ্কায় এমপিওভুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনের আগে সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদ পড়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষের ঝুঁকি নেয়নি সরকার। তাই ঝুলে যায় এমপিওভুক্তি।
এমপিও নীতিমালা ২০১৮’র আলোকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। 

এমপিও নীতিমালায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ও অবসরের বয়স নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মেধাক্রম/ মনোনয়ন/ নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইনডেক্স নম্বর বা নিবন্ধন সনদ ছাড়া কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে শুধু একটি তৃতীয় বিভাগ/ সমমান গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষকদের নিয়োগে বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নীতিমালায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ১০০ নম্বরের গ্রেডিং করে একাডেমিক স্বীকৃতি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হারের ওপর নম্বর বণ্টন করা হয়েছে। 

এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশনকারী নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের অধ্যক্ষ মাহমুদন্নবী ডলার বলেন, এমপিওভুক্তির সরকারের ন্যায্য দাবি মেনে নেবে সরকার। 

তিনি বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই এমপিওর আওতায় নেওয়ার দাবি আমাদের। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে করা যেতে পারে। তবে সবগুলোকে একসঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে। বেতন ধাপে ধাপে দেওয়া হোক। ১৭-১৮ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন। 

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে রয়েছে সরকার। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে ঘোষণা যখনই হোক জুলাই মাসে এটি কার্যকর হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]