ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ ৫ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক শুরু
মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০১৯ ১২:৪০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক শুরু

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দশক শুরু

রহমতের পর মাগফিরাতের দিনগুলোও শেষ হয়ে গেল। আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশক। এ দশককে বলা হয় ইতকুম মিনান্নার তথা নাজাতের দশক। এ ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) শাবান মাসের শেষ দিন আমাদের মাঝে খতিব হিসেবে দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘মাহে রমজান এমন একটি মাস যার প্রথম ভাগ রহমত, মধ্যবর্তী ভাগ মাগফিরাত আর শেষ ভাগে জাহান্নাম থেকে মুক্তি (নাজাত) দেওয়া হয়।’ (ইবনে খুজাইমা : ৩/১৯১)
বিভিন্ন ইবাদতের কারণে রমজানের এই শেষ দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই দশকেই রয়েছে ইতেকাফ এবং লাইলাতুল কদরের মতো মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। তাই সার্বিক বিবেচনায় এই শেষ দশকটি অপরিসীম গুরুত্ববহ ও ফজিলত-বৈশিষ্ট্যমÐিত। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই দশকে ইতেকাফ করেছেন, করেছেন তার সাহাবায়ে কেরামও। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) প্রতি রমজানে শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি ২০ দিন ইতেকাফ করেছেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইন্তেকালের আগের বছর অসুস্থতার কারণে ইতেকাফ না করতে পারায় ইন্তেকালের বছর কাজাসহ একত্রে ২০ দিন এতেকাফ করেছিলেন তিনি।
রমজানের শেষ দশকে পাপিদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় শুধু এতটুকুই এই দশকটির গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। উপরন্তু এই দশকের পাঁচটি বেজোড় রাতের কোনো একটিতে অবশ্যই লাইলাতুল কদর নামের একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস থেকেও শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি এটি (কোরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তোমাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল কদর’ কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সূরা কদর : ১-৩)। আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করলেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (মেশকাত : ১৯৮৩)
মাহে রমজানের প্রতিটা দিন, প্রতিটা ক্ষণকে রাসুল (সা.) গুরুত্ব দিতেন। তবে সর্বদিক বিবেচনায় রমজানের শেষ দশককে রাসুল (সা.) অত্যাধিক গুরুত্ব দিতেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুল (সা.) তার কোমর শক্ত করে বেঁধে নিতেন। এই সময়ের রাতগুলো জেগে থাকতেন এবং পরিবারের সবাইকে সজাগ করতেন।’ (বুখারি : ১৮৮২)। অতএব, আমরাও রমজানের এই দশকে বেশি বেশি ইবাদত করে নিজের জন্য এবং অপরের জন্য আল্লাহর কাছে নাজাত চাইতে হবে। তবেই পাওয়া যাবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে কবুল করুক। আমিন।
লেখক : প্রিন্সিপাল, জামিয়া হুসাইনিয়া আরজাবাদ, মিরপুর, ঢাকা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]