ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাফীর জন্য ভালোবাসা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ভিডিও ধারণের সত্যতা মিলেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল আলোচিত ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীর শ্লীলতাহানির বক্তব্য সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি (সাময়িক বরখাস্তকৃত) মোয়াজ্জেম হোসেন তার নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে স্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন তিনি। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

রোববার পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে রাফীর শ্লীলতাহানির বক্তব্য ভিডিও ধারণের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পায়নি পিবিআই। ওসি মোয়াজ্জেম পিবিআইয়ের কাছে দাবি করেছেন, তিনি নিজেই তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার পর সজল নামে এক ব্যক্তির কাছে দিয়েছিলেন। তার মাধ্যমেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াতে পারে। পিবিআই প্রধান বলেন, তদন্তে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাকে জেরা করা হয়। মামলার এজাহারের অভিযোগগুলো আংশিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় পিটিশন মামলাটি করা হয়। আদালতে মামলাটি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালত অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। তদন্তে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়াসহ অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। সেই তদন্তের তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন রোববার আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী রাফীকে মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার শ্রেণিকক্ষে ডেকেনিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় উঠলে এমন অবস্থার মাঝেই ৬ এপ্রিল সকালে রাফী ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে মাদ্রাসার সাইক্লোন সেন্টারের ভবনের ছাদে নিয়ে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফী অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। চারদিন পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত জাহান রাফী। দেশজুড়ে চাঞ্চল্যেও সৃষ্টি করা এই রাফী হত্যাকাÐে জড়িত এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ২১ জন গ্রেফতার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। অধ্যক্ষ সিরাজ, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ গ্রেফতারকৃত ১২ জন রাফী হত্যাকাÐে বিভিন্নভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]