ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ ৫ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯

কারচুপির অভিযোগ মমতার
‘সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জন করতে হবে’
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০১৯ ১২:২১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কারচুপির অভিযোগ মমতার

কারচুপির অভিযোগ মমতার

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবার দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বলেন, ভোটে বিজেপি যা টাকা খরচ করেছে, তা যেকোনো কেলেঙ্কারিকে হার মানাবে। আর এতে প্রধান সহযোগী ছিল নির্বাচন কমিশন । এনডিটিভি, পিটিআই।
ইভিএম নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার ধারণা একটা প্রোগ্রামিং করা ছিল। ভোটের আগে থেকেই আমার কাছে খবর আসছিল; কিন্তু আমি কী করব? ইভিএম তো ভেঙে দিতে পারি না। যেখানে যেখানে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল হেরেছে, সেখানে আমরা হেরেছি বলে মনে করি না। ওখানেই প্রোগ্রাম সেটিং হয়েছে। সে কারণে দেখুন না বিজেপি এক লাখ ভোটের বেশি ব্যবধানে কয়টা আসনে জিতেছে? আমার দৃঢ়বিশ্বাস, এতে বাইরের হাত রয়েছে। দেশের স্বার্থে সেটা বললাম না।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি টাকা ঢোকানোর জন্যই বারবার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদল করেছে। তা ছাড়া প্রশাসন এবং কমিশন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে, কমিশন কিছুই বলেনি। আমাদের কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন পদক্ষেপ নেয়নি।
পশ্চিমবঙ্গে ২২টি আসনে জিতেছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির কাছে আসন খুইয়েছে অনেক। গতবার বিজেপি যেখানে দুটি আসন পেয়েছিল এবার পেয়েছে ১৮টি। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে ভোট জয়ের চেষ্টা করেছে বিজেপি। আর গোটা বিষয়টিতে সাহায্য করেছে নির্বাচন কমিশন।
 সাধারণ জনগণের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য একটু বেশিই কাজ করে ফেলেছি। এত কাজ করা হয়তো উচিত হয়নি। মানুষ ২ টাকা কেজিতে চাল পেয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী সবই পেয়েছে। তারপরও কেউ খুশি নয়। ইশতেহারের সব প্রতিশ্রæতিই পূরণ করা হয়েছে। তারা (বিজেপি) তো কিছুই করেনি। তাই এবার না হয় দলীয় কাজেই বেশি মন দেব।
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দলের প্রত্যেকের কাছে পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। কিন্তু তারা সবাই আমাকে চায়। আমার চেয়ারের প্রয়োজন নেই। তবে একটা শর্তে আমি কাজ চালিয়ে যাব। যদি সবাই একক শক্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে।’ আগামী ৩১ মে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি ফের বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।


৩০ মে মোদির শপথ

‘এখন সবার বিশ্বাসই আমাদের মন্ত্র’

ভারতে আগামী ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ টুইটারে এ ঘোষণা দেন। এদিকে বিশাল জয়ে ফের ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বেশ নরম সুরে কথা বলেছেন মোদি। রোববার নবনির্বাচিত লোকসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বৈঠককালে সংখ্যালঘুরা প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লোকসভা নির্বাচনে জনমত স্পষ্ট হওয়ার পর মোদির আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া একরকম নির্ধারিতই ছিল। শুধু কবে তিনি শপথ নিচ্ছেন সেই দিনক্ষণ ঘোষণার বাকি কাজটুকু রোববার স্পষ্ট করল রাষ্ট্রপতি ভবন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই দিন কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
মোদি এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে নতুন মুখ নিয়ে আসার পক্ষপাতী দুজনই। তাই ৩০ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে একাধিক বাঙালিকে শপথ নিতে দেখা যেতে পারে। এবার লোকসভায় ৩৫২ আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) নবনির্বাচিত লোকসভা সদস্যদের প্রথম বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে এক ভাষণে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বেশ নমনীয় সুরে কথা বলেছেন মোদি। এমনিতেই সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে মোদির বক্তব্যে ছিল অনেক নতুন উপাদান। ২০১৪ সালের ভাষণে তিনি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে একটি শব্দও ব্যয় করেননি। কিন্তু এবার বিপুল গণরায় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্বগ্রহণের আগে মোদি বললেন, দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতারিত করা হয়েছে ভোটব্যাংকের রাজনীতি করে। আমি এ ভেদাভেদ চাই না। আমি তাদের হারানো বিশ^াস ফিরে পেতে চাই। বিরোধী দলগুলো সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এ প্রতারণা করেছে এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সবার সঙ্গে থাকার জন্য আমরা কাজ করেছি, সবার বিকাশের জন্য কাজ করেছি, এখন সবার বিশ^াস অর্জনই আমাদের মন্ত্র হবে। ভারতীয় পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলের ওই বৈঠকে মোদি বলেন, যেভাবে গরিবদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, একইভাবে সংখ্যালঘুদের সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে। এবার তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে ভালো হবে।
মোদি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর বিরোধীদের এ ছলচাতুরিতে গর্ত তৈরি করার জন্য আপনারা আঘাত করবেন বলে আমি আশা করছি। তাদের বিশ^াস অর্জন করতে হবে আমাদের। এনডিএ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচন দেয়াল ভেঙে ফেলে প্রাণে প্রাণ মিলাতে সাহায্য করেছে।
মোদির ভাষণের আগে তাকে এনডিএ জোটের নেতা নির্বাচিত করা হয়। এ সময় পার্লামেন্ট হলে উপস্থিত নেতারা করতালি দিয়ে, টেবিল চাপড়িয়ে ও ‘মোদি, মোদি’ ¯েøাগান তুলে তাকে স্বাগত জানান।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]