ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ ৫ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯

রেলের ঈদ টিকেট
অনলাইনে ভোগান্তির শেষ ছিল না চতুর্থ দিনেও
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রীসেবা বাড়ানো ও ভোগান্তি কমাতে এবার ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের মোট টিকেটের ৫০ শতাংশ ই-টিকেটিংয়ের জন্য রাখা হয়। কিন্তু রেলের ওয়েবসাইট ও নতুন তৈরি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে টিকেট কাটার চেষ্টা করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। ঈদের আগাম টিকেট বিক্রির চতুর্থ দিন রোববারও অনলাইনে ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কিনতে না পারার অভিযোগ করেন অনেকে। বাধ্য হয়ে তাদের ছুটতে হয় কমলাপুর স্টেশনসহ বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টারে। ফলে দ্বিগুণ ভোগান্তির শিকার হন টিকেট প্রত্যাশীরা।
রোববার কমলাপুর স্টেশনে একাধিক যাত্রী জানান, মোবাইল অ্যাপে কিনতে ব্যর্থ হয়ে তারা কমলাপুর এসেছেন। তারা অনেক চেষ্টা করেও মোবাইল অ্যাপে ঢুকতেই পারেননি। সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, সকাল থেকে অনলাইনে এবং অ্যাপে চেষ্টা করেছি। রেলওয়ের ওয়েবসাইটে তাও ঢোকা যায় কিন্তু অ্যাপে ঢুকতেই পারি না। অ্যাপ ডাউনলোড করেও আবার ডিলিট করে দিয়েছি। পরে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি।
একই অভিযোগ করেন মুগদার বাসিন্দা সোহেল মাহবুব। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল বলেন, অগ্রিম টিকেট বিক্রির প্রথম দুই দিন তিনি মোবাইলের অ্যাপে টিকেট কেনার চেষ্টা করে বিফল হয়েছেন। রেলওয়ের অনলাইন টিকেট সেবা দিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিএন‌এসবিডি। রোববার দেওয়া হচ্ছে ৪ জুনের টিকেট। ঢাকার স্টেশন থেকে অনলাইনে বরাদ্দ আছে ১০ হাজার ৫৬১টি টিকেট। এর মধ্যে দুপুর একটা ২০ মিনিট পর্যন্ত ছয় হাজার ৫৭৩টি টিকেট বিক্রি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে সিএন‌এসবিডি। তবে কমলাপুর স্টেশনের মনিটরে প্রদর্শিত সিএনএসবিডির এ তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন টিকেট কিনতে আসা যাত্রীরা। তারা বলেন, দেখানও হচ্ছে কয়েক হাজার টিকেট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এই টিকেট পেল কারা? অনেকেই বার বার চেষ্টা করেছে অ্যাপসে টিকেট কেনার। কেউ পায়নি।
ঈদের পর ই-টিকেটিংয়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, সিএনএসবিডি আমাদের বলেছে এক সঙ্গে প্রায় চার লাখ লোক অনলাইনে টিকেট কিনতে চায়। এ কারণে সবাইকে টিকেট দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঈদের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখব। তাদের যুক্তি সঠিক প্রমাণ না হলে আমরা অন্য চিন্তা করব।
অন্যদিকে রোববার শেষ দিনে ময়মনসিংহ ও জামালপুরের ৪ জুনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে তেজগাঁও স্টেশনে। তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। টিকেট প্রত্যাশীদের চাপ বেশি থাকায় স্টেশনের বাইরে গিয়ে ঠেকে টিকেট প্রত্যাশীদের সারি। অন্যদিকে টিকেট পাওয়ার আশায় অনেকে শনিবার রাত থেকে স্টেশনে অবস্থান করেন। তাদের একজন আশকারুল ইসলাম রিফাত। তিনি শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে দাঁড়িয়ে রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ৪টি টিকেট হাতে পেয়েছেন।
রিফাত বলেন, ‘আম্মু, মামা-মামি আর আমার নিজের জন্য ৪টি টিকেট কেটেছি। সবার সঙ্গে ঈদ করব বলে এত কষ্ট করে টিকেট কাটা।’ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২২ মে থেকে চলছে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি। ২২ মে বিক্রি করা হয় ৩১ মের টিকেট। ২৬ মে বিক্রি হয়েছে ৪ জুনের টিকেট।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]