ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাংবাদিক ফাগুনের মৃত্যু
ফোন-ল্যাপটপ উদ্ধার হয়নি মাথা-গলায় আঘাতের চিহ্ন
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের মৃত্যুতে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ফাগুনকে উদ্ধারের দিন কেন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলো না, কেন থানা পুলিশ তার পরিচয় খুঁজে বের না করে ১২ ঘণ্টার মাথায় তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টা করল, কেন ওসি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। এদিকে ফাগুনের মৃত্যুর ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি তার ব্যবহৃত মোবাইল অ্যান্ড্রয়েট সেটটি, ল্যাপটপ, সঙ্গে থাকা ব্যাগ এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রিয় ডটকমের পরিচয়পত্র। এখনও কাউকেই শনাক্ত, আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। এদিকে ২৫ মে তার বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা বাদী হয়ে জামালপুর জিআরপি থানায় আসামি দুষ্কৃতকারী উল্লেখ একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে তার ছেলেকে পূর্বশত্রæতার জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ফাগুনকে উদ্ধারের দিন ৯৯৯-এ ফোন করে কে বা কারা রেললাইনের ধারে একজন মৃত মানুষ পড়ে আছে বলে খবর দিলো? কিন্তু সেই ব্যক্তিটি কে ছিল তা এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়াও ওসির বক্তব্যে নানা গরমিল। ওসি কোনো গণমাধ্যমকে বলছেন ১০টায় আবার অন্য কাউকে বলেছেন ফাগুনকে ওই রাতে ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাকে উদ্ধারের সময় এলাকাবাসী ফাগুনের মাথায় পানি ঢেলেছিল অথচ এ কথাটি তিনি তার মৃত্যুর পরও কাউকেই বলেনি। এমনকি তার পরিবারকেও না। সর্বশেষ জার্মানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাতে জানিয়েছেন সে বিষয়টি। প্রশ্ন হলো, কেন ওসি এই সত্যটি তার মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টায় প্রকাশ করেননি। তাহলে কি ফাগুনের হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে? ফাগুনের মাথায় যদি এলাকাবাসী পানি ঢেলে থাকে তবে প্রত্যক্ষদর্শী ছিল কারা? তাদের কেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? এদিকে একটি সূত্র বলছে, ফাগুনকে ঘটনার দিন ট্রেন থেকে নামানো হয়েছিল। সেদিন তাকে কারা ট্রেন থামিয়ে সেই জায়গায় নামাল? কে বা কারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তার মৃত্যুর খবরটি দিলো?
ফাগুন অনলাইন পোর্টাল প্রিয়ডটকমের সহ-সম্পাদক ছিলেন। চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তার নতুন চাকরিতে যোগদানের কথা ছিল। সেজন্য ফাগুন গত ২১ মে ঢাকায় এসে আরেকটি মিডিয়ায় ভাইভা দেন। এরপর তিনি সেদিন রাতেই শেরপুরের বাড়ির উদ্দেশে ট্রেনযোগে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যে সেদিন রাত ১১টার দিকে নান্দিনা এলাকার মধ্যপাড়া নামক স্থানে রেললাইনের ধার থেকে তকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ফাগুনকে দাফনের একদিন পর ইউডি মামলা করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। সেই মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পাঁচ-ছয় মাস আগে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রের মাথায় ইট পড়ে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়। মাসখানেক পর ফাগুন প্রিয়ডটকমে থাকাবস্থায় সেই আলোচিত ঘটনার একটি ফলোআপ প্রতিবেদন করেছিলেন। তাতে একটি পক্ষ তারা তাকে প্রথমে টাকার প্রস্তাব দেয়। এরপর ফাগুনকে ম্যানেজ করতে না পেরে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল। বিষয়টি তার অফিসে জানিয়েছিল সে।
ফাগুনের বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা সময়ের আলোকে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটি দিবালোকের মতো সত্য। চিকিৎসকও বলেছে, ওর গলা ও মাথায় আঘাত ছিল। ফাগুনকে তোর আর পাব না, আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ফাগুন মামলার বিষয়টি দেখছে জিআরপি থানা পুলিশ। তদন্তের বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবে।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি তাপস চন্দ্র পÐিত সময়ের আলোকে জানান, আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর এলাকাবাসী ফাগুনকে টক খাইয়েছিল ও মাথায় পানি ঢেলেছিল। আবার এক যাত্রী জানিয়েছিল ফাগুন ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। পুলিশ খবর পাওয়ার আধা ঘণ্টা পর ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করেছিল। আর ফাগুন রেললাইনের ধারে পড়েছিল সেটি ওই গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকার এক যুবক ট্রিপল নাইনে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিল। ওসি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। আমরা ফাগুনের মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাচ্ছি। যা যা দরকার সবই করছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]