ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
নেছার ইউ আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমার গবেষণা জনস্বাস্থ্য বিষয়ক, বিশেষ করে ক্যানসারের ক্ষেত্রে কাজ করি। সম্প্রতি ক্যানসার চিকিৎসার অংশ হিসেবে ‘রোজা’কে বিবেচনা করার প্রস্তাব নিয়ে একটা সংবাদ আমার ই-মেইলে পাই। অবাক হলাম, ক্যানসার চিকিৎসায় রোজা? গবেষক নিশ্চয়ই মুসলিম। রমজানের মাত্র ক’দিন আগে তিনি এ খবর ছড়িয়ে নাম কুড়াতে চাইছেন? অপ্রত্যাশিত জিনিস ঘটলে, আমরা আরও অবিশ্বাস্য হয়ে উঠি। সঙ্গে সঙ্গেই চুলচেরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে মন ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ভাবলাম, অল্প ক’জন রোগী নিয়ে এবং একটা দুর্বল পদ্ধতির ফলাফল নিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন এক নতুন গবেষক।
যিনি গবেষণাটি করেছেন, তিনি অধ্যাপক ভল্টর লংগো। সাউথার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লংজিভিটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক। জৈব রসায়নে পিএইচডি, প্যাথলজিতে উন্নততর আধুনিক প্রশিক্ষণ নেওয়া, নিউরোবায়োলজি এবং জেনেটিক্সে পোস্ট ডক্টরেট। তার এতগুলো সম্পর্কীয় শাখায় অতুলনীয় পাÐিত্য। তিনি এ বিষয়ে সামগ্রিক গবেষণায় বিশাল দক্ষতার অধিকারী। নিউজ আপডেটটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ইনস্টিটিউট স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণা কর্তৃপক্ষ থেকে আমার কাছে আসে। এনআইএইচ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণায় বিশ্বের অথরিটি হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
কেমোথেরাপি ক্যানসার চিকিৎসায় একটা বড় ধাপ। উচ্চ শক্তিমানের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এই চিকিৎসা। এই বিষাক্ত পদার্থ ক্যানসার কোষ হত্যা করে। অন্যদিকে, এটা যেমনি শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে। তেমনি অনেক গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগীদের চুলও পড়ে যায়। গবেষণার প্রথম পর্যবেক্ষণটা ছিল, কেমোথেরাপিতে যারা প্রাকৃতিকভাবে উপবাস ছিল (না খাওয়া বা খেতে অক্ষম) রোগীদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো ও দ্রæত আরোগ্য লাভ এবং দেহে বিষাক্ততা কম বা স্বল্প সময়কালীন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল। কী আশ্চর্য! অসুস্থতায় না খেয়ে দুর্বল হবার কথা আর তার উল্টো স্বাস্থ্যে ভালো হয়ে গেল? এ প্রি-থিওরি গঠনের জন্য প্রচলিত বিজ্ঞতা বা বর্তমান জ্ঞান যেন কোনোটিই কাজে আসল না। এটা গোলকধাঁধা। এ ধাঁধাই গবেষণার সৌন্দর্য ও আকর্ষণ।
তারপর আরও নিশ্চিত হবার জন‍্য গবেষকরা রোগীর ওপর সরাসরি পরীকক্ষা চালান। কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের থেকে লটারি নির্বাচিত করে এক গ্রæপ রোজা রাখল আর অন্য গ্রæপ রোজা রাখল না। ফলাফল রোজা/উপবাস গ্রæপে উল্লেখযোগ্যভাবে সুস্থতার ভালো ফলাফল পাওয়া গেল। এখন প্রশ্ন হলো, ভেতরে কী ঘটল, কোন প্রক্রিয়ায়, কীভাবে এই ফলাফল সম্ভব হলো? যখন শরীরের ভেতরে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখতে হয়, তখন পশুদের ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। পশুদের কেটে বা বিভিন্নভাবে তা দেখা হয়। যা মানুষ ওপর করা সম্ভব না। ইঁদুরের ওপর ঠিক একইভাবে একই গবেষণা চালানো হলো। না খেতে দেওয়া ইঁদুরগুলোর সঞ্জীবনী সুইচ পরিবর্তন হলো, তাতে হেমাটোপোয়েটিক স্টেম কোষগুলোর আদেশ সিগন্যাল পায় এবং নতুন রক্ত এবং সতেজ প্রতিরক্ষা অনেক কোষের সৃষ্টি করে। রোজা, ইমিয়ন সিস্টেমের দুর্বল এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষ অপসারণ করে নতুন প্রতিরক্ষা কোষের সৃষ্টি করে শক্তিশালী ইমিয়ন সিস্টেম তৈরি এবং সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে। রোজা/উপবাস দেহ থেকে প্রথমে চিনি প্রায় ফুরিয়ে ফেলে। ক্যানসার কোষ বাঁচার জন্য ও দ্রæত বৃদ্ধির জন্য দরকার যথেষ্ট পরিমাণ চিনি, যা আসে প্রধানত চিনি, ভাত, রুটি, মিষ্টি, কার্বোহাইড্রেট -শর্করা জাতীয় খাবার থেকে। পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি না পেয়ে বিক্ষুব্ধ অতি ক্ষুধার্ত ক্যানসার কোষরা আত্মহত্যা করে। সারা দিনের রোজা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল সাদা রক্ত কোষ সংখ্যা কমিয়ে ফেলে। ইফতারের পরে আবার নতুন কোষের স্টেম সেল পুনর্জন্ম দেয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রোজা দেহের ক্ষতিকারক পিকেএ এনজাইম কমিয়ে দেয়। যার ফলে বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ক্যানসার কোষের হ্রাস পায়। কেমোথেরাপিতে রোজার সম্পূর্ণ উপকারিতা পেতে হলে কেমোথেরাপির ৩ দিন আগে থেকে, কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা করে রোজা রাখতে হবে।
রোজা স্বাস্থ্যের উপকারিতার শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি গড়ে উঠছে এবং তাই উপবাস গুরুতর রোগের জন্য একটি চিকিৎসা হতে পারে। অনাহারকে রোজার সঙ্গে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। রোজা জ্ঞানেন্দ্রিয় সম্বন্ধীয় খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া। আধ্যাত্মিক বা ঐশ্বরিক আদেশের কারণে উপবাস করা। এতে আধ্যাত্মিক ও মানসিক উপলব্ধি এবং তৃপ্তি সাধন ঘটে। অন্যদিকে অভাবে অনাহারে নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না বরং মানসিক অতৃপ্তিতে
দেহ অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় ব্যঘাত ঘটে।

প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
এপিডিমিওলজি ও বাইওস্তাটিস্টিক্স ডিপার্টমেন্ট, ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মায়ামি, ইউএসএ





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]