ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোজা ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা
আমিন ইকবাল
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৭.০৫.২০১৯ ১২:৩৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা

রোজা ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা

রমজানের রোজা পালনে লৌকিকতার অবকাশ নেই। ত্রিশ দিন উপোস থাকার মধ্যে লোক দেখানোর ভাব আসে না। কেবল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই অভুক্ত থাকেন মোমিন-মুসলিমগণ। ফলে রোজার মধ্যে ইখলাস, আন্তরিকতা বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা নির্ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আল্লাহপাক বলেন, ‘রোজাদার আমার জন্যই পানাহার ও সহবাস পরিহার করে।’ (মুসলিম : ২৭৬৩)
রোজা ধৈর্যশীলদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। শুধু আল্লাহর ভয়েই তারা পানাহার থেকে বিরত থাকে। না হলে পৃথিবীর কোনো শক্তি এমন আছে, যা তাকে গোপনে একঢোক পানি পান করা থেকে বিরত রাখতে পারে? রোজাদার পিপাসায় কাতর হয়, অজুর জন্য মুখে পানি নেয়, কিন্তু একটু পানি গলার নিচে নামতে দেয় না। ইফতার সামনে নিয়ে বসে থাকে, সময় হওয়ার আগে ঘ্রাণও নিতে চায় না, কার ভয়ে? কার ভালোবাসায়? একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ভয়ে, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায়। নির্জন স্থানে কেউ দেখছে না, কিন্তু আল্লাহ দেখছেন। কেউ জানছে না, কিন্তু আল্লাহ জানছেন। স্বাধীন মানুষ তার খাবারের স্বাধীনতা ভোগ করছে না, তার যৌন চাহিদা মেটানোর স্বাধীনতা ভোগ করছে নাÑ এটি রোজাদারের নৈতিক ও তাকওয়ার শক্তি। রোজাদারের এই যে বোধ, এই যে চেতনা, এটা অন্য কোনো ইবাদতে দেখা যায় না। এর জন্য রোজাদারকে ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হয়। ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আর এজন্যই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত।’ (বায়হাকি)
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছেÑ ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৪)। ধৈর্য না থাকার কারণে মানুষ অনাকাক্সিক্ষত বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় কারণে-অকারণে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রোজা রেখে যেন ধৈর্যের বাঁধ না ভাঙে, সে জন্য নবী করিম (সা.) আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যখন তোমাদের কেউ রোজা থাকে, সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের মতো কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার।’
(বোখারি : ১৯০৪; মুসলিম : ১১৫১)
ধৈর্যধারণ মানব চরিত্রের উত্তম গুণাবলির অন্যতম। পবিত্র কোরআনে স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ নিজেকে ধৈর্যশীল ও পরম সহিষ্ণু হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তো সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল।’ (সুরা হজ : ৫৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আমি তো তাকে পেলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।’ (সুরা ছোয়াদ : ৪৪)।
ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর : ১-৩)। এই সুরার শেষে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যকে সাফল্যের নিয়ামক রূপে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং সুসম্পর্ক তৈরি করো, আল্লাহকে
ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আলে ইমরান : ২০০)।
ধৈর্যধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত। কারণ, আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণকারীর সঙ্গে থাকেন; আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যার সঙ্গে থাকবেন তার সফলতা অবধারিত। কোরআনে তিনি
বলেন, ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : ১৫৩)

লেখক : আলেম ও প্রাবন্ধিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]