ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯

আজকের তারাবি ২২
পঠিতব্য আয়াতের বিষয়বস্তু
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ২২তম তারাবিতে সুরা হামিম সাজদার ৬ষ্ঠ রুকু ( আয়াত ৪৭-৫৪) পর্যন্ত, সুরা শুরার ১ম রুকু থেকে ৫ম রুকু (আয়াত ১-৫৩) পর্যন্ত, সুরা জুখরুফের ১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ১-৮৯) পর্যন্ত, সুরা দুখানের ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৫৯) পর্যন্ত এবং সুরা জাসিয়ার ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৩৭) পঠিত হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৫তম পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলোÑ
সুরা হামিম সাজদা (আয়াত ৪৭-৫৪)৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪৭-৫৪) কেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর মানুষের সুখের ও দুঃখের সময় কী অবস্থা হয় সে বিবরণ দেওয়া হয়েছে। দুঃখের সময় মানুষ আল্লাহমুখী হয়, দোয়া কান্নাকাটি করে। আর সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়।
সুরা শুরা : (আয়াত ১-৫৩)
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৯) আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.) সম্বোধন করে এরশাদ করছেন, ‘তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে আল্লাহ তায়ালা অহি প্রেরণ করেন, যিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’ সুতরাং অহির উৎপত্তিস্থল একটাই, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার কাছে এক আল্লাহই অহি পাঠিয়েছেন। তারপর আল্লাহ তায়ালার কুদরতের কথা বর্ণনা করার পর পুনরায় অহির আলোচনা করা হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ১০-১৯) বলা হয়েছে আকাশ ও পৃথিবীর ¯্রষ্টা আল্লাহ। তিনি মানুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। মানুষের বংশবৃদ্ধিও তার কুদরতে হয়। আল্লাহ মানুষের জীবন যাপনের জন্য যে সংবিধান দিয়েছেন তা আকড়ে ধরা।
৩য় রুকুতে (আয়াত ২০-২৯) বলা হয়েছে যারা আখেরাতের ফল চায় আল্লাহ তাদের জন্য আখেরাত বরাদ্দ করেন। আর যারা দুনিয়ার ফল চায় আল্লাহ তাকে তাই দেন। আখেরাতে তার কিছু থাকে না।
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩০-৪৩) বলা হয়েছে মানুষের দুনিয়াতে যে অবস্থা আসে তা তার কর্মের ফল। যে ভালো কাজ করে আল্লাহ তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন করেন। আর যে মন্দ কাজ করে তার ভাগ্য অপ্রসন্ন হয়।
৫ম রুকুকে (আয়াত ৪৪-৫৩) বলা হয়েছে কন্যা বা পুত্র সন্তান দেওয়া অথবা সন্তান একেবারেই না দেওয়া সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এখতিয়ারাধীন। মানুষের এতে কোনো হাত নেই। আল্লাহ যা দেন তাই মেনে নেওয়া মুমিনের কর্তব্য।
সুরা জুখরুখ (আয়াত ১-৮৯)
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১৫) বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও রহমতস্বরূপ এ কোরআন নাজিল করেছেন। মানুষের জন্য আল্লাহ নেয়ামত স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২য় রুকুতে (আয়াত ১৬-২৫) আদর্শ-বিমুখ জাতির পরিণতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। তারপর জাহেলি যুগের কিছু ঘৃণ্য প্রথার সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন কন্যাসন্তান হলে পিতার মুখ কালো হয়ে যাওয়া ও জ্যান্ত পুঁতে ফেলা ইত্যাদি।
৩য় রুকুতে (আয়াত ২৬-৩৫) আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলা হয়েছে। সবাই যদি আল্লাহকে মেনে নিতো তাহলে তিনি সবাইকে প্রভ‚ত সম্পদে ভরে দিতেন। পৃথিবীর যাবতীয় ধনসম্পদ থেকে আল্লাহর করুণা অতি উত্তম।
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩৬-৪৫) বলা হয়েছে আখেরাতে যার আমল কম হবে এবং বিনিময়ে শাস্তির ফায়সালা হবে তখন আফসোস করে কোনো লাভ হবে না। যা করার দুনিয়াতে থেকেই করতে হবে।
৫ম রুকুতে (আয়াত ৪৬-৫৬) ফেরাউনের কাছে হজরত মুসা (আ.) এর প্রেরণের প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। ফেরাউনের হঠকারিতা ও দাম্ভিকতা কোনো কাজে আসেনি। বরং আল্লাহর হুকুম মেনে যে চলবে তার জন্য রয়েছে অফুরন্ত খুশির সংবাদ।
৬ষ্ঠ রুকু ও ৭ম রুকুতে (আয়াত ৫৭-৮৯) বলা হয়েছে ইসলাম নারীকে তার আসল মর্যাদায় উন্নীত করে। যারা আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলবে তারা পরকালে জান্নাতে বসবাস করবে। তারপর আল্লাহ তায়ালা রাসুল (সা.) কে নির্দেশ প্রদান করে বলছেনÑ আপনি জাহেলদের এড়িয়ে চলুন এবং বলুন সালাম, অচিরেই তারা নিজেদের পরিণতি জানতে পারবে।
সুরা দুখান (আয়াত ১-৫৯)
মক্কার মুশরিকরা দুর্ভিক্ষের দিনে যে ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা দেখতে পেয়েছিল তার বিবরণ রয়েছে এ সুরায়। তাই একে সুরা দুখান বলা হয়।
১ম রুকুতে (আয়াত ১-২৯) বলা হয়েছে আল্লাহ যেদিন অপরাধীদের পাকড়াও করবেন সেদিন খুব ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তবে আল্লাহ তাদের অবকাশ দেন। সময় থাকতেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
২য় রুকুতে (আয়াত ৩০-৪২) আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলকে যে ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন সে প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।
৩য় রুকুকে (আয়াত ৪৩-৫৯) কাফেরদের জন্য প্রস্তুতকৃত ভয়াবহ শাস্তি এবং মুমিনদের জন্য সুসজ্জিত নেয়ামতগুলোর বর্ণনা দিয়ে সুরাটি সমাপ্ত হয়েছে।
সুরা জাসিয়া : (আয়াত ১-৩৭)
জাসিয়া শব্দের অর্থ হাঁটু গেড়ে বসা। কেয়ামতের দিন মানুষ ভীতির কারণে আল্লাহর দরবারে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। এ ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা সুরায় থাকায় এটিকে সুরা জাসিয়া বলা হয়।
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) সৃষ্টি জগতের সেসব নিদর্শনের আলোচনা রয়েছে, যার প্রতিটি আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা এবং কুদরত ও একত্ববাদের জীবন্ত প্রমাণ। তারপর আসমানি বার্তা শুনে যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
২য় রুকু ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ১২-২৬) বনি ইসরাইলকে দেওয়া আল্লাহর নেয়ামতের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তবে নেয়ামতের কদর না করায় তারা শাস্তির যোগ্য হয়েছিল। সব যুগের কাফেরদের একই অবস্থা হবে।
৪র্থ রুকুতে (আয়াত ২৭-৩৭) কেয়ামত ও হাশরের মাঠের বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে।

গ্রন্থনা : আরিফ খান সাদ





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]