ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

জয়পুরহাটে মাচায় চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের বারো মাসি তরমুজ
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯, ১০:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাটে মাচায় চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের বারো মাসি তরমুজ

জয়পুরহাটে মাচায় চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের বারো মাসি তরমুজ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভারাহুত গ্রামে এই প্রথম মাচায় চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের বারোমাসি তরমুজ। কৃষি বিভাগের পরামর্শ বা কোন ধরনের সহযোগীতা ছাড়াই প্রায় দুই হেক্টর জমিতে চাষীরা চাষ করছেন তাইওয়ান ব্ল্যাকবেবী অর্থাৎ কালচে রংয়ের ও মধুমালা অর্থাৎ হলুদ রং জাতের দুই বারোমাসি তরমুজ। এই দুই জাতের তরমুজের ফাঁকে ফাঁকে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্ডিয়ান জেসমিন-১ ও জেসমিন-২ জাতের তরমুজও চাষ করা হচ্ছে একই ক্ষেতে।

ভারাহুত গ্রামে ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে মূছা মিয়া ২.৫ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার ৭ শত টাকা খরচ করে পরীক্ষামূলকভাবে তাইওয়ান ব্ল্যাকবেবী জাতের তরমুজ চাষ করেন,দুই মাসেই মূছা মিয়া ২৩ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন, মূছা মিয়ার এই অভাবনীয় সাফল্যে এ বছর এই এলাকায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে তাইওয়ান বø্যাকবেবী ও মধুমালা জাতের তরমুজ চাষ করা হচ্ছে।

জয়পুরহাটের ভারাহুত,কয়তাহার,দাউসারা,কুসুমসারা,মাহমুদপুর গ্রামের জমিতে পিএইচ এর মান ৪.৬ থেকে ৬.৫ যা তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী বলে জানান বে-সরকারী সংস্থা এসো’র কৃষিবিদ মোজাফফর রহমান। তাইওয়ান ব্ল্যাকবেবী ও মধুমালা জাতের তরমুজ রবি (শীতকাল) মৌসুম ছাড়া বছরের সকল সময়ে চাষ করা যায় বলে এর দামও ভালো পাওয়া যায়, মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় এর উৎপাদন হারও বেশি,মালচিং পেপার বেডে সেটিং ও নেটিং এর ফলে বৃষ্টি,পোকা-মাকড় ও ইঁদুরের আক্রমণ থেকে তরমুজ রক্ষা পাওয়া যায়, মাচা ও মালচিং পেপার তিনবার ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় ২য় ও ৩য় ধাপে তরমুজের উৎপাদন খরচও খুবই কম হয়, কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়া বিষমুক্ত,কেঁচো সার,কম্পোষ্ট,বায়োনিম,ফেরোম্যান ট্যাপ ব্যবহারের ফলে রোগের প্রকোপ কম হয়।

এই দুই জাতের তরমুজ মাচায় উৎপাদন হয় বলে ইহার গঠন ভালো ও দেখতে সুন্দর, ভিতরে লাল রংয়ের, স্বাদে খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু, ভিটামিন-সি,ভিটামিন-এ (কেরোটিন), পটাশিয়াম তরমুজে বিদ্যমান যা মানুষের শরীরের কোলেস্টেরল এর হার কমাতে সহায়তা করে, প্রোস্টেটের ক্যান্সার,এ্যাজমা প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে,দৃষ্টিশক্তি ও কিডনীর কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে ও হার্টকে সুস্থ রাখে।

ভারাহুত গ্রামের রেজুয়ান ৫৫ শতাংশ জমিতে ৪৭ হাজার টাকা খরচ করে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা লাভ করেন,বাবু ৩০ শতাংশ জমিতে ৪২ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা লাভ করেন,রবিউল ১৫ শতাংশ জমিতে ২২ হাজার টাকা খরচ করে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা লাভ করেন, এভাবে মুছা,আজিজার ,জহুরুল,আমিরুল,আয়ইব,রওশন জামিল,আঃ বাজেদ,নয়ন,রুবেলসহ কয়েকজন কৃষক সরকারি সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় একটি বেসরকারী সংস্থা এসো’র সহযোগীতায় প্রায় দুই হেক্টর জমিতে চাষীরা চাষ করছেন বø্যাকবেবী ও মধুমালা জাতের এই বারোমাসি তরমুজ।

কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়া বিষমুক্ত এই তরমুজ চাষে কৃষকদের মালচিং পেপার, বীজ, সার,নেটিংসহ সব কিছু মিলিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় তরমুজ হয় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার কেজি। বীজ লাগানোর দিন হতে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মাথায় এই তরমুজ বিক্রির মাধ্যমে প্রতি বিঘায় চাষীরা লাভ করছেন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।


ভারাহুত গ্রামের রেজুয়ান,বাবু,রবিউলসহ একাধিক কৃষক জানান, ধান আলুর গতানুগতিক ফসলের পরিবর্তে এই তরমুজ চাষ করে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যেই আমরা তরমুজ পাচ্ছি এবং তরমুজের দাম ৬০-৭০ টাকা কেজি হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর লাভও হচ্ছে। তরমুজের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে এবং পরবর্তীতে তারা নিজেরাই তরমুজ চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছে।

বে-সরকারী সংস্থা এসো’র কৃষিবিদ মোজাফফর রহমান বলেন, জয়পুরহাটের সদর, পাঁচবিবি,কালাই,ক্ষেতলালের কয়েকটি গ্রামের মধ্যে ভারাহুত,কয়তাহার দাউসারা, কুসুমসারা,মাহমুদপুর গ্রামের জমির মাটিতে পিএইচ এর মান তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় তরমুজের ফলন এখানে খুব ভালো হচ্ছে এবং শীতকাল বাদে সারা বছর তরমুজ হওয়ায় কৃষকরা ভালো দামও পাচ্ছে। জেলায় এমন লাভ জনক ফসল দেখে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এই তরমুজ চাষে।  

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় জানান, জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে তরমুজ চাষ করা হচ্ছে, মাচায় তরমুজ চাষ হওয়ায় ফলনও ভালো হচ্ছে, তারা যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিবে এবং পরবর্তীতে তরমুজের ফলন আরো কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় এ ব্যাপার কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]