ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে আমচাষ
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯, ৩:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে আমচাষ

দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে আমচাষ

দেরিতে হলেও গলাচিপায় আম চাষের দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা। এ বছর ঝড় বন্যার প্রভাব থাকলেও আমের অধিক ফলনে খুশি বাগান মালিকরা। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় গত তিন বছরে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ করা শুরু করে এ এলাকার চাষীরা। ভোক্তাদের হাতে কেমিক্যালমুক্ত আম পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়েই বাণিজ্যিক প্রচার চালাচ্ছে গলাচিপার আম চাষীরা।

অপর দিকে আম পদ্ধতির সীমিত জ্ঞান থাকার কারণে প্রথম দিকে ফলন ভাল না হলেও এ বছর ঝড়-বন্যার পরেও লাভবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। উপকূলীয় এ এলাকায় আম চাষে উৎসাহিত করলে তরমুজ, আলুর মতো আম চাষেও সফলতা আসবে কৃষকদের বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সঠিক তদারকি না থাকায় একটু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এসকল কৃষকদের। সরেজমিনে বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।  

গলাচিপার আম চাষী মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম দুধা মিয়া জানান, প্রায় ৩০বছর আগে খুলনায় দৌলতপুর কৃষি কলেজে বেড়াতে যান। সেখানে আম বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন। ওই সময় সেখান থেকে ন্যাংড়া ও হিমসাগর জাতের আমের কয়েকটি কলম এনে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়িতে চাষ করেন। যত্ন না নিলেও কয়েক বছর পর নিয়মিত প্রচুর ফলন শুর হয়। মাঝখানে অনেক বছর কেটে যায়। বাড়িতে সময়ও কাটছিল না। এসময় মাথায় আসে ভালো জাতের আম বাগান করার। গত ২০১৫ সালে ৪০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান করা শুরু করেন। তাঁর বাগানে এখন হিমসাগর, ন্যাংড়া, মোহনভোগ, মল্লিকা, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপলি, রাজশাহীর গুটি আমসহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। এসব গাছে গত বছর থেকে ফলন দেওয়া শুর করেছে। প্রথম বছর ফলন তেমন একটা ভালো হয়নি। ওই সময় আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকার আম বিক্রি বিক্রি করেন।

মাহবুবুল দুধা বলেন,‘এবছরও ঝড় ও বন্যায় আমের গুটি ঝরে যায়। এর পরেও সব খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাছি’ পোকার আক্রমণ ফিরানো যাচ্ছে না। স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে যে পরামর্শ দেয় তা তেমন একটা কাজে আসছে না। এছাড়া আম চাষের জন্য যেসকল উপকরণ দরকার সব সময় গলাচিপা কৃষি অফিস সরবরাহ করতে পারে না। এতে আম চাষীদের সমস্যা হয়। এছাড়া এ উপজেলায় আম চাষ নতুন হওয়ায় যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে চাষীদের সহায়ক হবে।’

গোলখালীর আম  বাগান চাষী নুরুজ্জামান বলেন, ‘দেড় একর জায়গায় আমবাগান রয়েছে। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা করতে না পারায় ফলন ভালো আসেনি। এবছর খুব একটা লাভ হবে না।’

উপজেলা কৃষি অফিস ও আম বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, যেসকল জমিতে ধান চাষ হয় না; এমন জমিতে আম বাগান করে লাভবান হচ্ছে। প্রতি শতাংশ জমিতে ধান চাষ করলে ৩-৪ শত টাকার ধান উৎপাদন হয়। সেখানে বাগান করলে একই জায়গায় শতাংশে কমপক্ষে ১২শ থেকে ২হাজার টাকার আম উদৎপাদন হবে। সঠিক পরিচর্যায় কৃষক লাভবান হবে বেশি।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘গলাচিপা উপজেলায় এবছর ৩৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এসব বাগানে এবছর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আম উৎপাদন হবে। সরকারিভাবে বসতবাড়িতে বারি-৪ জাতের আমের চারা দেওয়া হয়েছে। উপশী জাতের এ আমগুলো ভালো ফল দিচ্ছে। গত কয়েক বছর থেকে এ এলাকার কৃষকরা আম বাগান করা শুর করেছেন। এর মধ্যে পানপট্টি মাহবুবুল আলম, চরখালীর খালেক সিকদার, দক্ষিণ চরখালী কাদের পিয়াদা, গিয়াস পিয়াদা, গোলখালীর নুরজ্জামান (মোহন তালুকদার), হরিদেবপুর রেজাউল করিম, আমখোলা সোহরাব জোমাদ্দারের বাগান উল্লেখযোগ্য। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের উৎসাহিত করতে। কেউ চাইলে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করছি। আশাকরি আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে গলাচিপায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান করতে উৎসাহী হবেন এবং লাভবান হবেন।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন শাহ্ বলেন, ‘উপকূলীয় এ এলাকায় যারা আম বাগান করতে আগ্রহী সরকারিভাবে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা করার চিন্তা করছি। এ অঞ্চলে বাণিজ্যিভাবে আগে কখনো আম চাষ শুর হয়নি। তাই অনেকেই দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে। আশা করি বাগান করতে আগ্রহীরা সম্মুখ ধারণা পেলে আরো উৎসাহী হবেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]