ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং 
শিক্ষার আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯, ১১:৪০ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কোনো দেশের উন্নয়ন তার উৎপাদন-ব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। যে দেশের উৎপাদন যত বেশি, সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত শক্তিশালী। তাই উৎপাদন বাড়াতে পৃথিবীর দেশে দেশে বেড়ে চলেছে শিল্প-কলকারখানা। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু কোনো পণ্য উৎপাদন করতে গেলে মান নিয়ন্ত্রণ, যন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহারসহ বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর এসব ধাপে দরকার হয় দক্ষ শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশলী। তাই পেশা হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেশার মান ও পেশাজীবীর সংখ্যার হিসেবে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা উৎপাদন প্রকৌশল তিন নম্বর স্থানে রয়েছে

ম্যানুফ্যাকচারিং ও ম্যানেজমেন্ট এই দুই বিষয়ের সমন্বয় হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। এই বিভাগে প্রোডাক্ট ডিজাইন, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনাসহ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়সমূহ পড়ানো হয়ে থাকে। এখানে প্রকৌশলের মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানো যায়, দলগত কাজ করা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। বর্তমানে বংলাদেশ তথা বহির্বিশ্বে চাকরি ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে রয়েছে এ বিষয়টির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কারণ দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শিল্প ক্ষেত্রে উন্নত হচ্ছে। আর আইপিই ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আইপিই ইঞ্জিনিয়ারের কাজ কী
একজন উৎপাদন প্রকৌশলীকে একটি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল তৈরি ও জনবলের সঠিক ব্যবহার, যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়, প্রশাসন, বাজারজাতকরণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিপণন পরিকল্পনা, পণ্য ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা-মানোন্নয়ন প্রভৃতি কাজ করতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিভেদে একজন উৎপাদন প্রকৌশলীর কাজের তারতম্য হতে পারে।
আইপিই এর কর্মক্ষেত্রকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট সেক্টর, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সেক্টর। বাংলাদেশে পরিচালিত প্রায় প্রতিটি বহুজাতিক কোম্পানিতে এবং অনেক দেশীয় কোম্পানিতে শিল্প প্রকৌশলীরা চাকরি করছেন। উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো হলোÑ সিঙ্গার, শেভরন, স্কয়ার, পিএইচপি, রহিম আফরোজ, বাটা, প্রাণ-আরএফএল, ওয়ালটন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনিলিভার, নাভানা, টেলিকম প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াই, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নেসলে এবং বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এ ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্পে রয়েছে অবারিত সুযোগ। সব শেষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের যোগ্যতা তো থাকছেই।
শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনার পর কাউকে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় না বলে জানান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর। তিনি জানান, শুরুতেই একজন উৎপাদন প্রকৌশলী ২৫-৩০ হাজার টাকার মতো বেতন পেতে পারেন। তবে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যে লাখ টাকা বেতন পাওয়া সম্ভব।
কোথায় পড়বেন
শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হলোÑ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমআইএসটি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে চার বছরের স্নাতক কোর্সে ভর্তি হতে হয়। এ ছাড়া উৎপাদন প্রকৌশল বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে। আর খুব শিগগির ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালু হবে বলে জানা গেছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]