ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯

ওষুধ প্রতিনিধিদের ‘কোপাতে’ নির্দেশ দিলেন শেবাচিম পরিচালক!
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯, ৮:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ওষুধ প্রতিনিধিদের ‘কোপাতে’ নির্দেশ দিলেন শেবাচিম পরিচালক!
ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় (রিপ্রেজেন্টেটিভ) প্রতিনিধিদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ছাড়া করতে কর্মচারীকে ভয়াত্মক নির্দেশানা দিলেন পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বাকির হোসেন । প্রয়োজনে ছোরা দিয়ে কুপিয়ে মাটিয়ে শুইয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বাতলে দেন তিনি।

সোমবার হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মামুন ওষুধ প্রতিনিধিদের সাথে অসদ আচারণ করলে নালিশ দিতে গিয়ে পরিচালকের এমন ভয়ঙ্কর নির্দেশনা শুনতে পেয়েছেন ওষুধ প্রতিনিধিরা।

এই বিষয়টি নিয়ে ওষুধ প্রতিনিধিদের সংগঠন সংগঠন ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশনের (ফারিয়া) নেতাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে অনেকে আতঙ্কে থাকার বিষয়টিও জানিয়েছে। কারণ যাতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তিনি একজন চিহ্নিত মাদকসেবী।

শেবাচিম পরিচালকের এমন ভয়াত্মক নির্দেশনার বিষয়টি চাউর হয়ে যাওয়ায় অভিজ্ঞ মহলও উম্মা প্রকাশ করেছেন। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে হাসপাতালের শীর্ষ একটি পদে আসীন থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দিতে পারেন কী।

যদিও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ বাকির হোসেন এমন নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে- ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি মো. মেজবাউদ্দিন সোমবার সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগের চিকিৎসক ফালাহ আলদ্বীনকে প্রধান ফটকে নামিয়ে মোটরসাইকেল ঘুরাচ্ছিলেন। এ সময় শেবাচিম হাসপাতালের কর্মচারী মামুন দৌড়ে এসে তার শার্টের কলার ধরে টানতে থাকেন। কিন্তু মেজবা যেতে সম্মত না হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশনের (ফারিয়া) নেতাকর্মীদের অভিযোগ- তাদের সংগঠনের সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করতে গেলে শোনেননি। বরং তিনি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মামুনকে ডেকে এনে এরপর পর থেকে লাঠি নিয়ে নয়, ছুরি নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ। এবং সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে কোন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে দেখা মাত্র কোপাতে নির্দেশ দেন। পরিচালকের এমন নির্দেশনা সংগঠনটির নেতাকর্মীদের হতাশ-বাকরুদ্ধ করেছে। কিন্তু তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি।  

সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অভিযোগ- রমজানের শেষ দিকে হাসপাতালের প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইফতার করানোর জন্য প্রস্তাব করেছিলেন পরিচালক। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই পরিচালক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ওপর নাখোশ ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন সময়ের আলোকে বলছেন- সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেডিকেলে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি প্রবেশে গত বছর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু এই নির্দেশ উপক্ষো করে তাদের কয়েকজন গেটের সামনে ঘুরঘুর করছিলেন। এ বিষয়টি সিসি ক্যামেরায় দেখে তিনি মামুনসহ ৩জন কর্মচারীকে তাদের ডেকে আনতে পাঠান। কিন্তু তারা না আসার কারণে কর্মচারী মামুন ক্ষুব্ধ হয়ে একজনের শার্টের কলার ধরেন।

এই বিষয়টি নিয়ে ওষুধ প্রতিনিধিরা নালিশ করতে আসলে তখন তাদের বলা হয়েছিল ‘কথা না শুনলে তো এরপর থেকে ছুরি নিয়ে নামতে হবে। তবে এটা কোন নির্দেশ নয় বলে দাবি করে পরিচালক বলেন- বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার কাছে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]