ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ ৫ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯

অস্ট্রেলিয়ার সামনে উজ্জীবিত পাকিস্তান
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৬.২০১৯ ১২:২৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার সামনে উজ্জীবিত পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ার সামনে উজ্জীবিত পাকিস্তান

সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। ম্যাচের পর ম্যাচ হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হচ্ছিল পাকিস্তানকে। নির্দিষ্ট করে বললে সাবেক বিশ^চ্যাম্পিয়নরা হার দেখেছিল টানা ১১ ম্যাচে। এবারের বিশ^কাপটাও সরফরাজ আহমেদের দল শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে। স্বাভাবিকভাবেই দলটির আত্মবিশ^াস গিয়ে তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু একটা জয় পাল্টে দিয়েছে দৃশ্যপট। পাকিস্তানের আত্মবিশ^াস এখন উত্তুঙ্গ, জয়টা যখন এই বিশ^কাপের হট ফেবারিট এবং আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, তেমনটা হওয়াই তো স্বাভাবিক। সরফরাজের দল এখন তাই বেশ উজ্জীবিত। টানটনে আজ তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ^চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডকে হারানোর আত্মবিশ^াস পুঁজি করে এই ম্যাচেও জিততে চায় তারা।
যদিও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অতীত সুখকর নয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অজিদের বিপক্ষে সবশেষ জয় দেখেছিল তারা। দুই দলের সবশেষ ১৫ দেখায় পাকিস্তান জিতেছে ওই একবারই, বাকি ১৪ ম্যাচেই হার দেখতে হয়েছে। মার্চে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত সবশেষ সিরিজে ধবলধোলাইয়ের লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। ওই সিরিজটি অবশ্য তারা খেলেছিল দলের গুরুত্বপূর্ণ সাত ক্রিকেটারকে বাইরে রেখে। তবে এটাও তো ঠিক, আরব আমিরাতের কন্ডিশন অস্ট্রেলিয়ার নয়, ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। সেই সুবিধা তারা কাজে লাগাতে পারেনি। সিরিজ জুড়ে রাজত্ব করেছে অস্ট্রেলিয়া।
ইংল্যান্ডে বিষয়টা ঠিক উল্টো। ওই কন্ডিশনে পাকিস্তানের তুলনায় অস্ট্রেলিয়াই বেশি সাবলীল। তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে অ্যারন ফিঞ্চের দল। পাকিস্তানকে আরব আমিরাতে হারানোর আগে ভারতকেও তাদেরই মাটিতে হারিয়ে এসেছিল তারা। সেই ভারতের কাছে অবশ্য বিশ^কাপে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে পাত্তা পায়নি অজিরা। ৩৫৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা হেরেছে ৩৬ রানের ব্যবধানে। স্বাভাবিকভাবে তারাও আজ জয়ে ফিরতে মরিয়া হয়েই লড়বে। তা ছাড়া এই ম্যাচ হেরে গেলে যে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা অনেক কঠিন হয়ে উঠবে তাদের জন্য। তেমনটা চান না দলপতি ফিঞ্চ। পরিষ্কার করেই তিনি তা জানিয়ে দিয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিশ^কাপ দিয়েই দলে ফেরা দুই তারকা ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভ স্মিথ রয়েছেন দারুণ ছন্দে। ভারতের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে দুজনেই হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন।
 স্মিথ তো রান করছেন প্রতি ম্যাচেই, মেটাচ্ছেন দলের দাবি। বাঁহাতি ওপেনার ওয়ার্নার অবশ্য হাফসেঞ্চুরির পথে স্বরূপ দেখাতে পারেননি। সে কারণেই রান তাড়ার শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফিঞ্চ অবশ্য সতীর্থকে নিয়ে চিন্তিত নন। অজি দলপতির বিশ^াস, ঠিক সময়ে আগ্রাসী রূপে ফিরবেন বিপিএল আর আইপিএল মাতিয়ে যাওয়া ওয়ার্নার, ‘ওয়ার্নারের কিছুটা সময় দরকার। সে বিশ^কাপের খেলোয়াড় এবং সামনেই আমাদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেবে।’
ভারত ম্যাচের হতাশা ভুলে পাকিস্তানের বিপক্ষেই জয়ে ফিরবে অস্ট্রেলিয়া, এমনটাই আশা ফিঞ্চের। এশিয়ার দলটির বিপক্ষে সাম্প্রতিক অতীতও আশাবাদী করছে তাকে। তবে পরিসংখ্যানে থোরাই কেয়ার ক্রিকেটের চিরন্তন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল পাকিস্তানের। ইংল্যান্ডের প্রসঙ্গ টেনে দলটির অধিনায়ক সরফরাজ তো বলেই দিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ জিতিনি আমরা, খুব বেশি ম্যাচ তো জিতিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। কিন্তু শেষতক আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি এবং সেটা আমাদের অনেক ইতিবাচক রাখছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখিয়েছি, এখানেও তেমনটাই দেখাব।’
বাবর আজম, ইমাম-উল-হক, ফখর জামানরা সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় নাম তুলেছেন। তবে ব্যাটিং নয়, বোলিংটা বরাবরই পাকিস্তানের শক্তির জায়গা। কিন্তু একমাত্র মোহাম্মদ আমির ছাড়া বাকিরা কেউ এখনও সেভাবে জ¦লে উঠতে পারেননি। স্মিথ-ওয়ার্নাররা যেমন ছন্দে আছেন, তাতে টানটনে আজ কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। সরফরাজ মানছেন সেটা। ভারতের কাছে হারের হতাশা ভুলতে এই ম্যাচে অজিরা ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে, সেটাও অজানা নয় ৩২ বছর বয়সি এই কিপার-ব্যাটসম্যানের। তবে সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছে তার দল, প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই কথাটা বলে দিলেন সরফরাজ, ‘সব প্রতিপক্ষের প্রতিই সম্মান আছে আমাদের এবং আমরা তাদের মোকাবেলায় প্রস্তুত।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]