ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯

জয়পুরহাট-মোকামতলা মহাসড়কের কাজে ধীরগতি
ভোগান্তিতে এ অঞ্চলের মানুষ
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯, ১২:৪২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জয়পুরহাট-মোকামতলা মহাসড়কের কাজে ধীরগতি

জয়পুরহাট-মোকামতলা মহাসড়কের কাজে ধীরগতি

জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্তকরণের নামে ভালো সড়কের পিচ ঢালাই তুলে পাথর খোয়া ও বালু ঢেলে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জয়পুরহাট সহ উত্তরাঞ্চলের চার জেলার মানুষ। জয়পুরহাট থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকা যাবার এক মাত্র মহাসড়ক এটি। মহাসড়কটির জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক অংশটুকু প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এই মহাসড়কের দুই পার্শ্বে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ১৯৪.৭৫ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়।

দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি পৃথক প্যাকেজে দেড় বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পান নাভানা কনস্ট্রাকশন, র‌্যাব আরসি এবং প্যারাডাইস ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের জানুয়ারীতে সড়কটির ১৫ কিলোমিটার অংশের কাজও শুরু হয়। ভালো সড়কের পুরাতন পিচ ঢালাই তুলে বালু খোয়া ও পাথর দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু গত ১৫ মাসে সড়কটির মাত্র ৫ কিলোমিটার অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও বাঁকী ২৫ কিলোমিটার সড়কে নতুন করে বালু, খোয়া ও পাথর দেবে দিয়েছে আবার কিছু কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ শুরু হলেও চলছে ধীর গতিতে, এ সড়কটির কাজ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতি ও অর্থনৈতিক এর অভাবে পরাই কাজের মেয়াদ চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৪ জেলার যানবাহন চলাচল করছে এ সড়ক হয়ে। হিলি স্থল বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত অতিরিক্ত পাথর ও পন্যবাহী বোঝাই ট্রাক চলাচল করতে গিয়ে অকেজো হয়ে দিনের পর দিন এ সড়কে পরে থাকতে দেখা গেছে এছাড়াও প্রায়ই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এছাড়াও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের জায়গায় জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলোতে একটু বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে হাটু পরিমান পানি, ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচলে আরো চরম ভোগান্তিতে পড়বে এ অঞ্চলের মানুষ।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ কিলোমিটার জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দু’ধারে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণের জন্য গত ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ১৯৪.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। বরাদ্দের পরই ১০ কিলোমিটার করে ৩টি প্যাকেজে টেন্ডার হয় এ সড়কের কাজ, ৩টি প্যাকেজের কাজ শেষ হওয়ার মেয়াদ দেওয়া হয়েছিল ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

প্যাকেজ ৩টি মোকামতলা থেকে পুনট, পুনট থেকে মাটির ঘর এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত। পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান র‌্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মের্সাস প্যারাডাইস ট্রেডার্স। অপরদিকে মোকামতলা থেকে পুনট এবং মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত এ দুই প্যাকেজের কাজ পান নাভানা গ্রুপ। ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেন।

সরেজমিন রাস্তার এলাকা ঘুরে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে ওই সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুরু থেকেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাগুলো এ সড়কের কাজ করেছেন ধীরগতিতে, এছাড়াও অর্থনৈতিক অভাবে কয়েক মাস ধরে পুরোদমে কাজ বন্ধ রেখেছিল এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। নাভানা গ্রুপ মোকামতলা থেকে পুনট পর্যন্ত ইট এবং পাথর দেবে দিয়েছে কিন্তু কার্পেটিং করেনি। র‌্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মের্সাস প্যারাডাইস ট্রেডার্স পুনট থেকে মাটির ঘর পর্যন্ত সড়কের অর্ধেক কার্পেটিং করেছে। বাঁকী অর্ধেক কালাই পৌর শহর থেকে পুনট পর্যন্ত ইটের খোয়া ফেলেছে। তবে মাটির ঘর থেকে জয়পুরহাট শহর পর্যন্ত সড়কের কাজ গত মাসে আবার শুরু করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ট্রাক চালক জোবায়ের হোসেন, দুরপাল্লার কোচ চালক শামিম হোসেন, মাইক্রো ড্রাইভার বেলাল হোসেন, মোটর-সাইকেল চালক স্বপন চন্দ্র ও পথচারী হামিদুল ইসলাম জানান, গত দেড় বছর ধরে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা ছাড়াও গাড়ীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। বেশ কয়েক বার দূর্ঘটনাও ঘটেছে এ সড়কে। এরই মধ্যে বানিয়াপাড়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ৮ জনসহ প্রায় এই সড়কে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। বর্তমানে সড়কের যে অবস্থা, তাতে যে কোন মহুর্তে আরও বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। বর্ষার আগ মহুর্তে দ্রুত এ সড়কের কাজ সমাপ্ত করতে তারা দাবী করেন। না হলে নিশ্চিত সকল যানবাহন চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়বে এই সড়ক।

জয়পুরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয় এ সড়কটি। দুরপাল্লার কোচ, আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস এবং পণ্যবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এ পথে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি সংকেত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ সমাপ্ত না হলে অচিরে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।  

র‌্যাব-আর.সি লিমিটেড এবং মের্সাস প্যারাডাইস ট্রের্ডাসের পক্ষে সড়কের কাজ দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত মাজেদুর রহমান বলেন, অর্থ সংকটের কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।

নাভানা কন্সট্রাকশন এর সহকারি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান,সড়ক নির্মানের ধীর গতির কথা স্বীকার করে নির্মানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ জানান আগাম বৃষ্টিপাতসহ নানা অসুবিধার কারনে এ অসুবিধা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সমাপ্ত করতে পারবেন এই মহাসড়কটির প্রস্তস্থকরনের কাজ। এছাড়া মাটির যে কাজ তা ৯০ ভাগ শেষ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি ।

জয়পুরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভির সিদ্দিক বলেন, রাস্তা প্রস্তস্থকরণের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, মাঝখানে সফটওয়ার জটিলতার কারণে অর্থ ছাড়ে সমস্যা হয়েছিল, তা আমরা সমাধান করেছি, ঠিকাদার আবার কাজ শুরু করেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও কাজের কোন সমস্যা হবে না, কাজের মেয়াদ চার মাস বর্ধিত করা হয়েছে ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]