ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাজশাহী গভঃ মহিলা কলেজে চলছে রমরমা ফরম-ফিলাপ বাণিজ্য
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯, ৪:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী গভঃ মহিলা কলেজে চলছে রমরমা ফরম-ফিলাপ বাণিজ্য

রাজশাহী গভঃ মহিলা কলেজে চলছে রমরমা ফরম-ফিলাপ বাণিজ্য

শিক্ষা নগরী রাজশাহীতে রয়েছে বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে অন্যতম বিদ্যাপিঠ রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এইচএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত পাঠ দান কর্মসূচি। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে আবাসিক সুবিধাও। যার কারণে এই প্রতিষ্ঠানে দেশের উত্তরাঞ্চলের দূর দূরান্ত থেকে পড়তে আসে মেধাবী শিক্ষার্থীগণ। যারমধ্যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কিন্তু সেই মেধাবী দরিদ্র পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ভর্তি বা পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ।

বুধবার সকালে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে স্নাতক ১ম বর্ষের ফরম ফিলাপে নির্ধারিত অর্থের চাইতেও অতিরিক্ত অর্থ জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কলেজে স্নাতক ১ম বর্ষের ফরম ফিলাপে নির্ধারিত অর্থের চাইতেও অতিরিক্ত অর্থ জোরপূর্বক নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফরম ফিলাপ করতে আসা বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, মহিলা কলেজের সব বিভাগে নয়, শুধু বাংলা, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস এবং অর্থনীতি এই ৪টি বিভাগেই নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ১০০-৫০০ টাকা। আর এই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে উক্ত বিভাগে নিয়োজিত অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটরগণ। অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত অংকের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

তারা আরো জানান, অনলাইনের মাধ্যমে কলেজের বাইরেও ফরম ফিলাপ করা যায়। কিন্তু  কলেজের খালা (আয়া), পিওন ও কম্পিউটার অপারেটর এমনকি শিক্ষকেরাও বিভিন্ন উপায়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে কলেজের মধ্যেই তাদের নিয়োজিত অস্থায়ী অপারেটরদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ করতে বাধ্য করছে। অন্যথায় তারা ভুল হলে দায়ভার নিবে না, পরীক্ষায় সমস্যা হবে, ভাইভা টিউটোরিয়ালে মার্কস কম দিবে বলে নানান ভয়-ভীতি দেখায়। আর এই ফরম ফিলাপ বাণিজ্যের মূল হোতা হচ্ছে কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আলী। সে-ই মূলত কলেজে ভর্তি ও ফরম ফিলাপ বাণিজ্যের হোতা। যে পুরো কলেজে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের অপারেটর মোঃ আলীকে সময়ের আলো সাংবাদিক শিক্ষার্থী সেজে ফোন কল দিয়ে ফরম ফিলাপের বিষয়ে কতটাকা লাগবে? তা জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়মিত শিক্ষার্থী হলে প্রায় ২০০০ টাকা লাগবে এবং অনিয়মিতদের জন্য ১ম বিষয়ের ১০০০/- এবং তার পরবর্তী অতিরিক্ত বিষয় এ্যাড হলে ২০০ করে যোগ হবে। অথচ, প্রতি বিষয় প্রতি নেওয়া হয় অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশী।

অতিরিক্ত দু’একশ টাকা বেশী কেনো তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরে দোকানে থেকে ফরম ফিলাপ করলে যে খরচটা লাগে তার চেয়ে কম টাকায় আমরা কলেজে করে দিচ্ছি আর তার জন্য খরচ বাবদ কিছু টাকা আমরা নিচ্ছি। ব্যাংক ড্রাফট অমুক তমুকে পিওনদের কিছু দেওয়া লাগে। এজন্যই বাড়তি টাকাটা নেওয়া। তাছাড়া আমাদের কাছে ফরম ফিলাপ করলে ভুলভ্রান্তি থাকে না, থাকলেও আমরা তা ঠিক করে দেয়। শিক্ষার্থীরা হয়রানি ছাড়াই কলেজে আরামে ফরম ফিলাপ করতে পারছে। আমাদের দ্বারা বরং এতে তাদের সুবিধাই বেশী হচ্ছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, নিয়মিতদের কাছে থেকে ফরম ফিলাপ বাবদ নেওয়ার কথা ১৮৫০ টাকা। তার চেয়ে রাখা হচ্ছে দু’পাচশ টাকা বেশী। তারা রীতিমতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে কলেজে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট ও ফরম ফিলাপ বাণিজ্য। এতে ফরম ফিলাপ কমিটি ও কলেজের অধ্যক্ষও নিশ্চুপ।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষক আশফাকুর রহমান অত্র ফরম ফিলাপ কমিটির হেড। সময়ের আলোর পক্ষ থেকে এবিষয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি দেখা করেননি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন ধরেননি।

অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, এই ঘটনাটি আপনার মুখ থেকেই প্রথম জানলাম। এমন ঘটনা আমার প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে অথচ আমিই জানি না। তিনি তার অফিস সহায়ক মুনকে অগিযোগে অভিযুক্তদের ডাকা জন্য বললে সে তাৎক্ষণিক ভাবে অভিযুক্তদের পক্ষে কথা বলে এবং এসব মিথ্যা বলে চিৎকার করে অধক্ষের সামনেই। পরবর্তীতে অধ্যক্ষের কড়া শাসনে সে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

অধ্যক্ষ আরো জানান, এবিষয়ে আমি অভিযুক্তদের তদন্তসাপেক্ষে তাদের শাস্তির আওয়াতায় আনব। শিক্ষর্থীরা আসে এখানে কষ্ট করে লেখাপড়া শিখতে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই গরীব পরিবারের। তাদেও সাথে এমন একটি বাজে বিষয় আমি থাকাকালীন আদৌ সহ্য করা হবে না। অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]