ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯ ৫ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ জুন ২০১৯

টেনশন নিয়েই টানটনে টাইগাররা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৬.২০১৯ ১:২৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

টেনশন নিয়েই টানটনে টাইগাররা

টেনশন নিয়েই টানটনে টাইগাররা

আজন্মের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আয়ারল্যান্ডে প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের পর টইটম্বুর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ মিশনে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল শুরুটাও করেছিল দুর্দান্তভাবে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়ে। কিন্তু এরপর থেকে শুরু হয়েছে হতাশার অধ্যায়। যে অধ্যায়ের শুরুতে আছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে জিততে হেরে যাওয়া, এরপর স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ। সবশেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে আবার ছন্দে ফিরতে চেয়েছিল টাইগাররা, কিন্তু বৃষ্টি সেই আশা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মহা কঠিন বানিয়ে দিয়ে গেছে সেমিফাইনালের পথ। টানটনে পরবর্তী ম্যাচ বাংলাদেশের, ওই ম্যাচেও যদি পূর্ণ দুই পয়েন্ট না মেলে সেমির পথ থেকে একপ্রকার ছিটকেই যাবে টাইগাররা। অথচ আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি হানা দিতে পারে সেখানে। তাই বাড়তি দুশ্চিন্তা নিয়ে সামারসেটের ওই শহরে পাড়ি জমিয়েছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

চার ম্যাচ শেষে টাইগারদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩ পয়েন্ট। এ অবস্থায় সেমিফাইনালে খেলার জন্য অন্তত আরও চারটি জয় দরকার তাদের। সামনে প্রতিপক্ষ রয়েছে শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান আর আফগানিস্তান। ১৭ জুন টানটনে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাচ্ছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে জয়ই প্রত্যাশা করছে বুধবার ব্রিস্টল ছেড়ে টানটনে পাড়ি জমানো মাশরাফির দল। প্রত্যাশার পেছনে রয়েছে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথেই দলটিকে তিনবার হারিয়েছে টাইগাররা। যদিও সেই দলে আন্দ্রে রাসেল, ক্রিস গেইল, এভিন লুইসদের মতো তারকারা ছিলেন না। তবে বিশ^কাপ দলে তারা যোগ হওয়াতেও তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আশির দশকের মতো পরাক্রমশালী হয়ে ওঠেনি।
 
তা না হলেও গেইল-রাসেলদের নিয়ে আলাদা করেই ভাবতে হচ্ছে টিম বাংলাদেশকে। ভাবনার পেছনে রয়েছে টানটন কাউন্টি গ্রাউন্ডের আকৃতি। সাধারণত এই মাঠে ইংল্যান্ডের মেয়েরা খেলে। মাঠের আকৃতি কিছুটা ছোট। গেইল-রাসেলরা এমনিতেই ছক্কা হাঁকানোয় ওস্তাদ। গোটা ক্যারিবীয় দলেই বিগ হিটারের ছড়াছড়ি। ছোট মাঠে তারা আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন টাইগার শিবির তাই কিছুটা শঙ্কিত। দলের ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস অবশ্য সবদিক মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। সেই পরিকল্পনায় দুরন্ত ছন্দে থাকা রাসেলকে আটকানোর বিষয়টাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, রোডস সেটা পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ কোচের দৃষ্টিতে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান রাসেল, ‘আমার মনে হয়, ক্যারিবীয়দের প্রধান অস্ত্র আন্দ্রে রাসেল। সে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। তার দিনে সে সবকিছু করতে পারে। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারে। তার বিপক্ষে বল করা এবং তার বিধ্বংসী ব্যাটিং আটকে রাখা খুব কঠিন।’ রাসেলকে আটকে রাখাই এখন বড় লক্ষ্য বাংলাদেশের। রোডস তেমনটাই বলেছেন, ‘আমরা রাসেলের কথা ভাবছি বিশেষ করে। আমার মনে হয় রাসেলকে ঠান্ডা রাখতে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’ রোডস সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমরা খেলে আসলাম মাত্র। আয়ারল্যান্ডে যদিও ওশানে টমাসের মতো পেসার ছিলেন না। তবে তাকে আমরা এ বছরই নিজেদের দেশে খেলে এসেছি। তাই আমরা সতর্ক আছি। কীভাবে তাদের মোকাবেলা করব, সেটাও মোটামুটি স্থির করা আছে। এখন মাঠে ঠিকঠাকভাবে প্রয়োগের অপেক্ষা।’

দলপতি জেসন হোল্ডার, জোনাথন কার্টার, ওশানে থমাসরা ত্রাস ছড়াচ্ছেন গতিময় বোলিংয়ে। পাকিস্তানকে তো মাত্র ১০৫ রানেই অলআউট করে দিয়েছে তারা। শর্ট বলে নাকাল করছে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের। এই জায়গায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতার কথা অজানা নয় তাদের। তাই নিশ্চিত করেই বলে দেওয়া যায়, মুশফিক-তামিম-সাকিবদের শর্ট বলেই ঘায়েল করতে চাইবে ক্যারিবীয়রা। কিন্তু রাসেল-গেইলদের আটকানো নিয়ে যতটা চিন্তিত রোডস, শর্ট বল নিয়ে ততটা নন। শিষ্যদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন তিনি, ‘আমরা আগের তিন খেলা থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা শর্ট বলে ঘাবড়ে যায়নি। বেশ আস্থার সঙ্গে প্রতিপক্ষের খাটো লেংথের বলগুলো মোকাবেলা করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শর্ট বল বেশ ভালো খেলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। ইংল্যান্ডের জফরা আর্চারকেও ভালোভাবেই সামলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা।’

রোডস আরও বলেছেন, ‘শর্ট বল নিয়ে আমি ভীত নই। আশা করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা শর্ট বল ভালোভাবেই মোকাবেলা করবে।’ ম্যাচে কোচের আস্থার প্রতিদান টাইগাররা দিতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরেকটা জয় হয়তো ধরা দেবে। তবে তাতেই তো আর সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে না। সেটা নিশ্চিত করতে পরের ম্যাচগুলোতেও জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। রোডস তাই শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচই নয়, ভাবনায় রাখছেন পরের ম্যাচগুলোও, ‘আমরা শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়েই ভাবছি না। আমাদের চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনায় আছে বাকি সব দলও, যাদের সঙ্গে আমাদের খেলা বাকি আছে তাদের সবার কথাই মাথায় রেখেছি আমরা।’

প্রতিপক্ষের সঙ্গে এখন বৃষ্টির দেবতা বরুণ দেবের বিমাতাসুলভ আচরণের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]