ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ওয়ার্নারের পর আমির
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১২.০৬.২০১৯ ১১:০৮ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

শাহিন আফ্রিদির বলটা ব্যাটের কানায় লেগে সিøপে দাঁড়ানো আসিফ আলীকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল বাউন্ডারির বাইরে। সেটা দেখেই শূন্যে লাফিয়ে উঠে ট্রেডমার্ক উদযাপনটি করলেন ডেভিড ওয়ার্নার। মুখে চওড়া হাসি, সেটা বলে দিচ্ছিল সেঞ্চুরিটা ঠিক কতটা আকাক্সিক্ষত ছিল তার কাছে। তার সেঞ্চুরির দিনে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চ। তাতে বড় সংগ্রহ গড়ার স্বপ্নই দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তব হতে দেননি মোহাম্মদ আমির। ৪৯ ওভারে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়া থামে ৩০৭ রানেই।
ভারতের বিপক্ষে হারের জন্য অনেকেই দুষেছিলেন ওয়ার্নারের ধীরগতির ইনিংসকে। ৩৫৩ তাড়া করতে নেমে ৮৪ বলে করেছিলেন ৫৬ রান। এর আগে আফগানিস্তারের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি করতেও খেলেছিলেন ৭৪ বল। বাঁহাতি এই ওপেনারকে এমনভাবে ব্যাটিং করতে দেখে রসিকতা করে অনেকেই বলেছিলেন, আগামী অ্যাশেজের প্রস্তুতিটাই বুঝি বিশ^কাপে সেরে নিচ্ছেন! সব সয়ে ওয়ার্নার ছিলেন নিশ্চুপ। তবে প্রিয় প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চুপ থাকেনি তার ব্যাট। শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার পণ করেই যেন নেমেছিলেন ময়দানে।
পাকিস্তান প্রিয় প্রতিপক্ষ? আসলে দলটির বিপক্ষে টানা তিন সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর এমনটি বলাই যায়। বল টেম্পারিং কলঙ্কে নিষিদ্ধ হওয়ারআগে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সবশেষ দুই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। শুধু ওয়ানডেতেই নয়, এশিয়ার পরাশক্তিদের বিপক্ষে খেলা সবশেষ ৩ টেস্টেও দুটো সেঞ্চুরি আছে তার। এদিন করলেন ক্যারিয়ারের ১৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সেটা নিয়ে যতটা না আলোচনা তার থেকে ঢের বেশি স্বরূপে ফেরা নিয়ে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা দলপতি ফিঞ্চের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন। ৫১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন, সেঞ্চুরি ১০২ বলে। এরপর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১টি চার আর একটি ছক্কায় ১১১ বলে ১০৭ রান করে শাহিন আফ্রিদির শিকার হয়েছেন।
অবশ্য ওয়ার্নার ফিরতে পারতেন আরও আগে। ক্যাচ দিয়েও অন্তত দুবার বেঁচে গেছেন তিনি। একাধিকবার জীবন পেয়েছেন ফিঞ্চও। ওয়াহাব রিয়াজের বলে সিøপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ২৬ রানে থাকা ডানহাতি ওপেনার। এরপর ৪৪ রানের মাথায় মোহাম্মদ হাফিজের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু বল গøাভসবন্দি করতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিঞ্চ। এরপর রানের গতি বাড়ানোয় মনোযোগ দেন। সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে অজি দলপতিকে থামিয়ে দেন আমির। ৬টি চার আর ৪টি ছক্কায় ৮৪ বলে ৮২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য ১৪৬ রানের শক্ত ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
সেই ভিতে দাঁড়িয়ে শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন গেøন ম্যাক্সওয়েল। তাকে বোল্ড করে দেন শাহিন আফ্রিদি। ওয়ার্নারকেও থামান বাঁহাতি পেসার। এরপর ঝড় তোলেন আমির। দ্রæত রান তোলার চেষ্টায় থাকা উসমান খাজা আর শন মার্শকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় একটা ধাক্কা দেন তিনি। সেই ধাক্কা সামাল নিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফিঞ্চের দল। মাত্র ১৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা। তাই বিশ^কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের আগের সর্বোচ্চ ৩১০ পর্যন্তও যেতে পারেনি অজিরা। ৪৯তম ওভারে চার বলের ব্যবধানে অ্যালেক্স ক্যারি আর মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার আনন্দে মাতেন আমির। অস্ট্রেলিয়া থামে ৩০৭ রানে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]