ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নতুন অর্থবছরের ‘স্মাট’ বাজেট আজ
অর্থমন্ত্রীর ব্রিফকেসে যত চমক
মোট ব্যয় ৫,২৩,১৯০ কোটি টাকা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৬.২০১৯ ১০:০৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রীর ব্রিফকেসে যত চমক

অর্থমন্ত্রীর ব্রিফকেসে যত চমক

আজ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটাই প্রথম বাজেট। আর এ বাজেটের ¯েøাগান হচ্ছে, ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’। তাই সবার দৃষ্টি বাজেটে কী থাকছে। আর সংসদে প্রবেশের সময় অর্থমন্ত্রীর হাতে যে নতুন ব্রিফকেস সেখানেই তো সব বাজেটের হিসাব। কার জন্য কত বরাদ্দ, কোথায় কী হারে ভ্যাট আরোপ করা যায়, কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা যায় তারও খতিয়ান থাকছে তার এই ব্রিফকেসে রাখা বাজেট বক্তৃতায়। ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটে শুধু হিসাব-নিকাশের খতিয়ান থাকছে না। যুক্ত হচ্ছে রাজনৈতিক দর্শন। যেখানে বঙ্গবন্ধুর শত বর্ষ জন্মদিন পালনের বিষয় থেকে একেবারে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিফলন থাকছে। তবে সবার দৃষ্টি কোন পণ্যের দাম বাড়ছে, আর কমছে কোন পণ্যের। ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি কোথায় নতুন করে ভ্যাট দিতে হবে, করপোরেট কর দিতে হবে। লাভ লোকসানের খাতায় কী পাচ্ছে এই বাজেটে। সাধারণ মানুষের কোনো মাথাব্যথা নেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে। তবে বাজেটে এর গুরুত্ব রয়েছে বলেই প্রতিবছর এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাজেটে বেশ গুরুত্ব পায়।
যে ব্রিফকেসে নতুন অর্থবছরের সব হিসাব-নিকাশ, প্রচলিত নিয়মে তার অনুমোদন নিতে মন্ত্রিসভার উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। সে জন্য জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার আগে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর অর্থ বিল পেশ করার জন্য আগে রাষ্ট্রপতির সম্মতি নেওয়া হয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে অর্থমন্ত্রী তার ব্রিফকেস হাতে সংসদ লবিতে প্রবেশ করবেন। স্পিকারের সম্মতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী তার ব্রিফকেস খুলবেন।
নতুন বাজেটে অনেক চমক থাকছে। তবে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ছে না। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রত্যাশিত করপোরেট করের হার কমছে না। অর্থমন্ত্রী বারবার বলেছেন, করের বোঝা চাপানো হবে না। এক টাকাও কর বাড়ানো হবে না। বরং করের আওতা বাড়ানো হবে। নতুন বাজেটে সবার দৃষ্টি ভ্যাটের দিকে। ৫টি স্তরে কোন পণ্যের ওপর কী পরিমাণ ভ্যাট আরোপ করা হবে তা নিয়ে সব শ্রেণির মানুষের কৌত‚হল রয়েছে। তবে আশার কথা, অনেক পণ্যের ওপর ভ্যাটের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখা হচ্ছে। এমনকি, বছরে যাদের ৫০ লাখ টাকার লেনদেন তাদের কোন ধরনের ভ্যাট দিতে হবে না। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করবেন।
বেকার শিক্ষিতদের জন্য বাজেট চমক থাকছে। ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এই তহবিল থেকে অল্প সুদে ঋণ নিয়ে বেকাররা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। গ্রামে যারা বসবাস করেন তাদের জন্য চমক হচ্ছে, তারা আগামী দিনে শহরের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। ইন্টারনেট সুবিধা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমান সরকারে নির্বাচনি ইশতেহারে এই বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইশতেহারের প্রতিশ্রæতি বাজেটে প্রতিফলন থাকছে। কৃষকদের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে শস্যবীমা চালু করার ঘোষণা আসতে পারে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেটে। আপাতত একটি জেলাকে বাছাই করা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে সব জেলায় চালু করা হবে। গ্রামে যেসব অতিদরিদ্র বসবাস করে তাদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। যেন বিভিন্ন মৌসুমে হতদরিদ্ররা কাজ করার সুযোগ পায়। তবে যারা মুক্তিযোদ্ধা তাদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে, ভাতা বলি আর সম্মানী বলি ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। এদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বাড়ছে। গরিব মানুষদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি থাকছে। রফতানিকারকদের সুসংবাদ হচ্ছে, রফতানি করলেই পাবেন প্রণোদনা। আর যারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়তে চান তাদের জন্য থাকছে ৫ বছরের জন্য কর অবকাশের সুবিধা। এ সুবিধা এই অর্থবছরেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শিল্প উন্নয়ন ও বিনিয়োগের কথা চিন্তা করে এই কর অবকাশ আরও ৫ বাড়ানো হচ্ছে। শিল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। দেশে শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে এই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে শর্ত থাকবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
প্রবাসে যারা বসবাস করেন তাদের জন্য থাকছে বিশেষ প্রণোদনা । বিদেশে বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ লাখ প্রবাসী অবস্থান করছেন। এদের বীমার সুবিধার বিষয়টি এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ এদের সবাইকে বীমার আওতায় আনা হবে। এবারের বাজেটে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াস থাকবে।
নতুন বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন। অবশ্য অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, নতুন আইনে কোনো পণ্যের ওপর ভ্যাট ও করহার বাড়বে না। তবে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হচ্ছে, ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও ঘাটতি থাকছে বিশাল। যার পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। তবে এ ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। আর ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবারের বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। সার্বিকভাবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি রফতানি ও রাজস্ব আয়ের গতিশীলতার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর মূল্যস্ফীতি ধরা হচ্ছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]