ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামাতে ‘বিশেষ পরিকল্পনা’
ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে : প্রধানমন্ত্রী
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৬.২০১৯ ১:১৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঘুষ যে দেবে আর যে নেবে উভয়েই অপরাধী; সেটাই ধরে নিতে হবে। শুধু ঘুষ নিলে তাকে ধরা হবে তা নয়, যে ঘুষ দেবে তাকেও ধরা হবে। কারণ ঘুষ দেওয়াটাও অপরাধ। সেভাবেই বিচার করতে হবে। অপরাধ যারা করছে আর অপরাধে যারা উসকানিদাতা তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিতে চাই। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতিবাজদের প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন অনেক বড় বড় জায়গা আছে, যেখানে হাত দিলেই মনে হয় হাতটা পুড়ে যাচ্ছে এবং যারা এ কাজটা করতে যায় তারাই অপরাধী হয়ে যায়।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। অপরাধ করলে কেউ রেহাই পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আমার দলের কেউও যদি সম্পৃক্ত থাকে, আমি কিন্তু তাদেরও ছাড় দিচ্ছি না, ছাড় দেব না। আর অন্য কেউ যদি অপরাধ করে, তারা তো ছাড় পাবেই না। শাসনটা ঘর থেকেই করতে হবে, সেটাই করে যাচ্ছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর কেউ যদি এ ধরনের অপরাধ করে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে।’ রমজানে চেইনশপ আড়ংয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযান এবং এ নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার বিষয়টি নিয়েও সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তার বদলির প্রসঙ্গও টানেন। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি আড়ংয়ের নাম উল্লেখ করেননি। ঈদুল ফিতরের আগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে বদলির ঘটনা তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে সবসময় জনগণের সেবক মনে করি। প্রধানমন্ত্রিত্ব হলো আমার মানুষের জন্য কাজ করার একটি সুযোগ। সবসময় চেষ্টা করি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য যতটুকু কল্যাণ করা যায় তা করার। অন্যায়-অবিচারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার।’ তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন দফতরে দুর্নীতি দমন কমিশনের তাৎক্ষণিক অভিযানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা কমে আসছে, দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিকতায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। চাহিদার তুলনায় এবার ধানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ ধরে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ৩৬ টাকা কেজি ধরে ১০ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি ধরে ১ লাখ ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হবিগঞ্জ-১ আসনের গাজী মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘেœ বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া বিচার বিভাগের আধুনিকায়নও গতিশীল করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]