ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯

ডিআইজি মিজান ও দুদকের বাছির যেকোনো সময় গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান। ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। অন্যদিকে দুদকের তদন্ত রিপোর্টের তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার কারণে সদ্য বরখাস্ত হওয়া দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরও গ্রেফতার হতে পারেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন এমন অভিযোগের পক্ষে ঘুষ লেনদেনের অডিও কথোপকথন প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান।
এদিকে ডিআইজি মিজান ও দুদক কর্মকর্তা বাছিরের গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিআইজি মিজান তার অপরাধ ঢাকার জন্যই দুদকের পরিচালক বাসিরকে ঘুষ প্রদান করেছেন। এ কারণে মিজানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিআইজি মিজান ঘুষ কেন দিয়েছেন? নিশ্চয়ই তার কোনো দুর্বলতা আছে। তা না হলে তিনি ঘুষ কেন দেবেন? দুর্বলতা ঢাকতে তিনি ঘুষ দিয়েছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া দুটোই অপরাধ। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এখনও প্রক্রিয়াধীন। এমনিতেই ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলছে। এর মধ্যে আবার ঘুষ কেলেঙ্কারি। এ কেলেঙ্কারি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার এবং এক সংবাদ পাঠিকা ও এক নারী রিপোর্টারকে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের নিয়োগ, বদলিতেও এক সময় ভ‚মিকা রাখতেন তিনি। গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও আছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন ডিআইজি মিজান। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারও ছিলেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।
অন্যদিকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগেও একবার ৪০ মাস সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তখন ৩৫০ কোটি টাকা উদ্ধার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তদন্তে অসততার অভিযোগ উঠলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তবে পরিস্থিতি সামলে উঠে চাকরিতে পুনর্বহাল হন তিনি, পান পদোন্নতি।
দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির তার স্ত্রীকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেছিলেন। ওই নিয়োগ পরীক্ষার সময় তার স্ত্রী ৩০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ৩ নম্বর পেয়েছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। বাছিরের স্ত্রী রুমানা শাহীন সেফা বর্তমানে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। সেই প্রতিষ্ঠানেও তিনি তার স্ত্রীকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিতে ঘুষ দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন গণমাধ্যমে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]