ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মতামতের জন্য আইনের খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ
হজ এজেন্সির অসদাচরণে কোটি টাকা জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৬.২০১৯ ১০:১৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

হজ এজেন্সির অসদাচরণে কোটি টাকা জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল

হজ এজেন্সির অসদাচরণে কোটি টাকা জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল

হজ ব্যবস্থাপনাকে নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠু করতে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থা আইন ২০১৯। কয়েক বছর ধরে আইনের খসড়াটি একাধিকবার সংশোধনের পর অবশেষে এটি চ‚ড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত সোমবার আইনের খসড়াটি স্টেকহোল্ডার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আইনের খসড়ায় হজযাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা অনিয়মের জন্য হজ এজেন্সির ক্ষেত্রে অনধিক ১ কোটি টাকা এবং ওমরাহ এজেন্সির ক্ষেত্রে অনধিক ৫০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি আংশিক বা পুরো জামানত বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত ও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হজযাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ প্রমাণ হলে হজ এজেন্সির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রী। হজ ও ওমরাহ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে কোনো ওমরাহ হজ এজেন্সিকে অনিয়মের জন্য পর পর দুই বছর তিরস্কার করা হলে দ্বিতীয় বছরে ওই এজেন্সির লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য স্থগিত হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে গঠিত হবে হজ অধিদফতর। অধিদফতরের অধীন একাধিক আঞ্চলিক হজ অফিস পরিচালিত হবে। হজ অধিদফতর আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আকাশপথে অথবা সমুদ্রপথে হজযাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় হজযাত্রী পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এয়ারলাইন্স বা সমুদ্রগামী যাত্রীবাহী জাহাজ ভাড়া করবে।

আইনের খসড়ায় আরও বলা হয়, হজ ও ওমরাহ সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম অনলাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। যেসব হজযাত্রীর বয়স ১৮ বা তার চেয়ে বেশি তাদের প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজে যেতে ইচ্ছুক নিবন্ধিত প্রার্থীর মধ্য থেকে ক্রমানুযায়ী প্রতিবছর নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রীর তালিকা প্রাক-নিবন্ধনের জন্য প্রকাশ করবে। প্রাক-নিবন্ধিত তালিকা থেকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো হজযাত্রীর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনে ব্যর্থ হলে প্রাক-নিবন্ধনের প্রমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে সৌদি আরবে অবস্থানকারী কোনো হজযাত্রী বা ওমরাহ পালনকারীর অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণিত হলে হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক দলের প্রধান সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত হজযাত্রী বা ওমরাহ পালনকারীকে প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া অসদাচণের জন্য হজ এজেন্সির কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ থেকে ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যাবে। তবে হজ এজেন্সিকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে কোনো ধরনের দÐ আরোপ করা যাবে না বলে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে।

সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী কোটা নির্ধারণ করা হবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর হজসূচি প্রণয়ন করে হজের ব্যয়-সংক্রান্ত হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। খসড়ায় বলা হয়, সরকার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সভাপতি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভাগ ও অধিদফতরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘জাতীয় হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করবে। কমিটি প্রতিবছর ন্যূনতম তিনটি সভা করবে এবং কমিটির সভাপতি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা ডাকতে পারবেন। সভাপতির অনুপস্থিতিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব সভায় সভাপতিত্ব করবেন। হজ এজেন্সি হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতার ক্ষেত্রে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে হজ এজেন্সির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং ওমরাহ এজেন্সির ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। হজ ও ওমরাহ হজ এজেন্সির লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর।

আইনের খসড়ায় ই-হজ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ ক্ষেত্রে তথ্য সরবরাহ, হজের কোটা, হজ প্যাকেজ ঘোষণা, হজযাত্রী প্রতিস্থাপন, হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিটির সিদ্ধান্তের বৈধতা, হজ এজেন্সি নিয়োগ, এজেন্সি হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতা ও লাইসেন্সের শর্তাবলি, লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন, লাইসেন্স বাতিল বা সাময়িক স্থগিতকরণ, লাইসেন্স সমর্পণ, হজযাত্রী পরিবহন, ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য মক্কা-মদিনায় আবাসন, হজ গাইড নিয়োগ, অস্থায়ী হজ কর্মচারী নিয়োগ, হজ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দল প্রেরণ, আপদকালীন ফান্ড, এজেন্সি কর্তৃক অনিয়ম বা অসদাচরণে জন্য দÐ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, খসড়া আইনের ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত পাওয়ার পর খসড়াটি চ‚ড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পর বিল আকারে এটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, আইনের কঠোরতার কারণে যেন মানুষের হজে যাওয়া বন্ধ না হয় সে ব্যাপারেও আমাদের লক্ষ রাখতে হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]