ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পুলিশের ভুলে ফজলের বদলে সজলের ৪৩ দিন পর কারামুক্তি
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের ভুলে বড় ভাই ফজলের পরিবর্তে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৩ দিন সাজা ভোগের পর মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন ছোট ভাই সজল। বুধবার দুপুরে রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাকে বেকসুর খালাস দেন। এর আগে ৩০ এপ্রিল নগরীর শাহ মখদুম থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফজল ওরফে সেলিমকে না পেয়ে তার ছোট ভাই সজলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলের পরিবর্তে সজলকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তার কারণ জানাতে শাহ মখদুম থানার কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার তোফাজ উদ্দিনের ছেলে ফজল ওরফে সেলিম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট তার অনুপস্থিতিতেই মামলার রায় হয়। আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর ৩০ এপ্রিল এই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফজলের ছোট ভাই সজলের বাড়িতে অভিযান চালায় নগরীর শাহ মখদুম থানার পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে ফজল নাম দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
ফজলের পরিবর্তে সজলকে গ্রেফতার করায় ২৬ মে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করে সজলের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী মোহন কুমার সাহা। আাদলতের নির্দেশে সজল নির্দোষ প্রমাণ হয়ে মুক্তি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী মোহন কুমার সাহা। তিনি বলেন, পুলিশের কারণে নির্দোষ ফজলকে প্রায় দেড় মাস কারাগারে সশ্রম কারাভোগ করতে হয়েছে। সজলের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে শাহমখদুম থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার অপর এক আসামি এবং দুইজন সাক্ষী সজল মিয়াকে ফজল মিয়া হিসেবে শনাক্ত করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখানে পুলিশের অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ছিল না।
আদালতের আদেশের পর সজলকে বুধবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালত থেকে আদেশের অনুলিপি সেখানে পাঠানো হবে। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে কি না। তা না থাকলে সজলকে মুক্তি দেওয়া হবে। বুধবার আদালত থেকে সজল হাসি মুখেই কারাগারে গেছেন। এ সময় পুলিশ তার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা বলতে দেয়নি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]