ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাত ব্যাংকের এমডিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক
খেলাপি ঋণে লাগাম টানতে কমিটি
শাহীন হাওলাদার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন মাসেই দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়ে গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে একই দিনে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে সরকারি চার ব্যাংক ও বেসরকারি তিন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেশি বাড়ায় এসব ব্যংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে এমন সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের ডেকে এই বৈঠক করেছে। বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে যেকোনো উপায়ে চলতি জুন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ খুঁজতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি বেড়েছে এমন সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈঠক করেছে। বৈঠকে খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণ জানতে ও কমিয়ে আনতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকটি বিভাগ এ কমিটিতে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ, ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ ও ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি বিভাগের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে সাত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠকটি হয়েছে সেগুলো হলোÑ সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আল-আরাফাহ, ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকার ঋণ। এ সময় পর্যন্ত এসব ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের দেশীয় ৪০টি ব্যাংকের ঋণ ৭ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। যার মধ্যে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ব্যাংক খাতে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না’। সে জন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর সে কথা ফলেনি, খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার খেলাপি ঋণের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণের (রাইটঅফ) স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের সঙ্গে অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ যোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ১২২ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় মন্দ মানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ স্থিতিপত্র (ব্যালেন্সশিট) থেকে বাদ দেওয়াকে ঋণ অবলোপন-রাইটঅফ বলে। যদিও এ ধরনের ঋণ গ্রহীতা পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]