ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পথ হোক স্বস্তির ও নিরাপদ
ড. রকিবুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

এমন একটি দিন নেই, যেদিনে দেশের কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না, মানুষ মারা যায় না। প্রতিদিন পথে-ঘাটে মৃত্যু এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এ মৃত্যুও শেষ কোথায়Ñ এসবও পুরনো কথা। আশাবাদীদের এসব আশাও এখন ক্লান্ত শান্ত। কারণ এসব আশা করা মানেই তিনি অতি আশাবাদী, যা বাস্তবতা থেকে বহুদূর অবস্থান। যেভাবে প্রতিদিন মৃত্যু ঘটছে, মৃত্যুগুলো যেন গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ ঘটনার মতোই যেন এসব ঘটনা। কবে এর শেষ হবে, কোথায় এর শেষ হবে এসব প্রশ্ন এখন অবান্তর। যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে রাজধানী ঢাকা শহর থেকে শুরু ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে, মৃত্যুও যেন অশ্বগতিতে দৌড়াচ্ছেÑ এ যেন পাগলা ঘোড়ার দৌড়। লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা কারও নেই। এসব দেখে আমরা দিন দিন বোধহীন হয়ে পড়ছি। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কথা ছিল না। স্বাভাবিক মৃত্যু সবার কাম্য। কিন্তু বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার মাধ্যমে অস্বাভাবিক মৃত্যুও হার বেড়ে গেছে বহুগুণ। যা মেনে নেওয়া যায় না। শরীরের ভেতরে রক্তে অগুন জ্বলে ওঠেÑ প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করে মৃত্যুগুলো এভাবে কেন? শিশু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও বয়স্কা মানুষ-ধনী গরিব কেউই রেহাই পাচ্ছে না এ ধরনের মৃত্যুও হাত থেকে। সড়কপথে শৃঙ্খলা আনার কথা নতুন করে শোনা যাচ্ছে। এই শৃঙ্খলাটা কী কে আনবে, এ শৃঙ্খলা কারা আনবে, সে শৃঙ্খলা কত দিনে আসবে, এসবের উত্তর কোথায় আছে কে জানে। সড়কপথে মৃত্যু কমানোর জন্য তো অতীতে কত রকমেরই আইনই তো হয়েছে। বাস্তবে এর কার্যকারিতা কী। এর ফল কী। মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। বিখ্যাতরা কেউ মারা গেলে খবরের কাগজে টেলিভিশনে বড় বড় খবর হয়, দেশ নড়ে ওঠে, প্রশাসন নড়ে ওঠে, নড়ে ওঠা পর্যন্তই। তবু মানুষ জানতে পারে অমুক মারা গেল। কিন্তু সাধারণ মানুষের কে কোথায় বাসের ধাক্কায়-বাসচাপায় মরছে-চলন্ত বাস থেকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হচ্ছেÑ এর কজনের হিসাব কে জানে। সংবাদে এসব মৃত্যু এখন সংখ্যায় দেখতে হয়। কত মৃত্যুর খবর তো খবরহীন হয়েই হারিয়ে যায়। কী এক অদ্ভুত অবস্থার ভেতর দিয়ে চলছি আমরা। মনে আছে আপনাদের কয়েক বছর আগে বিখ্যাত সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ যখন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন তখন গোটা দেশ কী ভীষণভাবে নড়ে উঠেছিল, মিডিয়া জগতে খবরের পর খবর পদ্মার টালমাটাল ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়েছিল। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তখন কত রকমের উদ্যোগের কথা জোয়ারের মতো ভেসে উঠেছিল। মনে হয়েছিল এবার কিছু একটা হবে! সড়কপথে মৃত্যুর লাগাম এবার নিশ্চয়ই টেনে ধরা সম্ভব হবে। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয়াবহ মৃত্যুর দূরত্ব বাড়তেই উদ্যোগের কথাগুলোও বিবর্ণ ঘাসের মতো হয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব উদ্যোগ মরেও গেছে। অথচ তখন আশাবাদ জন্মেছিল, এবার একটা শক্ত নিয়ম হবে, ঘাতকের শক্ত শাস্তি হবে। সাধারণ মানুষও পথ চলতে সতর্ক হবে সাবধান হবে। বাস্তবে কী হয়েছে যার যাওয়ার সেই গিয়েছে যার বা যাদের হারানোর তারাই হারিয়েছে। দুর্ঘটনা কি কমেছে? উত্তর সবারই জানা। মিশুক মুনীর কিংবা তারেক মাসুদের থেকেও বিখ্যাত অনেক লোক এ দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। মন্ত্রী এমপিও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তা নিয়েও খবর আর শোরগোল কম হয়নি। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া কী সুন্দর সুন্দর ছেলেময়েরা চোখের পলকে মারা যাচ্ছে। চোখও বিশ্বাস করতে চায় না। কিছুদিন আগে ব্র্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাবণ্যের মৃত্যু হলো দিনদুপুরে গাড়ির ধাক্কায়Ñ এ কি মানা যায়! টিভি খুলতেই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জেলায় জেলায় কতজন মারা গেছে সড়ক দুর্ঘনায়। এরকম কতজন যে প্রতিদিন মরছে হিসাবের খাতায় তা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব মৃত্যু ঘটছে, বাসের ভেতর ধর্ষণ করে যাদের পথে ফেলে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এর কি কোনো বিচার নেই! এসব কি শুধু দেখতেই হবে শুনতেই হবে আর বুক চাপিয়ে আহাজারি করে মরতে হবে! হায়! এসব মৃত্যু যেন নদীর ঢেউয়ের মতো হয়ে গেছে একটা ঢেউ এসে যেমন আর একটা ঢেউকে ঢেকে ফেলে, তেমনি একটি মৃত্যুর খবর আর একটি মৃত্যু এসে ঢেকে দিচ্ছে। মৃত্যুর মিছিল এভাবে দীর্ঘ হতে হতে আমাদের চোখের সীমানার বাইরে চলে যাচ্ছে। দিন গড়াতে আমরাও এসব মৃত্যু ভুলে যাচ্ছি স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়ে জীবন চলছে। যেন অ্যাকুরিয়ামের মাছ হয়ে গেছি। আর মাছ না হলেও ভুলে যেতে তো সমস্যা নেই। এ ধরনের ঘটনা একটা ঘটতে না ঘটতেই আর একটি ঘটনা এসে আগেরটিকে মুছে দেয় অথবা ঢেকে দেয়। আমরা নতুন ঘটনাটিকে নিয়ে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠি হাহাকার করতে থাকি আর্তনাদ করতে থাকিÑ এভাবেই চলছে সবকিছু চলছি আমরাও। সময়ের সঙ্গে স্রোতের মতো আমাদের এই চলা প্রতিদিন। খুব অবাক হতে হয় এসব মৃত্যু যখন আর ১০টা সাধারণ মৃত্যুর মতোই নিয়তি বরণ করে। নিছক দুর্ঘটনা বলেই চালিয়ে দেওয়া হয়। এব নিয়ে প্রতিবাদের আগুন প্রথম দুই-চার দিন জ্বললেও নিভতেও খুব বেশি সময় লাগে না। অনেক আগে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে প্রতিবাদের আগুন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, বেশ সাড়াও ফেলেছিল। পরবর্তী সময়ে ‘একুশে পদক’ প্রাপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। জাতীয়ভাবে নিরাপদ সড়ক দিবসও করা হয়েছে। এসব ভালো দিক। কিন্তু বাস্তবে এ মৃত্যুর হার কমেছে কি না এটা একটা বিরাট প্রশ্ন। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন তো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন সমাজে-দেশে বড় রকমের একটা ধাক্কা দিতে পেরেছিলেন। তারপরও সড়কপথে মৃত্যু কি কমেছে! নিয়ম আইন তো কতই হয়, বাস্তবে প্রয়োগ হয় কয়টা? সড়ক দুর্ঘটনা নিয়েও হয়তো আইন-কানুন কম নেই। কিন্তু বাস্তবে কার্যকরী হয় কতটুকু! কার্যকরী সেই আইন কোথায় যে আইনের রশিতে নিয়মের ভেতরে আনা যেতে পারত বাস-ট্রাকের অদক্ষ ও মাদকাসক্ত চালকদের। কিন্তু এসবের বাস্তবায়ন বহু দূরের পথ। এটা কীভাবে সম্ভব প্রতিদিনই তো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। মা-শিশুকে নিয়ে হয়তো পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, মায়ের সামনেই সেই শিশুকে ঘাতক বাস হত্যা করে ফেলছে। টগবগে তরুণ হয়তো পথ ধরে হাঁটছেন, বাস বা ট্রাকচাপায় তাকে বলি হতে হচ্ছে। পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। সড়ক দুঘটনায় নিহত অনেকের নাম লেখা যেতে পারত এ লেখায়, কিন্তু কত জনের নাম লিখব? চালকের অপরাধ অনেক বড়। কিন্তু আমরা নিজেরাই বা পথ চলতে কতটা সতর্ক থাকি, সাবধান থাকি। কতটা নিয়মকানুন মেনে পথ চলি! এ প্রশ্নটাও কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে থাকতে হবে। এবং সাবধানে চলতে হবে। তা না হলে শুধু আইন দেখিয়ে এই মৃত্যুর মিছিল ছোট বা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের নিজেদেরও দায়িত্ব আছে দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদেরই। না হলে এভাবেই চলতে থাকবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা, মফস্বল শহরে দুর্ঘটনা আর মহানগরীগুলো যেভাবে মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছেÑ এ ফাঁদ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
স্মরণে থাকার কথা, রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুজন কোমলমতি ছাত্রছাত্রীকে বাসের চাকায় কী ভয়াবহভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনায় কষ্টে ক্ষোভে গোটা দেশ জ্বলে উঠেছিল। প্রতিবাদের আগুনে সারা দেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। এই মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভের আর প্রতিবাদের আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছিল অসংখ্য বাস। এরপরও কি মৃত্যু কমেছে? কমেনি। সচেতনতা বেড়েছে? বাড়েনি। ছাত্রছাত্রী কিছুদিন ট্রাফিকের সহায়ক হিসেবে দায়িত্বপর্যন্ত পালন করে বিরল এক দৃষ্টান্ত তৈরি করল। নিয়ম-অনিয়মের ভেতর কারা চলে চোখে আঙুল দিয়ে এসব কোমলমতি ছেলেমেয়েরা তা দেখিয়ে দিল। তাতেও কিছু হলো না। এসব মৃত্যু, আন্দোলন, ক্ষোভের আগুন সবই কি জলে ভেসে যাচ্ছে! কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখনও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। এসবের শেষ কোথায়? এসব মৃত্যুকে কী নিছক দুর্ঘটনার মৃত্যু বলে দায় এড়ানো যায়? এভাবে এদেশে কত মৃত্যু ঘটেছে, কত মৃত্যু এভাবে দিনে দিনে ঘটতে থাকবে! স্কুলপড়–য়া কোমলমতি শিশু থেকে শুরু করে কোনো বয়সের কেউই তো দানবের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কখন কার মৃত্যু ঘটবে এই দানবের হিংস্র থাবায় তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও, মৃত্যু যে ঘটবে তা তো নিশ্চিত করেই বলা যায়। মৃত্যুর ভেতর দিয়েই আমাদের প্রতিদিনের জীবন এগিয়ে চলে, কিন্তু সেটি তো হতে হবে স্বাভাবিক মৃত্যুর অনাকাক্সিক্ষত এই মৃত্যু তো কারও কাম্য হতে পারে না। সাধারণ মানুষ এভাবে পথে ঘাটে মরবে পরিবার নিঃস্ব হবে এটিই বাস্তবতা এখন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেসব আইন আছে, তা যথেষ্ট কিনা বা তা কতটা কার্যকর করা হয় এসব বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে সরকারের আন্তরিক ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। জনসচেতনার অভাব আছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু জনসচেতনার বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ আমাদের কতটুকু আছে! এ ক্ষেত্রে সরকার, বিভিন্ন সংস্থা-সংগঠন ও জনগণ সবারই দায়িত্ব আছে।
সবচেয়ে বড় কথা এ ধরনের মৃত্যু কারো কাম্য হতে পারে না। এ ধরনের মৃত্যুমুক্ত একটি দেশ হয়তো সম্পূর্ণভাবে আশা করা কঠিন, কিন্তু মৃত্যুর হার তো কমিয়ে আনা যেতে পারে। সে জায়গাটিতে আমাদের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়া যেতে পারে। কারণ, কোনো পরিবারের কেউ একজন এভাবে মৃত্যুর শিকার হলে, সেই একটি মৃত্যুই তার গোটা পারিবারকে নিঃস্ব করে দেয় সেই পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা ও অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব থেকে কোনোদিনই আর বের হয়ে আসা সম্ভব হয় না। মূলত একটি মৃত্যুর ভেতর দিয়ে তার পরিবারেরও একরকম মৃত্যু ঘটে যায়Ñ স্বপ্নহীন ফ্যাকাশে যে বেঁচে থাকা তাদের, সেই বেঁচে থাকাকে কী সত্যিকারের বেঁচে থাকা বলা যায়?
এ ধরনের মৃত্যুফাঁদ থেকে এক নিমিষেই হয়তো দেশকে মুক্ত করা যাবে না সত্য, কিন্তু যদি আন্তরিক চেষ্টা থাকে সবার তাহলে এ ধরনের মৃত্যুর হার তো অনেক কমিয়ে আনা যায়। চাই আন্তরিক উদ্যোগ ও চেষ্টা। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। নিজের জীবন নিজেকে যেমন রক্ষা করার দায়িত্বÑ এ জন্য নিজের সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। আবার অপরিপক্ব চালকের হাতে যারা অন্যায়ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দেয় তারা মূলত তাদের হাতে হত্যাকাÐ ঘটানোরই এক প্রকার অনুমতিপত্র প্রদান করে থাকে। এই ভয়ঙ্কর অসুস্থ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইনে পর্যাপ্ত শাস্তির ব্যবস্থা আনতে হবে এবং তার কার্যকারিতা থাকতে হবে। সবদিক থেকেই চেষ্টা করে এ ধরনের মৃত্যু বন্ধ করতে হবে। পথ হোক স্বস্তির ও নিরাপদ।

অধ্যাপক ও কবি-কথাশিল্পী-গবেষক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]