ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯ ১১ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২৬ জুন ২০১৯

আরও ২২ পণ্য নিম্নমানের
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে হেলাফেলা কাম্য নয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের ভরসার সব আশ্রয়ই কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? ব্যবসায় সুনাম অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানের নামের প্রতি মানুষ আস্থা রাখে। ভরসা করে সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনে। একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ক্রেতার পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে, তাদের রুচিকে মূল্য দিয়ে নিজের সুনাম তৈরি করে। তৈরি হয় ব্র্যান্ড। বাজারে নামি ব্র্যান্ডের পণ্য মানুষ বিনা দ্বিধায় ক্রয় করে। কারণ ক্রেতা জানে নামি ব্র্যান্ডের পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণœ থাকবে। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে কোনোরকম প্রতারণার আশ্রয় নেবে না। তাদের পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করবে না। অথচ ক্রেতার সেই আশ্রয়স্থলও নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। ইতঃপূর্বে বাজারে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্যর তালিকা প্রকাশিত হয়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বাজার থেকে বিএসটিআই ৪০৬টি পণ্যের নমুনা ক্রয় করে। বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পণ্যগুলোর পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পরীক্ষায় ৫২টি পণ্য মানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। এই ৫২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে নিম্নমানের বলে বিএসটিআই ঘোষণা করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত এবং ৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় পণ্যের প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফায় ৪০৬টি পণ্যের মধ্যে অবশিষ্ট ৯৩টি পণ্যের মান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বিএসটিআই ২২টি ব্র্যান্ডের পণ্যকে ‘নিম্নমানের’ বলে ঘোষণা করেছে। মানহীন পণ্যগুলো তুলে নিতে এসব পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই।
বাজারে নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্যেই যখন এই অবস্থা, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে বাজারে চালু ব্র্যান্ডহীন বা অজানা-অচেনা ব্র্যান্ডের পণ্যের কী অবস্থা? এটা তো নিশ্চিত যে বিএসটিআই যেসব পণ্যকে মানহীন বলে শনাক্ত করেছে তার বাইরেও রয়েছে আরও অসংখ্য পণ্য। বাজারে থাকা নিম্নমানের বা ভেজালমিশ্রিত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার খেয়ে ভোক্তারা নিজেদের অজান্তেই নানা দুরারোগ্য ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা, আমাদের শিশুরা প্রতিদিন ভেজাল খাদ্যপণ্য গ্রহণ করছি। ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেজাল পণ্য গ্রহণের ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হচ্ছে। আমাদের শিশুরা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মগ্রহণ করছে। যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা বিশে^র মানুষের অগ্রাধিকারের তালিকায় সেখানে দেশের অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ডের পণ্যে ভেজালের সমারোহ। তাহলে আমরা কোথায় আছি? সরকার ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। ভেজাল পণ্য রোধ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করছে। তারপরও খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়া থেমে নেই। খাদ্যে ভেজালের মাধ্যমে আমাদের একটি পঙ্গু জাতিতে পরিণত করার যে ঘৃণ্য কাজ করা হচ্ছে তা কঠোরভাবে দমনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভেজাল রোধে আইন রয়েছে, সেই আইনের কঠোরতম প্রয়োগ এখন জরুরি। খাদ্যে ভেজালের ক্ষেত্রে আমাদের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তারপরও কেন ভেজাল থেমে নেই? দুই দফায় বিএসটিআই যেসব পণ্যকে মানহীন বলে চিহ্নিত করেছে সেগুলো দ্রæত বাজার থেকে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি কাদের অবহেলায় এবং কেন নামি-দামি ব্র্যান্ডও বাজারে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বাজারজাত করে তা শনাক্ত করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তেমনিভাবে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]