ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯ ৬ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯

আয়াতুল কুরসির মাহাত্ম্য
আরিফ খান সাদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কোরআনে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ কিছু আয়াত রয়েছে। সুরা বাকারার ২৫৫নং আয়াত এমন একটি বরকতময় আয়াত। এটিকে আয়াতুল কুরসি বলা হয়। কুরসি অর্থ পা রাখার স্থান। আল্লাহর কুরসি কত বড় তা বোঝাতে কুরসি শব্দটি এই আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ওয়াসিয়া কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ।’ অর্থাৎ আল্লাহর কুরসি সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে। হজরত আবু জর (রা.) বলেন, ‘আমি মসজিদে হারামে প্রবেশ করলাম। রাসুলুল্লাহকে (সা.) একাকী দেখে তার পাশে বসে যাই এবং জিজ্ঞাসা করিÑ হে আল্লাহর রাসুল! আপনার প্রতি নাজিল হওয়া কোন আয়াতটি শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেন, আয়াতুল কুরসি; আল্লাহর কুরসি এত বড় যে, কুরসির তুলনায় আসমান এবং জমিন যেন মরুভ‚মিতে পড়ে থাকা একটি আংটির মতো। আর আরশের তুলনায় কুরসি যেন মরুভ‚মির মাঝে পড়ে থাকা একটি আংটি।’ (বায়হাকি : ২/৩০০; সিলসিলাতুল আহাদিস সহিহা : ১০৯)আয়াতুল কুরসি অনেক বড় বড় বিপদের রক্ষাকবচ। হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকায়ে ফিতরের দেখাশোনার করার জন্য আমাকে নিযুক্ত করলেন। এক ব্যক্তি উভয় হাত ভরে শস্য নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে অব্যশই রাসুল (সা.)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমি একজন গরিব লোক, আমার ওপর, আমার পরিবার-পরিজনের বোঝা রয়েছে এবং আমি অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। সকালে নবী করিম (সা.) বললেন, হে আবু হুরায়রা, তোমার কয়েদি গত রাতে কি করেছেন? আবু হুরায়রা বললেন, হে রাসুলুল্লাহ, সে অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত, তাই তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি বললেন, সাবধানে থেক, সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে। সত্যিই সে আসল এবং দুই হাতে শস্য ভরে নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, তোমাকে অবশ্যই রাসুল (সা.)-এর নিকট নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দিন, আমি অভাবগ্রস্ত। আগামীতে আর আসব না। আবু হুরায়রার (রা.) দয়া হলো এবং তাকে আবার ছেড়ে দিলেন।
সকালে রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, আবু হুরায়রা তোমার কয়েদির কি হলো? আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সে তার কঠিন প্রয়োজন ও পরিবার-পরিজনের বোঝার অভিযোগ করল, এই জন্য তার প্রতি আমার দয়া হলো এবং তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি এরশাদ করলেন, সাবধানে থেক, সে মিথ্যা বলেছে, আবার আসবে। সুতরাং আমি তার অপেক্ষায় রইলাম। সে আসল এবং উভয় হাতে শস্য ভরতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম, অবশ্যই তোমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট নিয়ে যাব। এই তৃতীয়বার এবং শেষ সুযোগ। তুমি বলেছ, আগামীতে আসবে না কিন্তু আবার এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তোমার উপকার করবে। আমি বললাম, সে কালিমাগুলো কি? সে বলল, যখন তুমি নিজের বিছানায় ঘুমাতে যাও তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে  নেবে। তোমার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান তোমার নিকট আসবে না।
সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, তোমার কয়েদির কি হলো? আমি বললাম, সে বলেছে যে, আমাকে এমন কয়েটি কালিমা শিখিয়ে দেবে যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আমার উপকার করবে। অতএব আমি তাকে এবারও ছেড়ে দিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সে কালিমাগুলো কি ছিল? আমি বললাম, সে এই বলে গেছে যে, যখন তুমি বিছানায় ঘুমাতে যাও তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে নাও। তোমার জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী নিযুক্ত থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান তোমার নিকট আসবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, মনোযোগ সহকারে শোন। যদিও সে মিথ্যাবাদী, কিন্তু তোমার সঙ্গে সত্য কথা বলেছে। হে আবু হুরায়রা। তুমি কি জান, তিন রাত যাবৎ তুমি কার সঙ্গে কথা বলছ? আমি বললাম, না। তিনি এরশাদ করলেন, সে শয়তান ছিল।’ (বুখারি : ১১৩২)
হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর বর্ণনায় আছে যে, ‘শয়তান এই বলল, তুমি নিজের ঘরে আয়াতুল কুরসি পড়, তোমার নিকট কোনো শয়তান, জিন ইত্যাদি আসবে না ।’ (তিরমিজি : ২৮৮)

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]