ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯ ৬ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯

রাতুল ও তার বাবা
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট্ট রাতুল বাবা-মায়ের খুবই প্রিয়। পড়াশোনায় ভালো বলে শিক্ষকরাও তাকে খুব পছন্দ করেন। তার একটাই দোষ। প্রচÐ বদমেজাজী সে। রেগে গেলে একদম মাথা ঠিক থাকে না। এ নিয়ে বাবা-মা রাতুলকে অনেক বোঝান কিন্তু কিছুতেই কাজ হয় না।
একদিন রাতুলের বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিলেন এবং বললেন, এখন থেকে যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়ায় লাগিয়ে আসবে।
প্রথম দিনে রাতুলকে বাগানে গিয়ে ১৭টি পেরেক মারতে হলো।
এরপর থেকে রাতুল তার রাগ একটু একটু করে নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করল। সে চিন্তা করে দেখল, হাতুড়ি দিয়ে কাঠের বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ। তাই দিনে দিনে কাঠে নতুন পেরেক লাগানোর সংখ্যা কমে আসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত এমন একটি দিন এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মারতে হলো না।
রাতুল তার বাবাকে এ কথা জানাল। বাবা বললেন, এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সেসব দিনে একটি করে পেরেক খুলে ফেলো।
এরপর অনেক দিন চলে গেল। একদিন রাতুল তার বাবাকে জানাল যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে পেরেছে। বাবা বললেন, তোমাকে ধন্যবাদ যে তুমি খুব ভালোভাবে তোমার কাজ করতে পেরেছ। এটা খুবই ভালো যে এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারো।
এরপর বাবা রাতুলকে নিয়ে বাগানে গেলেন। কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললেন, কিন্তু দেখো, কাঠে প্রতিটি পেরেকের দাগ এখনও রয়ে গেছে। কাঠের বেড়াটি যতদিন থাকবে দাগগুলোও ততদিন থাকবে। যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো তখন তার মনে ঠিক এমন একটা দাগ পড়ে যায়, যা তার মন থেকে আর কোনো দিন মুছে যায় না। তাই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখো।
রাতুল বলল, তোমাকেও ধন্যবাদ বাবা এমন সুন্দর করে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এখন থেকে আমি আর কোনো দিনও রেগে গিয়ে কাউকে কষ্ট দেব না। [প্রচলিত কাহিনি অবলম্বনে]




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]