ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ ৫ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯

বাবা তোমাকে ভালোবাসি
রুহুল আমিন রাকিব
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমার শৈশব অন্য আট-দশটা ছেলের মতোই ছিল। আমাদের সংসারে তখন সবসময় অভাব লেগে
থাকত। বাবা সারা দিন অন্যের জমিতে কাজ করতেন। আবার সপ্তাহে দুই-তিন দিন বাজারে চাল বিক্রি করতে যেতেন।
যেদিন বাবা বাজারে চাল নিয়ে যেতেন সেদিন আমিও বাবার পিছু পিছু যেতাম। বাইসাইকেলে করে চালের বস্তা বাজারে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হতো তার। আমাদের গ্রামের রাস্তা তখন কাঁচা ছিল। তাই আমি বাবার পিছু পিছু যেতাম আর ঠেলা দিতাম সাইকেলে।
বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাল বিক্রি করে যখন দোকান গোছানো শেষ হতো তখন বাবা আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন বাজারের সবচেয়ে বড় হোটেলে। আহ! পাঁচ টাকার ছোলা বুট আর বুন্দিয়া কিনে দিতেন আমাকে। বাবা আর আমি মজা করে খেতাম।
খাওয়া শেষ করে বাবা আমাকে সাইকেল পাহারা দিতে বলতেন। তিনি যেতেন বাজার করতে।
আমি মাঝে মাঝে বাবার কাঁচাবাজারে যাওয়ার দিকে লক্ষ করতাম। বাবা যেদিন মাছবাজারে যেতেন সেদিন আমার খুশি দেখে কে! তবে সবসময়ই মাছ কিনতেন না। যেদিন চাল বিক্রি করে একটু বেশি টাকা লাভ হতো সেদিন মাছ কিনতেন। বাজার করা শেষে যখন বাড়ির পথে রওনা করতাম তখন বাবা আমার ছোট্ট দুই ভাইয়ের জন্য পিঁয়াজু, নয়তো বুট-বাদাম কিনে নিতেন। আমিও বাবার কাছে দুটাকা চেয়ে নিয়ে বাদাম কিনে প্যান্টের পকেটে ভরে একটা একটা করে খেতে খেতে বাড়িতে আসতাম বাবার পিছু পিছু।
বাড়িতে এসে বাবা চাল বিক্রি করা টাকাগুলো আমার হাতে দিতেন। আমি বিছানার ওপর বসে সবগুলো টাকা গুনে দেখতাম।
আমার বাবা সবসময় ন্যায়ের পথে চলেন। আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম তখন আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করতেন। খেয়ে-না খেয়ে আমাদের খাওয়াতেন। যখন যা চাইতাম সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করতেন। ঈদ এলে বাবা-মা নতুন কাপড় কিনতেন না। তবে আমাদের তিন ভাইয়ের জন্য ঠিকই নতুন জামা-প্যান্ট কিনতেন।
দিনে দিনে আমরা তিন ভাই বড় হচ্ছি। এখন দুুভাই চাকরি করি। বাবাও এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। এখন আমরা তিন-চার মাস পর পর বাড়ি যাই। বাবা-মায়ের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনে নিয়ে যাই।
বাবা এসব দেখে খুব খুশি হন। বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে বাজারে যাই। বাজারের সবচেয়ে বড় মাছটা কিনে নিয়ে বাবার হাতে ধরিয়ে দিই। তখন আমার বাবা মায়াভরা একটা হাসি দেন! বাবার এমন হাসিমাখা মুখ দেখে আমার মনে পড়ে আমার শৈশবের কথা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]