ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯ ৬ আষাঢ় ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯

এইচএসসির পর কোথায়, কেন পড়ব?
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

এ বছর থেকেই সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ায় ভোগান্তি কমে আসবে। এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যাদের ফলাফল আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। সে হিসেবে ভর্তি মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে অনেকেই পরীক্ষা পরবর্তী ঘুমেরও সুযোগ পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি একটি কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে তিন লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থী এখন ঢাকায় এসে পড়েছে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও বুয়েট-ঢাবির শিক্ষার্থীদের কাছে প্রস্তুতির সহায়তা নিচ্ছে অনেকেই। কোন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেবে, ভর্তি হবে এসব নিয়ে দ্বিধায় থাকে ভর্তি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত। এইচএসসির পর কোথায়, কেন পড়বেÑএসব নিয়ে শিক্ষার আলোর আজকের মূল আয়োজন

এইচএসসির পর কী পড়বে, কোথায় পড়বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ নয় বর্তমানে। দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫০টির বেশি বিষয় রয়েছে। কেবল কম্পিউটারবিজ্ঞানÑ সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে কমপক্ষে ১০টি। কম্পিউটার বিজ্ঞান, কম্পিউটার কৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ও কমিউনিকেশন, কম্পিউটার ও ইলেকট্রিক্যাল, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। এগুলোর সূ² পার্থক্যই অনেকের কাছে বোধগম্য নয়। কাজেই ইলেকট্রিক্যাল না কম্পিউটার, সিভিল না মেকানিক্যাল, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি না কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সব নিয়ে দ্বিধায় থাকে ভর্তি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত।
তার ওপর আছে কোথায় পড়বে? ঢাবির সিএসইতে পড়বে নাকি বুয়েটে ইইই, বিইউপির বিবিএ নাকি কুয়েটে সিএসই, নর্থ সাউথে ইকোনমিকস নাকি রুয়েটে একটা কিছু? শাহজালালে স্থাপত্য নাকি চুয়েটে? বুয়েটে কেমিক্যাল নাকি বুটেক্সে টেক্সটাইল কেমিক্যাল? হোম ইকোনমিকস কলেজের রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সঙ্গে ড্যাফোডিলের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপেরই-বা পার্থক্য কী?
এক সময় মেডিকেল অবশ্য কলেজ পছন্দটা কঠিন ছিল না। কারণ, হাতে গোনা কয়েকটা মেডিকেলের মধ্যে ঢাকারটা সবাই আগে পছন্দের তালিকায় রাখতো।  এখন মেডিকেল কলেজের সংখ্যাও শতাধিক।
ব্যবসায় শিক্ষায় ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টিংয়ে এই চার বিষয়ের যেকোনো একটিতে অনার্স। আর চার বিষয়ের অনার্সের বাজার কমবেশি একই রকম। এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষায় রয়েছে নানা বিষয়ে পড়ার সুযোহ।
কলা বিভাগের অনার্সের মধ্যে ইংরেজি বরাবরের মতো এগিয়ে। এরপর অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন এবং অন্যান্য বিভাগ। মানবিক পড়ুয়াদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইংরেজি, জেন্ডার স্টাডিজ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চাহিদা বেশি। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ইংরেজিতে পড়তে পারো। অন্য বিভাগগুলো সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। খোঁজ নিতে হবে এবং সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন ঢাকা, জগন্নাথসহ বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একবারই ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ।
প্রথমে শুরু করা যাক বিষয় ভাবনা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়েই শুরু করি। আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ মেডিকেল বা প্রকৌশল। সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেলের বেলায় কলেজটি কোথায় সেটিও ভাবনার মধ্যে নিতে হবে। তুমি যদি সামনের সারির সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগ না পাও, তাহলে এই বিষয়টাকে সবচেয়ে বেশি নম্বর দাও। আমাদের দেশে এখন অনেক মানসম্মত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে। কাজে যদি আর্থিক সামর্থ্যরে ব্যাপারটা জরুরি না হয়, তাহলে তোমার বাড়ি থেকে দূরবর্তী সরকারি কলেজের চেয়ে বাড়ির কাছের সামনের সারির মেডিকেল কলেজকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো।
হবু প্রকৌশলীদের জন্য এখন মধুর সমস্যা। বুয়েট ছাড়াও আরও চারটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এ ছাড়া প্রায় বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি আছে। ফলে এখন অনেক পছন্দ। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ কমবেশি একই রকম। তবে একটা খোঁজ জরুরিভাবে নিতে হবে। সেটি হলো নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়-বিষয়ের অ্যাক্রিডেশন। এটি খুবই জরুরি। প্রকৌশল হলে ওই বিভাগের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) অ্যাক্রিডিশন আছে কিনা। এটি থাকলে পাস করার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সহযোগী সদস্য (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) হতে পারবে এবং এর দুই বছর পর তুমি মেম্বার হতে পারবে। তুমি যখন কেবল মেম্বার হবে, তখনই তুমি কেবল একজন প্র্যাকটিসিং প্রকৌশলী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে একটি প্রকৌশল দলিলে স্বাক্ষর করতে পারবে। স্থাপত্যের বেলায় এই অ্যাক্রিডিশন দেয় ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ (আইএবি)। জানামতে, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের এই স্বীকৃতি এখনও হয়নি। ফার্মেসি নিয়ে যারা পড়বে, তাদেরও কিন্তু এই বিষয়ের খোঁজ নিতে হবে। কেবল ফার্মেসি কাউন্সিলের অধিভুক্ত হলেই তুমি প্রফেশনাল ধাপগুলো সময়মতো পার হতে পারবে।
ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং-ফার্মেসির বাইরেও বিজ্ঞানের পড়ার বিষয় অনেক। এখন এগিয়ে আছে জেনেটিক বিদ্যা ও মলিকিউলার সায়েন্স। অনেক পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পড়া যায়। তবে এগুলোর আসনসংখ্যা খুবই সীমিত।  দেশের কর্মবাজারের কথা যদি ভাবো, তাহলে তোমার জন্য খুব ভালো চয়েস হলো টেক্সটাইল, লেদার ও সিরামিকস নিয়ে পড়াশোনা করা। তৈরি পোশাকশিল্প আমাদের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত এবং আগামী ১০ বছর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে তাই থাকবে। কিন্তু চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে সে সবে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা এখনকার চেয়ে অনেক গুণ বেশি বেড়ে যাবে। ফলে, তোমার কাজ দেখানোর সুযোগও বাড়বে। চামড়াজাত শিল্পের বাজার এখন আরও বাড়ছে। সে সঙ্গে আমাদের দেশেও নিজেদের ব্র্যান্ডের অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আনাগোনা আরও বাড়বে। পাস করার পর ইচ্ছে করলে নিজেও একটা কিছু করা সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশে অনেক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় এখন চালু আছে। এগুলো ভালো চয়েস হতে পারে। ুর্রেীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে মেডিকেল কলেজগুলোর মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সঙ্গে, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় একসঙ্গে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সুপারিশ ছিল।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]