ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.০৬.২০১৯ ১:৩৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না

হারাম উপার্জনকারীর দোয়া কবুল হয় না

আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে যেসব নিয়ামত দিয়েছেন সেগুলোর ভেতর কিছু বিষয় মানুষের জন্য হালাল আর কিছু বিষয় মানুষের জন্য হারাম করেছেন। হালাল উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ খুশি হন। পক্ষান্তরে হারাম জিনিস উপার্জন করলে কিংবা হালাল জিনিস অবৈধ উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ নারাজ হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে আল্লাহ ইবাদত ও দোয়া কবুল করেন না। অনেকে নামাজ রোজা হজ করছেন, আল্লাহর নিকট দোয়া করছেন কিন্তু জীবনে কোনো বরকত নেই। অশান্তি লেগেই আছে। দোয়া কবুল হয় না। এর কারণ উদ্ঘাটন করা ও সে অনুযায়ী নিজেকে সংশোধন করা মুমিনের কর্তব্য।ইবাদত ও দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হালাল উপার্জন। অনেক নবী-রাসুল অর্থ সম্পদ উপার্জন করেছেন। ব্যবসা করেছেন, কৃষি কাজ করেছেন, তপ্ত মরুভ‚মিতে মেষ চরিয়েছেন, লৌহসামগ্রী নির্মাণ করেছেন। কর্ম ছিল তাদের জীবিকার উৎস। তারা হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে পৃথিবীবাসীকে শিখিয়েছেন।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রæ।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। পবিত্র খাদ্যবস্তু মানে হালাল খাবার। সৎভাবে উপার্জিত অর্থের কেনা খাবার।
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ তোমাদের আমি যেসব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমা : ১০)। নামাজের পরই আল্লাহ তায়ালা হালাল জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের দান-সদকাও কবুল হয় না। হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ-সম্পদের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)
দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম পথের উপার্জন জাহান্নামে যাওয়ার পথকে সহজ করে দেবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে, যদিও সে সদকা করে তা কবুল হবে না। আর যদি ব্যয় করে তবে তাতে ও কোনো বরকত হবে না। আর যদি রেখে মারা যায় তা জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দ (কাজ) দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন না, হ্যাঁ ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন, নিঃসন্দেহে নাপাকিকে নাপাকি দুরীভ‚ত করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৬৭২)। হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে ডেকে ডেকে দোয়া করেÑ হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করো। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়-চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত)। তাই উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]