ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

‘আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না’
মেহেদী হাসান সাকিফ
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের ইচ্ছা পূরণ না হলে বা কাজের আশানুরূপ ফল না পেলে যে মানসিক অবসাদের সৃষ্টি হয়, তাই হলো হতাশা। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জীবনেই মাঝেমধ্যে হতাশার কালো অন্ধকার আচ্ছন্ন করে। তবে আল্লাহ মানুষকে হতাশ হতে নিষেধ করেন। তার দয়া ও অনুগ্রহ দ্বারা বান্দাকে আগলে রাখেন তিনি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার : আয়াত ৫৩)
ইসলামের মর্মবাণী মনের ভেতর জাগ্রত করতে পারলে আমাদেরকে হতাশা আচ্ছন্ন করতে পারবে না। মানুষের দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। আখিরাতের তুলনায় পৃথিবীর জীবনটা খুবই সামান্য। হাদিসে এসেছে, হজরত মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বলতে শুনেছিÑ ‘আল্লাহর কসম! পরকালের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হলো যেমন তোমাদের কেউ সাগরের মধ্যে নিজের একটি আঙুল ডুবানোর পর লক্ষ করে দেখবে আঙুল কি পরিমাণ পানি নিয়ে আসল।’ (মেশকাত : ৫১৫৬)। এই হাদিসে বোঝানো হয়েছে, আঙুলের পানি যেন ইহকালের জীবন আর সমুদ্রের পানি হলো পরকালীন জীবন।
আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘মহান আল্লাহর নিকট পৃথিবী নিতান্তই তুচ্ছ। তার প্রমাণ হলো, ঈমানদার মানুষ আল্লাহ কাছে অত্যন্ত প্রিয় হওয়া সত্তে¡ও তিনি তাকে অভুক্ত রাখেন। আর কুকুর নীচু প্রকৃতির প্রাণী হওয়া সত্তে¡ও
তৃপ্তি সহকারে তার খাবারের ব্যবস্থা করেন। এই দুনিয়ায় কাফের লোক খাবার খায়, পানীয় পান করে, সুন্দর পোশাক পরে, ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে। আর ঈমানদার লোক খাবারের অভাব, কাপড়ের অভাব নিয়েই জীবনযাপন করে।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)
একবার এক লোক ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর সাক্ষাতে এসে বলল, ‘আমাকে কিছু নসিহত করুন।’ তিনি বললেনÑ
১. যদি তুমি বিশ্বাস কর যে, আল্লাহই তোমার রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাহলে রিজিকের জন্য এত দুশ্চিন্তা কীসের?
২. যদি দুনিয়া নশ্বরই হয়ে থাকে, তাহলে এখানে আত্মতৃপ্ত কেন?
৩. যদি হিসাব-নিকাশ সত্যই হয়ে থাকে, তাহলে সম্পদ সঞ্চয়ের এত প্রবণতা কেন?
৪. যদি সব কিছু আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পূর্ব-নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে এত ভয় আর শঙ্কা কেন?
৫. যদি মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন-উত্তর সত্যই হয়, তাহলে এত ভাব কেন?
তারপর লোকটি ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর কাছ থেকে বের হয়ে গেল এবং মনে মনে শপথ করল, সে সবসময় আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে।
(আল-মাদখাল : ৩/৩৫৭)
সুখে থাকার জন্য এর চেয়ে উত্তম কথা আর কী হতে পারে? এই পাঁচটি কথা যদি আমরা সবসময় স্মরণে রাখতে পারি, তাহলে ভেবে দেখুন কতটা ঝুট ঝামেলা মুক্ত হবে জীবন! কতটা প্রশান্তি বিরাজ করবে অন্তরে!
জীবনের হতাশারোধে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহে অনেক আমল বর্ণিত হয়ে হয়েছে। এখানে কয়েকটি আমল সম্পর্কে আলোকপাত করা হচ্ছেÑ
নামাজ আদায় : নামাজ হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য লাভের সর্বপ্রথম ও প্রধান কার্যকরী মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য
প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই রয়েছেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত-৪৫)। হাদিসে এসেছে,
‘রাসুল (সা.) যখন কোনো সমস্যায় পড়তেন বা চিন্তাগ্রস্ত হতেন তখনই তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৫/৩৮৮)
আল্লাহকে ভয় করা : দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের লাভের জন্য আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের জীবনের যাবতীয় সংকট নিরসন করে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে কেউ তাকওয়া অবলম্বন করবে আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেবেন এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিজিক দান করবেন।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)
তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস : তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস যত বাড়বে আমাদের জীবন তত বিশুদ্ধ হবে। হতাশা তত কমবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেনÑ ‘জেনে রেখ! সব মানুষ ও যদি তোমাকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা ততটুকু করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য পূর্বেই লিখে রেখেছেন।’ (তিরমিজি)
আল্লাহর ওপর ভরসা করা : হজরত ওমর (রা.)-এর রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে তবে আল্লাহ তায়ালা পাখির ন্যায় রিজিক দান করতেন। পাখি সকাল বেলায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় উদরপূর্তি করে ফিরে আসে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১/৩০; তিরমিজি : ২৩৪৪, ইবনে মাজা : ৪১৬৪)
বেশি বেশি ইস্তেগফার করা : আল্লাহর নিকট বেশি বেশি ইস্তেগফার করলে আল্লাহ আমাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে দেবেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক সবসময় গুনাহ থেকে মাফ চাইতে থাকে (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে) আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ সুতরাং হতাশাবোধকে প্রশ্রয় নয়। আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ভরসা রাখা ও আশাবাদী মনোভাব অন্তরে জাগ্রত রাখা। আল্লাহই উত্তম তাওফিকদাতা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]