ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

নম্রতা সম্মান বৃদ্ধি করে
মুফতি কাজী সিকান্দার
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে রাসুলকে (সা.) লক্ষ করে বলেনÑ ‘যেসব মুমিন তোমার অনুসরণ করে তাদের প্রতি বিনয়ী হও।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৫)। এ আয়াতে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা রাসুলকে (সা.) মুমিনের প্রতি বিনয়ী হওয়ার জন্য বলেছেন। অথচ রাসুল (সা.) মুমিনের প্রতি কেমন বিনয়ী বা নম্র ছিলেন তা কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে বর্ণিত ও বিদ্যমান রয়েছে। তবুও আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছেÑ ‘মুমিনের প্রতি বিনয়ী হও।’ আসলে আল্লাহ তায়ালা রাসুলকে (সা.) সম্বোধন করলেও এখানে মূল সম্বোধন মুমিনদের প্রতি। আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন, বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করার জন্য। পবিত্র কোরআনে আরও এরশাদ হয়েছেÑ ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যায়, তাহলে আল্লাহ আরও অনেক লোক সৃষ্টি করবেন, যারা হবে আল্লাহর প্রিয় এবং আল্লাহ হবেন তাদের প্রিয়, যারা মুমিনদের প্রতি নম্র ও বিনয়ী হবে এবং কাফেরদের প্রতি হবে অত্যন্ত কঠোর।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৫৪)
বিনয় ও নম্রতার কারণে মানুষের স্বভাব থেকে গর্ব-অহঙ্কার চলে যায়। একে অপরের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করার মতো বদ চরিত্র দূর হয়ে যায়। আর এ গুণগুলো চলে যাওয়ার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে ভালোবাসবেন। এ জন্য ওই সব মুমিন আল্লাহর প্রিয় হবেন। হাদিসে এসেছে, হজরত ইয়াদ ইবনে হিমার (রা.) বর্ণনা করেন, বিনয় ও নম্রতা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ আমার নিকট অহি পাঠিয়েছেন। তোমরা পরস্পরের সঙ্গে বিনয় নম্রতার আচরণ কর। যাতে কেউ কারও ওপর অহঙ্কার ও গৌরব না করে এবং একজন আরেক জনের ওপর বাড়াবাড়ি না কর।’ (মুসলিম)
বর্তমান পৃথিবীতে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হিসেবে বলা যায় অহঙ্কার, একে অপরের ওপর গর্ব ও বড়াই করা এবং বাড়াবাড়ি প্রদর্শন করা। এসব রোগ আজ সমাজে এক মহাব্যাধির আকার ধারণ করেছে। এ থেকে ডালপালা বিস্তৃত হয়ে সমাজে বিভিন্ন অপকর্ম সৃষ্টি হচ্ছে। আর সে অপকর্ম বন্ধের মহা একটি ওষুধ আল্লাহর রাসুল (সা.) চৌদ্দশত বছর পূর্বে দিয়ে গেছেন যে, তোমরা বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন কর। তাহলে এসব বাড়াবাড়ি তোমাদের মধ্য থেকে চলে যাবে। আর এসব স্বভাব চলে গেলে সমাজে, বন্ধুদের মাঝে ও সর্বত্র বৃদ্ধি পাবে ওই ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা। আমরা মূলত অহঙ্কার এ জন্যই করে থাকি যে অন্যের কাছে আমার মর্যাদা যেন বাড়ে। আমরা দিন-রাত, কথায়, চাল-চলনে, হাটে-ঘাটে, বাজারে সর্বত্র একটু সম্মান বৃদ্ধি করার নিমিত্তে অজস্র বাড়াবাড়ি করে বেড়াই। আসলে তাতে কি আমাদের মর্যাদা বা সম্মান বৃদ্ধি পায়? না প্রকৃতপক্ষে আমাদের সম্মান পদদলিত হয়।
মানুষের স্বভাবেই আছে যে, নিজের সম্মান যেন দিন দিন বৃদ্ধি পায়। এখন কীভাবে বা কি করলে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি পাবে? আল্লাহর রাসুল (সা.) মানুষের সম্মান বৃদ্ধির একটি মহান কাজ দিয়ে দিয়েছেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দানের কারণে সম্পদ কমে না। ক্ষমার দ্বারা আল্লাহর বান্দার ইজ্জত ও সম্মান বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছু করেন না। আর যে একমাত্র আল্লাহরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা
বাড়িয়ে দেন।’ হাদিসটি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এবং মুসলিম শরিফে তা উল্লেখ আছে।
সম্মান ও মর্যাদা নিহিত বিনয় ও নম্রতায় অপরদিকে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা নিহিত অহঙ্কারে। তবে আমরা সম্মান চাই অপদস্থতা চাই না। তাই আমাদেরকে অবশ্যই বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিফলে প্রত্যেক স্তরে আল্লহ স্বয়ং আমাদের মর্যাদা ও সম্মান বাড়িয়ে দেবেন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মারকাযুদ দ্বীন আল-ইসলামী, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]