ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর ত্রিদেশীয় সফর এবং চলতি বাজেট
খোকন সাহা
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 44

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ইতিবাচক প্রেক্ষাপট বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে চলার পথে রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশের অপরিহার্যতা একটি জরুরি বিষয়। বিগত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সেই অপরিহার্যতাকে নিশ্চিত করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এ সরকারের মূল চালিকা শক্তি হলেন দেশরতœ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি জাপান, সৌদি আরব, ফিনল্যান্ডকে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বাণিজ্যের অংশীদার রূপে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ত্রি-দেশীয় সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এই সফল ত্রি-দেশীয় সফর শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সফরের প্রথমে জাপানে ২৮-৩১ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ফিউচার এশিয়া শীর্ষক ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি সেখানে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করেন। ৩১ মে মক্কায় ওআইসির ইসলামিক সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনের আয়োজন করেছে সৌদি আরব।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ১৪তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে মক্কা নগরীতে ‘মক্কা সামিট : টুগেদার ফর দ্য ফিউচার’ শীর্ষক ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি পৌঁছেন। সেখানে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে দেশে ফিরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী তার এই সফর শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের কাছে জানান, সফর ফলপ্রসূ হয়েছে।
দেশের মানুষ এবার ঈদ-পূর্ব এবং ঈদ-উত্তর সময়টা ভালো কাটিয়েছে বলে ধারণা করি। কারণ একদিকে ঈদের টানা ছুটি, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মহাআয়োজন, যানজট মুক্তভাবে ঢাকা থেকে মানুষের সারা দেশে গমনাগমনে ছিটেফোঁটা ঝামেলা ছাড়া ঈদ উদযাপন সেরে কর্মস্থলে ফেরা ছিল স্বস্তিদায়ক। তবে এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো ঘটনা ছিলÑ চট্টগ্রামমুখী তিনটি সেতুর দ্বার উন্মোচন। শীতলক্ষ্যা, মেঘনা ও গোমতী নদীর তিনটি সেতু ঈদের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করে এক মহান দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। যার প্রেক্ষিতে এই পথে যাতায়াতকারী মানুষ স্বস্তি উপভোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সেতু উদ্বোধনের সময় বলেছিলেন যেÑ এটা তার সরকারের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার। সত্যিকার অর্থেই এবারে এই উপহার সাধারণের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কারণ এই সেতুগুলো এবং উত্তর জনপদের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া চারলেনের সড়ক, উড়ালসড়ক এবং আন্ডারপাসের উদ্বোধন ঘরে ফেরা এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পর ফিরে আসার মুহূর্তকে আনন্দদায়ক করেছে।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়েও মানুষের মধ্যে উন্মাদনা কম নয়। ক্রিকেট ভক্তরা মনে করে যেÑ বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অনেক দূর যাবে। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে রাজসিক জয় আমাদের বিশ^কাপে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অনেক ভালো খবরের পর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ১৩ তারিখ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে বাজেট। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ৪৮তম বাজেট উপস্থাপন করেছেন। বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বড় ব্যয় পরিকল্পনা এটি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২ জুন তখনকার সময়ের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের দেশের প্রথম বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। এখন মানুষ বাড়ছে, অর্থনীতির আকার বাড়ছে। বাজেটের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর ও রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়বেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের দিকে জোর দিতে হবে। একইভাবে বাজেটে প্রতিবারই কিছু পণ্যের দাম কমবে বলে প্রস্তাবনায় ঘোষিত হয়। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র! এবারে এ দিকে কড়া নজর দিতে হবে। বাজেটে দাম কমানোর প্রস্তাবের পরেও যেন বাজারে কেউ কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয় সেদিকটি নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়ায় বছরব্যাপী অবশ্যম্ভাবী নিয়তি ও অভিন্ন দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় বাজেট ঘোষণার পর। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য নড়েচড়ে বসে ব্যবসায়ীরা। বাজেটে ব্যবসায়ীদের যেসব পণ্যের শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়, সেসব পণ্যের দাম অনেক সময়েই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে কমে না। বাজেট কার্যকরে গরিবের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জিনিসে যেন দাম না বাড়ানো হয়, এটা সর্বসাধারণের প্রত্যাশা। স্বাধীনতার পর দেশ অনেক এগিয়েছে, বর্তমান সরকারের সেই উন্নয়ন আকাশ ছুঁয়েছে। আমরা নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের গুণে। এবারের বাজেটকে জনকল্যাণমূলক হিসেবেই অর্থনীতিবিদরা বর্ণনা করছেন। সাধারণ দৃষ্টিতেও বাজেট জনকল্যাণমূলক বলেই দৃশ্যমান। এবারের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কামানোর প্রস্তাব হয়েছে, বাজারে যেন তার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য গরিব ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা জরুরি। মোটা কাপড়, মোটা চাল, ডাল, আটা, লবণ, চিনি, পেঁয়াজ, তেল প্রভৃতির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেই সর্বসাধারণ সন্তুষ্ট। গরিব মানুষ যাতে কম ভিজিটে ডাক্তার দেখাতে পারে, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ যাতে কম মূল্যে কিনতে পারে, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। সব মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ যেমন রাজনীতিতে প্রয়োজন, তেমনি সরকারের উন্নয়নের সফলতার রেশ ধরে দেশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাক, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। আর সমৃদ্ধির এই পথে আমাদের যাত্রা অব্যাহত থাকলেই দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

ষ আইনজীবী, সাধারণ সম্পাদক
    নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]