ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯ ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯

বৈঠকের আদব রক্ষা
শামসুদ্দীন সাদী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মিটিং, ঘরোয়া আয়োজন, ওয়াজ মাহফিল কিংবা জ্ঞানের মজলিসÑ প্রতিনিয়ত আমরা অংশগ্রহণ করি নানা বৈঠকে। সমাজ জীবনে এর প্রয়োজনও অনেক। বৈঠক মানেই অনেক মানুষের জমায়েত, ছোট-বড় নবীন-প্রবীণের আসর। কোথাও থাকে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তাই বৈঠকের সৌন্দর্য ও ভদ্রতা বজায় রাখার জন্য কিছু আদবলেহাজ মেনে চলা প্রয়োজন।
নিচে বৈঠকের কিছু আদবকেতা তুলে ধরা হলোÑ
সালাম দিয়ে বৈঠকে যোগ দেওয়া
পূর্ব থেকে চলমান বৈঠকে কেউ যোগ দিতে চাইলে তিনি সালাম দিয়ে প্রবেশ করবেন। অবশ্য বৈঠকে যদি এমন আলোচনা চলতে থাকে যে, সালাম দিলে আলোচনায় বিঘœ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন সালাম না দিয়ে নীরবে বৈঠকে যোগ দেবে। নতুবা সালাম দিয়ে প্রবেশ করবে।
অনুমতি নিয়ে বসা
বৈঠক বিভিন্ন ধরনের হয়। কোনো বৈঠক থাকে সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনো বৈঠক থাকে সংরক্ষিত। যে বৈঠকে বসার স্বাভাবিক অনুমতি থাকে না, সেখানে বিনা অনুমতিতে অবস্থান করা অবৈধ। প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করবে। নতুবা বিরত থাকবে।
বৈঠকে কীভাবে বসবে
বৈঠকে হাজির হওয়ার পরে যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানে বসে যাবে। অন্যদের ডিঙিয়ে সবাইকে ঠেলে সামনে গিয়ে বসা দৃষ্টিকটু কাজ। এটা উচিত নয়। তবে কাউকে যদি লোকজন স্বেচ্ছায় সামনে যাওয়ার জন্য জায়গা করে দেয় তাতে অসুবিধা নেই। লোকজন কম হলে গোলাকার হয়ে বসবে। সবাই কাছাকাছি হয়ে দুজনের মাঝখানে ফাঁকা না রেখে বসবে। খুব চাপাচাপি করেও বসবে না। এতে কিছুক্ষণ পরে অস্বস্তিবোধ হয় এবং বিরক্তিভাব আসে। কাউকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে বসবে না। নবীজি (সা.) এমন করতে নিষেধ করেছেন। বৈঠকে কেউ আগমন করলে অন্যরা সামান্য নড়েচড়ে বসবে এবং আগত ব্যক্তিকে বসার জন্য জায়গা করে দেবে। এর দ্বারা তাকে সম্মান জানানো হয়। কেউ কোনো প্রয়োজনে বের হলে অন্য কেউ সেখানে না বসাই ভালো। যেন সে ফিরে এসে আবার সেখানে বসতে পারে। তবে একেবারে চলে গেলে অন্যরা বসতে পারে।
বৈঠকে বসে  যা করব যা করব না
মজলিসে বসে অযথা ডানে-বামে না তাকানো। বক্তার আলোচনা শোনা বাদ দিয়ে নিজেরা পরস্পরে কথাবার্তা না বলা। এতে আলোচকের চিন্তা বিক্ষিপ্ত হয় এবং কথার গতি নষ্ট হয়। বৈঠকে চোখ-নাক খোটা খুবই বিশ্রী কাজ। এগুলো অভদ্রতা ও অরুচিকর। তাই কোনো মজলিসে চোখ-কান-নাকের ময়লা বের না করা। হাত সংযত রাখা। খোটাখুটি না করা।
হৈ-হল্লা না করা
মজলিস বা বৈঠকের একটি বড় আদব হলো কোনো ধরনের হৈ-হল্লা না করা। হৈ-হল্লা ও হট্টগোল মজলিসের সৌন্দর্য নষ্ট করে। বক্তার আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির বেশি হয়। বিশেষ করে যে বৈঠকে কোরআন ও হাদিসের আলোচনা হয়, সেখানে একান্ত নীরবতা পালন করা জরুরি। হৈ-হল্লা করলে কোরআন ও হাদিসের অসম্মান করা হয়। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
বৈঠক শেষে দোয়া করা
দোয়া পড়ার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ করা। চাইলে সবাই মিলে হাত তুলে সম্মিলিত দোয়া করা যায়। অথবা প্রত্যেকে নিজের মতো করে হাত তোলা ছাড়াই নিন্মোক্ত দোয়া পড়ে নেবে।
দোয়া : ‘সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আত‚বু ইলাইকা’।
অর্থ : ‘মহা পবিত্র তুমি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)’
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বৈঠক ভঙ্গের পূর্বে এই দোয়া পাঠ করলে বৈঠক চলাকালীন তার ভালো কথাগুলো তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত মোহরাংকিত থাকবে এবং অযথা বাক্যসমূহের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং এই দোয়া উক্ত গুনাহ সমূহের কাফফারা হবে’। (তিরমিজি; মিশকাত : হাদিস ২৪৩৩)
লেখক : শিক্ষক, জামিয়া ইসলামিয়া আম্বরশাহ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]