ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯ ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯

মৌসুমি ফল আল্লাহর অপূর্ব নেয়ামত
আরিফ খান সাদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.০৬.২০১৯ ১:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 110

মৌসুমি ফল আল্লাহর অপূর্ব নেয়ামত

মৌসুমি ফল আল্লাহর অপূর্ব নেয়ামত


আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি মৌসুমি ফলে এখন বাজার ঠাসা। এসব ফল আল্লাহ তায়ালার অনন্য নেয়ামত। আল্লাহর ইচ্ছায় প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন এসব ফলমূলে পরিমিত পরিমাণ পানি বিদ্যমান থাকায় যেকোনো সময় খাবার উপযোগী এসব ফল। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে ‘আমি ভুমিকে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টিবর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ক শস্যরাজি উদ্গত করি, যেগুলোর ফল ও ফসল আহরণ করা হয়।’ (সুরা কাফ : ৭-৯)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য বৃষ্টির দ্বারা উৎপাদন করেন ফসল, জয়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সর্বপ্রকার ফলমূল। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল : ১১)

ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ সুজলা-সুফলা প্রিয় বাংলাদেশে সারা বছরই কোনো না কোনো ফলের সমারোহ থাকে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে নানা প্রজাতির রসালো ফলের সুবাস বিরাজ করে চারপাশে। বাজারে ফলের দোকানে, রাস্তার ধারে থরে থরে সাজানো আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, কালোজাম, বাঙ্গিসহ নানা রকম রসালো ফল দেখা যায়। মিষ্টি ফলের লোভনীয় গন্ধ মৌ মৌ করে বাতাস। ফল-রসে রসনা তৃপ্তির অপূর্ব আনন্দময় মাস। এ সময়ের প্রধান ফল আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু। ফলের রাজা আম। আম গাছ আমাদের জাতীয় গাছও।

গ্রীষ্মে আল্লাহর আরেক নেয়ামত কাঁঠাল। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকারের মজার ফল এটি। কাঁঠাল শুধু জাতীয় ফল নয়, গরিবের ফল নামেও পরিচিত। এর বিচি (দানা) বাদামের মতো ভেজে, সিদ্ধ করে সবজির সঙ্গে রান্না করে ও ভর্তা বানিয়েও খাওয়া হয়। কাঁঠালের ছাল-মজি গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মোট কথা, কাঁঠালের কোনো অংশই অযথা ফেলে দিতে হয় না। এ জন্যই বুঝি কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফলের মর্যাদা লাভ করেছে!

জামের কথা আসলেই মনে পড়ে পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের কবিতা ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।’ জাম খেয়ে মুখ রঙিন করা অন্যরকম আনন্দের বিষয়। গ্রীষ্মের আরেক রসনাবিলাস লিচু। লিচু অবশ্য খুব কম সময়ের জন্য আসে। এক মাস লিচু উৎপন্ন করে বৃক্ষগুলো পরবর্তী বছরের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। লিচুর বিভিন্ন প্রজাতি থাকলেও দিনাজপুরের মাছুমপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। অন্যদিকে মাদ্রাজি ও বোম্বাই লিচু প্রায় সারা দেশে পাওয়া যায়। সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে আরেক প্রজাতির লিচু আমাদের দেশে আগমন করেছে। যা রাম্বুটান নামে পরিচিত।

ফলমূলের এ মৌসুমে প্রত্যেকেই চায় ফল খেতে। তবে সাবধান থাকতে হয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে। তারা আল্লাহর এসব নিয়ামত ফলফলাদির ভেতরে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দেয় দ্রুত পাকানো ও চমক বাড়ানোর জন্য। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা এমন অন্যায় করছে, তাদেরকে সাবধান করতে হবে। সাবধান না হলে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সহযোগিতা করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।

সারা বছরই যেন ফলফলাদির নেয়ামত লাভ করা সহজ হয়, এ জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগানো যেতে পারে। আমরা যেসব ফল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি সেগুলোর দানা সে মুহূর্তে সংরক্ষণ করে উপযুক্ত স্থানে পুতে রাখলে সেখানেও জেগে উঠবে নতুন ফলের সম্ভার। এটা শুধু আমাদের পার্থিব জীবনেই সুফল দান করবে না, পরকালেও রয়েছে এর জন্য উত্তম প্রতিদান। হাদিসে এসছেÑ ‘যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষরোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ফলমূল আহার করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (বুখারি: ২৩২০; মুসলিম : ১৫৬৩)

আল্লাহর কুদরতিভাবে উৎপন্য মৌসুমি এসব ফলের উপকার বলে শেষ করা যাবে না। যেমনটি পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে শুরু কর, তবে তা শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা নাহল : ১৮)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, মানুষের শরীরে রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মৌসুমি ফল-ফলাদির চেয়ে অধিক কার্যকরী ভিন্ন কোনো ওষুধ নেই। মৌসুমি এসব ফলমূল খেয়ে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য প্রকাশ করার পাশাপশি নিঃস্ব, অসহায়, দরিদ্রপীড়িত লোক যারা এগুলো কিনে খেতে সক্ষম নয়, তাদের দান করাও অনেক বড় সওয়াবের কাজ। তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ইহকালীন জীবনের চেয়ে পরকালীন জীবন আরও সুখময় ও নেয়ামত দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]